২০২৪ সালের এইচএসসি পরীক্ষায় ফেনীতে ৬১ দশমিক ৬৫ শতাংশ ও আলিমে ৮৯ দশমিক ২৫ শতাংশ শিক্ষার্থী পাস করেছে। জেলায় ৪২টি কলেজের ১০ হাজার ৯৩৫ জন অংশ নিয়ে পাস করেছে ৬ হাজার ৭৪১ জন। ফেল করেছে ৪ হাজার ১৯৪ জন। জিপিএ-৫ পেয়েছে ৫৩৯ জন শিক্ষার্থী। আলিমে ১ হাজার ৮৬৯ জন পরীক্ষার্থী অংশ নিয়ে পাস করেছে ১ হাজার ৬৬৮ জন। ফেল করেছে ২০১ জন। জিপিএ-৫ এর সংখ্যা ১৬০ জন।
মঙ্গলবার (১৫ অক্টোবর) ফলাফল ঘোষণার পর জেলাপ্রশাসক কার্যালয়ের শিক্ষা শাখা এ তথ্য নিশ্চিত করেছে।
এইচএসসি পরীক্ষার ফলাফলে ফেনী জেলায় এবারও সেরা স্থান দখল করে নিয়েছে ফেনী গার্লস ক্যাডেট কলেজ ও ফেনী সরকারি কলেজ। ফলাফলে দেখা যায়, ফেনী গার্লস ক্যাডেট কলেজের সব পরীক্ষার্থীই জিপিএ-৫ পেয়ে উত্তীর্ণ হয়েছে। এ কলেজ থেকে ৫৫ জন পরীক্ষার্থী এইচএসসি ও সমমান পরীক্ষায় অংশ নিয়ে সবাই জিপিএ-৫ পেয়েছে। মঙ্গলবার (১৫ অক্টোবর) কলেজের অধ্যক্ষ গ্রুপ ক্যাপ্টেন মোহাম্মদ নাজমুল হক এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।
তিনি বলেন, ফেনী গার্লস ক্যাডেট কলেজ অন্যান্য বছরের মতো এবারও সাফল্যের ধারা অব্যাহত রেখেছে। সেনা সদস্যদের দিকনির্দেশনা, প্রশিক্ষিত শিক্ষকদের আন্তরিক পাঠদান, বর্ষপঞ্জি অনুযায়ী পরীক্ষা গ্রহণ, ফলাফল প্রদান এবং সুশৃঙ্খল পরিবেশ এ ফলাফল অর্জনে ভূমিকা রেখেছে। এজন্য পরীক্ষার্থী, শিক্ষক, অভিভাবক ও কলেজের প্রত্যেক সদস্যকে অভিবাদন জানাই।
এদিকে ফেনী সরকারি কলেজ শিক্ষক সমিতির সাধারণ সম্পাদক ফরিদ আলম ভূঁইয়া জানান, ফেনী সরকারি কলেজ থেকে ১ হাজার ৪০২ জন শিক্ষার্থী অংশ নিয়ে ১ হাজার ২৩৭ জন শিক্ষার্থী পাস করেছে। ৩১৯ জন শিক্ষার্থী জিপিএ-৫ অর্জন করেছে। কলেজে পাশের হার ছিল ৮৯ দশমিক ৫৭ ভাগ। জিপিএ-৫ প্রাপ্তদের মাঝে ব্যবসায় শিক্ষা বিভাগে ৪৮ জন, মানবিক বিভাগের ৪৩ জন ও বিজ্ঞান বিভাগের ২২৮ জন শিক্ষার্থী রয়েছে।
প্রাপ্ত তথ্য থেকে জানা যায়, জেলার এইচএসসিতে শতভাগ পাস করেছে ১টি প্রতিষ্ঠান এবং আলিমে শতভাগ পাস করেছে ৮টি প্রতিষ্ঠান। জেলায় সর্বোচ্চ পাসের হার ফেনী সদর উপজেলায়। পাসের হার ৬৯ দশমিক ৩৯ শতাংশ। সদরের ১৯টি কলেজ থেকে ৫ হাজার ৭২৬ জন অংশ নিয়ে পাস করেছে ৩ হাজার ৯৭৩ জন। জিপিএ-৫ পেয়েছে ৪৭১ জন। ২য় স্থানে রয়েছে দাগনভুঞা উপজেলা পাসের হার ৬৫ দশমিক ৪১ শতাংশ। এ উপজেলায় ৫ টি কলেজ থেকে ১ হাজার ৪৩১ জন শিক্ষার্থী অংশ নিয়ে পাস করেছে ৯৩৬ জন। জিপিএ-৫ পেয়েছে ২৭ জন।
৩য় স্থানে রয়েছে ছাগলনাইয়া উপজেলা পাসের হার ৬৪ দশমিক ৯৬ শতাংশ। এ উপজেলার ৬টি কলেজ থেকে ১ হাজার ১৩৩ জন শিক্ষার্থী অংশ নিয়ে পাস করেছে ৭৩৬ জন। জিপিএ -৫ পেয়েছে ২৯ জন। চতুর্থ স্থানে রয়েছে পরশুরাম উপজেলা। পাসের হার ৪৫ শতাংশ। উপজেলার ৩টি কলেজ থেকে ৬৮০ জন শিক্ষার্থী অংশ নিয়ে পাস করেছে ৩০৬ জন। জিপিএ-৫ পেয়েছে ৯ জন। ৫ম স্থানে রয়েছে ফুলগাজী উপজেলা। পাসের হার ৪১ দশমিক ৭১ শতাংশ। উপজেলার ৫টি কলেজ থেকে ৮২০ জন অংশ নিয়ে পাস করেছে ৩৪২ জন। এ উপজেলার কোনো শিক্ষার্থী জিপিএ -৫ পায়নি।
জেলায় সবশেষ অবস্থানে রয়েছে সোনাগাজী উপজেলা। পাসের হার ৩৯ দশমিক ১৩ শতাংশ। উপজেলার ৪টি কলেজ থেকে ১ হাজার ১৪৫ জন অংশ নিয়ে পাস করেছে ৪৪৮ জন। জিপিএ-৫ পেয়েছে ৩ জন।
এদিকে মাদ্রাসা শিক্ষা বোর্ডের অধীনে আলিম পরীক্ষায় ফেনী আল জামেয়াতুল ফালাহিয়া কামিল মাদ্রাসা থেকে ২৩৬ জন পাস করেছে। জিপিএ-৫ পেয়েছে ৬৪ জন।
