ঘুমানোর আগে ৩ কাজ বদলে দেবে জীবন 

আপডেট : ১৮ অক্টোবর ২০২৪, ০৯:৪৪ পিএম

অর্থনীতিবিদ ভিলফ্রেদো প্যারেতো গবেষণা করে দেখিয়েছেন আমাদের মোট কাজের শতকরা ৮০ ভাগ থেকে সফলতার মাত্র শতকরা ২০ ভাগ আসে। আর বাকি শতকরা ২০ ভাগ কাজ থেকে আসে বাকি শতকরা ৮০ ভাগ সাফল্য।

এই সূত্রটি একটি গুরুত্বপূর্ণ দিক স্পষ্ট করে দেয় তা হলো, আমাদের বেশিরভাগ সাফল্য নির্ধারিত হয় আমাদের ছোট ছোট কিন্তু সুনির্দিষ্ট কিছু পদক্ষেপের মাধ্যমে। এমনি কিছু ছোট ছোট গুরুত্বপূর্ণ কাজ ঘুমানোর আগে সম্পন্ন করার অভ্যাস গঠন করলে বদলে যাবে তোমার জীবন।

তিনটি প্রশ্ন : কোনো কিছুরই ক্রমাগত উন্নতি সম্ভব হয় না যদি না তার গুণগতমান যাচাই না করা হয়। এই যে সারা দিনের কঠোর পরিশ্রম তারও কিন্তু প্রয়োজন মূল্যায়নের। কোন কাজটি কীভাবে করা উচিত ছিল, কোন পদ্ধতিতে করার ফলে অপেক্ষাকৃত সহজে কাজটি সম্পন্ন করা সম্ভব হয়েছে প্রভৃতি ভেবে দেখা দরকার দিনের শেষে। একে বলে আত্মসমালোচনা। ঘুমের আগে নিজেকে তিনটি প্রশ্ন জিজ্ঞেস করার মাধ্যমে এই অতিগুরুত্বপূর্ণ বিষয়টি সেরে ফেলতে পারো সহজেই।

  • আগে কোন ঘটনা ঘটার জন্য আমি কৃতজ্ঞ?
  • আজকের কোন কাজটি আমাকে লক্ষ্যের দিকে এগিয়ে দিয়েছে?
  • কাজগুলোর মধ্যে কি কোনো পরিবর্তন আনা প্রয়োজন? যদি পরিবর্তন প্রয়োজনীয় হয়, তাহলে কী কী পরিবর্তন?

এই তিনটি প্রশ্নের অসাধারণত্ব এখানে যে, প্রশ্ন তিনটি খুব সুন্দরভাবে কৃতজ্ঞতাবোধ ও আত্মোন্নয়নকে উদ্বুদ্ধ করে।

পরের দিনের পরিকল্পনা : ঘুমানোর আগে পরের দিনের পরিকল্পনা করে রাখলে এগিয়ে যাবে অনেকটাই। অধিকাংশ কাজ সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন হয় না গোছানো পরিকল্পনার অভাবে। এ কারণে বলা হয় সুষ্ঠু পরিকল্পনা একটি কাজের অর্ধেক। তাই ঘুমানোর আগে পরের দিনের বড় তিনটি কাজের পরিকল্পনা করে রাখো।

বিচ্ছিন্নতা : তুমি কি কখনো ঘণ্টায় ১০০ কিলোমিটার গতিবেগের একটি গাড়িকে পার্ক করতে পারবে? যদি খেয়াল করে থাকো তাহলে দেখবে, পার্ক করার আগে গাড়িকে ধীরগতিতে আনতে হয়। এরপর আরও ধীরে ধীরে তাকে পার্কিং লটে আনা হয়। তারপর সতর্কতার সঙ্গে তাকে পার্ক করা হয়। সারা দিন আমরা নানা কাজে ব্যস্ত থাকি। এই ব্যস্ততার কারণে স্বাভাবিকভাবেই আমাদের ব্রেন থাকে উত্তেজিত। ফলে সহজে ঘুম আসে না।

ঘুম না এলে আমরা সাধারণত কী করি? স্মার্ট ফোন হাতে নিয়ে বিভিন্ন সামাজিক মাধ্যমের নিউজ ফিড স্ক্রল করি। এর ফলে আমাদের নার্ভ শিথিল তো হয়ই না বরং আরও উত্তেজিত হয়ে পড়ে। ফলাফল ইনসমোনিয়া। মেজাজ তিরিক্ষি হয়ে থাকে, পড়ালেখায় ও অন্যান্য কাজে মন বসে না। লক্ষ্য অর্জন হয়ে পড়ে অসম্ভব। এ থেকে বাঁচতে সন্ধ্যা ৭টার পর থেকে স্মার্ট ফোন, টেলিভিশন প্রভৃতি থেকে নিজেকে বিচ্ছিন্ন করে নিতে হবে। আত্মনিয়োগ করতে হবে পড়াশোনা ও গঠনমূলক কাজে। খাওয়া-দাওয়া শেষে কিছু সময় হাঁটার অভ্যাস রাখা ভালো। তারপর সময়মতো যেতে হবে বিছানায়।

এ পদ্ধতি মেনে চললে ঘুমের ব্যত্যয় হবে না। জীবনও হবে মসৃণ।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত