ফিলিস্তিনের স্বাধীনতাকামী সশস্ত্র সংগঠন হামাস জানিয়েছে, গাজায় যুদ্ধ শেষ না হওয়া পর্যন্ত গত বছরের ৭ অক্টোবর থেকে তাদের হাতে আটক থাকা আর কোনো জিম্মিকে মুক্তি দেওয়া হবে না। ইসরায়েলি হামলায় হামাসপ্রধান ইয়াহিয়া সিনওয়ার নিহত হওয়ার পর শোক জানানোর পাশাপাশি সংগঠনটির পক্ষ থেকে গত শুক্রবার এ ঘোষণা দেওয়া হয়েছে।
এদিকে লেবাননের সশস্ত্র গোষ্ঠী হিজবুল্লাহও সিনওয়ার হত্যার পর বলেছে, ইসরায়েলের বিরুদ্ধে যুদ্ধে নতুন এক অধ্যায় শুরু করছে তারা। সেই মতো গতকাল শনিবার ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর বাড়িতে ড্রোন হামলা চালিয়েছে সংগঠনটি। অবশ্য ওই হামলায় হতাহতের কোনো ঘটনা ঘটেনি বলে জানিয়েছে ইসরায়েলি প্রতিরক্ষা বাহিনী (আইডিএফ)।
আলজাজিরা বলছে, গত বছরের ৭ অক্টোবর ইসরায়েলের ইতিহাসে সবচেয়ে প্রাণঘাতী হামলা চালায় হামাস। হামলার মূল হোতা ধরা হয় ইয়াহিয়া সিনওয়ারকে। তাকে হত্যার পর চলমান যুদ্ধে মোড় বদলের আশা জেগেছিল। বিশেষত জিম্মিদের পরিবারের সদস্যদের স্বজনদের ফিরে পাওয়া এবং গাজাবাসীর আরও মানবিক সহায়তা পাওয়ার আশা তৈরি হয়েছিল। কিন্তু কাতারভিত্তিক হামাসের কর্মকর্তা খলিল আল-হায়া এক ভিডিও বার্তায় বলেন, গাজায় আমাদের মানুষদের ওপর ইসরায়েলি আগ্রাসন বন্ধ না হওয়া পর্যন্ত আর কোনো জিম্মিকে মুক্তি দেওয়া হবে না। এটাই হামাসের সর্বশেষ অবস্থান।
হামাসপ্রধান ইয়াহিয়া সিনওয়ার ইসরায়েলের ‘মোস্ট ওয়ান্টেড’ তালিকায় ছিলেন। গত বৃহস্পতিবার সিনওয়ারের নিহত হওয়ার খবর জানায় ইসরায়েল। পরে হামাসের পক্ষ থেকেও আনুষ্ঠানিকভাবে তা জানানো হয়। যুদ্ধে অনেকটা কোণঠাসা হওয়া হামাসের জন্য এই ঘটনাকে বড় একটি ধাক্কা বলা হচ্ছে।
সিনওয়ারকে হত্যার বিষয়ে ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু বলেছেন, সিনওয়ারের মৃত্যু হামাসের অশুভ শাসনের পতনের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ যুগান্তকারী ঘটনা। সিনওয়ারের হত্যাকাণ্ডকে স্বাগত জানিয়ে নেতানিয়াহু আরও বলেন, যদিও এটি গাজা যুদ্ধের শেষ নয়, এটি শেষের শুরু।
তবে লেবাননের সশস্ত্র গোষ্ঠী হিজবুল্লাহ বলেছে, সিনওয়ারকে হত্যার পর ইসরায়েলের বিরুদ্ধে যুদ্ধে নতুন এক অধ্যায় শুরু করছে তারা। হিজবুল্লাহর দাবি, তারা প্রথমবারের মতো ইসরায়েলি সেনাদের বিরুদ্ধে সুনির্দিষ্ট লক্ষ্যবস্তুতে হামলা চালাতে সক্ষম ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবহার করেছে।
গত ২৩ সেপ্টেম্বর থেকে ইসরায়েল ও লেবাননের মধ্যে বড় আকারে সংঘাত ছড়িয়ে পড়ে। তখন থেকে লেবাননের দক্ষিণে ও পূর্বে হিজবুল্লাহর ঘাঁটি লক্ষ্য করে হামলা চালাচ্ছে ইসরায়েল।
গত মাসে লেবাননে একটি স্থল অভিযান পরিচালনা করে ইসরায়েলি বাহিনী। আর এর পর থেকে লেবাননের সীমান্তবর্তী গ্রামগুলোতে দুই পক্ষের মধ্যে কাছাকাছি অবস্থান থেকে লড়াই চলছে।
বৃহস্পতিবার হিজবুল্লাহর পক্ষ থেকে দেওয়া এক বিবৃতিতে বলা হয়, ইসরায়েলি শত্রুপক্ষের সঙ্গে চলমান সংঘাত একটি নতুন এবং ক্রমবর্ধমান অধ্যায়ে রূপান্তরিত হয়েছে বলে ঘোষণা দিচ্ছে হিজবুল্লাহ। আগামী দিনগুলোতে বিভিন্ন ঘটনার মধ্য দিয়ে এ ঘোষণার প্রতিফলন দেখা যাবে বলেও বিবৃতিতে উল্লেখ করেছে হিজবুল্লাহ।
সাম্প্রতিক দিনগুলোতে ইসরায়েলের বিরুদ্ধে হামলা বেড়েছে উল্লেখ করে বিবৃতিতে বলা হয়, দক্ষিণ লেবাননের গ্রামগুলোতে ইসরায়েলের স্থল অভিযান মোকাবিলা করার জন্য শত শত যোদ্ধা সম্পূর্ণ প্রস্তুত। রকেট হামলা দিন দিন বাড়ছে উল্লেখ করে বিবৃতিতে আরও বলা হয়, সুনির্দিষ্ট লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত হানতে সক্ষম ক্ষেপণাস্ত্রগুলো প্রথমবারের মতো মোতায়েন করা হয়েছে।
এদিকে ফিলিস্তিনের গাজা উপত্যকার উত্তরাঞ্চলে জাবালিয়ার কাছে একটি শরণার্থী শিবিরে হামলা চালিয়েছে ইসরায়েলি বাহিনী। গত শুক্রবার রাতের এই হামলায় ৩৩ জন নিহত হয়েছে।
ইসরায়েলি বাহিনী ৬ অক্টোবর থেকে জাবালিয়ার চারপাশসহ গাজার উত্তরাঞ্চলে হামলা জোরদার করেছে। তারা বলছে, ওই এলাকায় হামাসের সদস্যরা আবার জড়ো হওয়ার চেষ্টা করছে। তাই তারা হামাসের যোদ্ধাদের লক্ষ্য করে হামলা চালাচ্ছে।
