রাশিয়ার বিরুদ্ধে যুদ্ধে ইউক্রেন কীভাবে জয় পাবে, সেই পরিকল্পনা পেশ করেছেন দেশটির প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি। তিনি বলেছেন, ইউক্রেন শক্তিশালী হতে চায় এবং কঠোর কূটনীতির পথ নিতে চায়। তার ভাষ্য, এখনই জয়ের পরিকল্পনা নিয়ে এগোলে আগামী বছর যুদ্ধ বন্ধ হতে পারে।
জার্মান সংবাদমাধ্যম ডয়েচে ভেলে এক প্রতিবেদনে বলেছে, ব্রাসেলসে অনুষ্ঠিত ইউরোপীয় ইউনিয়নের বৈঠকে জেলেনস্কি তার পরিকল্পার ধারণা পেশ করেছেন। যদিও পুরো পরিকল্পনার বিষয়টি তিনি খোলাসা করেনি। তবে বিশ্লেষকরা মনে করছেন, জেলেনস্কি তার পশ্চিমা মিত্রদের থেকে আরও অস্ত্র ও সহায়তা চাইছেন, যেন তিনি রাশিয়ার বিরুদ্ধে কেবল প্রতিরোধ যুদ্ধই না আক্রমণাত্মক যুদ্ধও চালিয়ে যেতে পারেন। তবে ইইউ সাধারণভাবে জেলেনস্কিকে সমর্থন করার কথা বললেও, জেলেনস্কির সব দাবি মানতে নারাজ ইইউ-র কিছু সদস্য দেশ।
লিথুয়ানিয়ার প্রেসিডেন্ট শীর্ষ বৈঠকে বলেছেন, আমি যখন পরিকল্পনা দেখি, তখন দেখতে পাই, বিগত মাস বা বছরগুলোতে আমরা যে সব সিদ্ধান্ত নিতে পারিনি, সেই সব বিষয় এখানে আছে।
শুক্রবার ২৭টি ইইউ দেশের শীর্ষনেতার বৈঠকে জেলেনস্কি একঘণ্টা সময় পেয়েছিলেন তার পরিকল্পনার কথা জানানোর জন্য। একদিন আগেই তিনি ইউক্রেনের পার্লামেন্টে পাঁচটি বিন্দুর কথা বলেছিলেন। সেগুলো আবার এই বৈঠকে বলেন। সংবাদমাধ্যমটি বলছে, ইউক্রেনকে ন্যাটোর সদস্য করার কোনো সিদ্ধান্ত এই বৈঠকে নেওয়া হবে না। পরে ন্যাটোর প্রতিরক্ষামন্ত্রীদের বৈঠকেও বিষয়টি নিয়ে আলোচনা হবে না। লিথুয়ানিয়া এই প্রস্তাবে রাজি হলেও যুক্তরাষ্ট্র জানিয়ে দিয়েছে, ইউক্রেনকে ন্যাটোর সদস্য করা হলে পরমাণু শক্তিধর রাশিয়ার সঙ্গে সরাসরি সংঘাতে জড়িয়ে পড়তে পারে ন্যাটো। জেলেনস্কি বৈঠকে বলেন, রাশিয়ার বিরুদ্ধে দূরপাল্লার মিসাইল ব্যবহার করার অনুমতি দিক পশ্চিমা দেশগুলো। তিনি জানিয়ছেন, এই যুদ্ধটা রাশিয়ায় নিয়ে যাওয়াটা জরুরি। তাহলেই রুশরা যুদ্ধের ভয়াবহতা বুঝতে পারবেন এবং তারা পুতিনকে ঘৃণা করতে শুরু করবেন। ইউক্রেনকে যুক্তরাষ্ট্র, ফ্রান্স ও যুক্তরাজ্য মিসাইল ও রকেট দিয়েছে, যা দিয়ে রাশিয়ার ভেতরের লক্ষ্যে আঘাত করা সম্ভব। কিন্তু বাইডেন চান না, ইউক্রেন রাশিয়ার ভেতরে ক্ষেপণাস্ত্র আক্রমণ করুন। যুক্তরাষ্ট্র মনে করছে, তাহলে উত্তেজনা বহুগুণ বেড়ে যাবে।
ইউক্রেন জার্মানির কাছ থেকে টাউরুস ক্রুজ মিসাইলও চেয়েছে। কিন্তু জার্মান চ্যান্সেলর ওলাফ শলৎস সাংবাদিকদের বলেছেন, আপনারা আমার সিদ্ধান্তের কথা জানেন। আমার সিদ্ধান্ত বদল হবে না। শলৎস ইউক্রেনকে টাউরুস মিসাইল দিতে রাজি নন। জেলেনস্কি জানিয়েছেন, তার এই জয়ের পরিকল্পনার রূপায়ণ রাশিয়ার ওপর নির্ভর করছে না। সেটা নির্ভর করছে ইউক্রেনের সঙ্গীদের ওপর।
