খাল ভরাট করে ২০০০ স্থাপনা

আপডেট : ২০ অক্টোবর ২০২৪, ০৮:০৫ এএম

চট্টগ্রামের বাঁশখালীর ঐতিহ্যবাহী জলকদর খাল ভরাট করে অন্তত দুই হাজার স্থাপনা গড়ে উঠেছে। এতে খালটি প্রায় নিশ্চিহ্ন হয়ে গেছে। অথচ একসময় এটি দক্ষিণ চট্টগ্রামের বাণিজ্যিক খাল নামে পরিচিত ছিল। এ খাল দিয়ে নৌকায় করে শহরে পাড়ি দিত বাঁশখালী, মহেষখালী, পেকুয়া, চকরিয়া, কুতুবদিয়াসহ দক্ষিণ অঞ্চলের হাজার হাজার মানুষ। এলাকাবাসীর দাবি, অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ করে জলকদর খালটি দ্রুত উদ্ধার করা হোক।

সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, বাঁশখালী উপজেলার উত্তর পাশের সাধনপুর ও খানখানাবাদ ইউনিয়নের মাঝ দিয়ে ঈশ্বরবাবুর হাট হয়ে খালটি মিলিত হয়েছে সাঙ্গু নদীর সঙ্গে। তবে ঈশ্বরবাবুর হাট হয়ে করিম বাজার পর্যন্ত খালটি প্রায় নিশ্চিহ্ন হয়ে গেছে। চৌধুরী হাট ও করিমবাজার এই দুটি স্থানে খাল ভরাট করে গড়ে উঠেছে রাইস মিল, পাকা ও সেমি পাকা বাড়িসহ কয়েক শ দোকানপাট। এমনকি বরফ কল থেকে শুরু করে পোলট্রি ফার্মেরও দেখা মেলে।

এ ছাড়া মোশারফ আলী বাজারের উত্তর পাশে বাহারছড়া পুলিশ ফাঁড়ির সামনেই ভরাট করা হচ্ছে জলকদর। এখানে আগে থেকেই রাইস মিল, পাকা বাড়িসহ কয়েক শ অবৈধ স্থাপনা রয়েছে। একই জায়গায় নতুন করে গড়ে উঠছে আরও শতাধিক অবৈধ স্থাপনা। অন্যদিকে বাহারছড়ার রত্নপুরে একটি অবৈধ ইটভাটাও গড়ে উঠেছে জলকদর খালে। সব মিলিয়ে বশির উল্লাহ মিয়াজি বাজার হয়ে রত্নপুর, কাথরিয়া, হালিয়াপাড়া, চুনতিবাজার, সরল, গ-ামারা, শীলকূপ, চাম্বল, শেখেরখীল, ছনুয়া ও পুইছড়ি পর্যন্ত ৩২ কিলোমিটার দৈর্ঘ্যরে জলকদর খালজুড়েই গড়ে উঠেছে ২ হাজারেরও বেশি অবৈধ স্থাপনা।

আদালত ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ২০২২ সালের ৫ ডিসেম্বর এই জলকদর খাল দখল ও ভরাট বন্ধে ব্যবস্থা নিতে নির্দেশ দিয়েছিলেন উচ্চ আদালত। এর আগে জলকদর খাল ভরাট করে ভবন নির্মাণের বিষয়ে হিউম্যান রাইটস অ্যান্ড পিচ ফর বাংলাদেশ (এইচআরপিবি) জনস্বার্থে রিট পিটিশন করে। পিটিশনে পরিবেশ সচিব, পানি উন্নয়ন সচিব, স্থানীয় সরকার সচিব, পরিবেশ অধিদপ্তরের মহাপরিচালক, পানি উন্নয়ন বোর্ড, জেলা প্রশাসক, চট্টগ্রামের পুলিশ সুপারসহ ১২ জনকে বিবাদী করা হয়। জলকদর খালে আর যাতে দখল ও স্থাপনা নির্মাণ না করা হয়, তা নিশ্চিত করতে বিবাদীদের নির্দেশ দেয় আদালত। একইসঙ্গে চট্টগ্রামের জেলা প্রশাসক, ইউএনওসহ ছয়জনকে দুই সপ্তাহের মধ্যে প্রতিবেদন দাখিলের নির্দেশ দেয়। আদালত জেলা প্রশাসক, নির্বাহী প্রকৌশলী ও বাঁশখালীর ইউএনওকে জলকদর খালের সিএস, আরএস অনুসারে জরিপ করে দখলদারদের তালিকাসহ ৩০ দিনের মধ্যে প্রতিবেদন দাখিলেরও নির্দেশ দেয়। কিন্তু ৩০ দিনের মধ্যে প্রতিবেদন দেওয়ার কথা থাকলেও তা দুই বছরেও দিতে পারেননি বিবাদীরা।

অন্যদিকে ২০২৩ সালের ১৩ সেপ্টেম্বর জলকদর খালের খানখানাবাদ ইউনিয়নের ঈশ্বরবাবুর হাট অংশ থেকে সীমানা নির্ধারণ কার্যক্রম শুরু করে উপজেলা প্রশাসন। ছয়জন সার্ভেয়ার সীমানা নির্ধারণে কাজ করলেও এখন পর্যন্ত তা বুঝিয়ে দিতে পারেননি।

পাউবোর উপ-বিভাগীয় (বাঁশখালী) প্রকৌশলী অনুপম পাল বলেন, ‘জলকদর খালটির বেশ কিছু অংশ দখল হয়ে গেছে। বেশ কয়েকবার ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে বিষয়টি অবহিত করা হয়েছে। খালটি উদ্ধার করে খননের জন্য বেশ কয়েকবার বরাদ্দ চাওয়া হয়েছে। বাজেট না থাকায় বারবার সেটি পিছিয়ে যাচ্ছে। বাজেট পাস হলে শিগগিরই এসব অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ করা হবে।’

বাঁশখালী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) জেসমিন আক্তার বলেন, ‘জলকদর খালের সীমানা পরিমাপ প্রায় শেষ। শিগগিরই এটি পানি উন্নয়ন বোর্ডের কাছে হস্তান্তর করা হবে। খালটি বাঁশখালীর ঐতিহ্যবাহী একটি খাল। এই খালটি অবৈধ দখলমুক্ত করতে উচ্চ আদালতেরও নির্দেশনা রয়েছে। শিগগিরই জলকদর খালে গড়ে ওঠা অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ অভিযান চলানো হবে।’

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত