চুয়াডাঙ্গা সদরে সংযোগ সড়ক না থাকায় প্রায় ৭ কোটি টাকা ব্যয়ে তৈরি একটি সেতু কোনো কাজে আসছে না। পীরপুর গঞ্জেরঘাট সড়কে মাথাভাঙ্গা নদীর ওপর দীর্ঘদিন অলস পড়ে আছে সেতুটি। দুই পাশে নেই সড়ক, যে কারণে সেতুটির সুফল পাচ্ছে না উভয় পাশের ৪টি গ্রামের মানুষ। জীবনের ঝুঁকি নিয়ে বাঁশের সাঁকো পার হয়ে চলাচল করতে হচ্ছে তাদের, সেই সাঁকো দিয়ে পার হতে আবার দিতে হচ্ছে টাকা। এছাড়া সেতু চালু না হওয়ায় অতিরিক্ত ১২ থেকে ১৫ কিলোমিটার পথ ঘুরে চলছে যানবাহন। এতে কৃষিপণ্য পরিবহনে বাড়তি টাকা গুনতে হচ্ছে এলাকার কৃষকদের। সেতু নির্মাণের আগে সংযোগ সড়কের জন্য জমি অধিগ্রহণ না করায় সমস্যা দীর্ঘায়িত হচ্ছে।
গঞ্জেরঘাটের ওপারে শত শত বিঘা জমিতে ফসল ও সবজি আবাদ হয়। স্কুল-কলেজে যাতায়াত, কৃষিপণ্য ও রোগী বহনসহ অন্যান্য কাজে ভোগান্তির শিকার হতে হয় নিয়মিত। পীরপুর-গঞ্জেরঘাট সেতুটির পাশেই জনসাধারণের পারাপারের জন্য বাঁশের সাঁকো করে দিয়েছে খেয়াঘাটের ইজারাদার। বাঁশের সেই সাঁকো দিয়ে পার হয় মোটরসাইকেল, বাইসাইকেল ও পায়ে হাঁটা নারী-পুরুষ। বর্ষা মৌসুমে নদীর পানি বাড়লে সাঁকোর পরিবর্তে ব্যবহার করা হয় নৌকা।
স্থানীয় কৃষক আরিফুল ইসলাম বলেন, ‘সেতু চালু না হওয়ায় যানবাহনগুলোকে অতিরিক্ত ১২ থেকে ১৫ কিলোমিটার পথ ঘুরতে হচ্ছে। এতে কৃষিপণ্য পরিবহনে আমাদের বাড়তি টাকা গুনতে হচ্ছে।’
গঞ্জেরঘাট এলাকার বাসিন্দা স্কুলশিক্ষক আক্কাস মিয়া ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, শুরু থেকেই স্থান নির্বাচন নিয়ে নদীর দুই পাড়ের মানুষেরই চরম আপত্তি ছিল। তাদের দাবি ছিল, নদীর দুই পাড়ের সড়ককে সংযুক্ত করে স্থান নির্বাচন করে সেতু নির্মাণ করা হোক। অথচ স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর (এলজিইডি) কর্মকর্তাদের খামখেয়ালিতে মূল জায়গা থেকে ৫০ মিটার দূরে সেতুটি তৈরি করা হয়েছে। যে কারণে সংযোগ সড়ক নির্মাণের জন্য উভয় পাড়েই ৩৩ শতক করে মোট ৬৬ শতক জমির প্রয়োজন হচ্ছে।
এলজিইডি কার্যালয় থেকে পাওয়া তথ্য অনুযায়ী, মাথাভাঙ্গা নদীর ওপর ৯০ মিটার দীর্ঘ এবং ৫ দশমিক ৫ মিটার প্রশস্ত সেতুটি নির্মাণে বরাদ্দ হয় ৬ কোটি ৬৬ লাখ ৬৮ হাজার ১০ টাকা। চুয়াডাঙ্গা-১ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য সোলায়মান হক জোয়ার্দ্দার ছেলুন ২০২১ সালের ৩১ জানুয়ারি গঞ্জেরঘাট প্রান্তে সেতুটির ভিত্তিপ্রস্তর করেন। দরপত্রের চুক্তি অনুযায়ী পরের বছর আগস্টের মধ্যে নির্মাণ শেষ করে জনসাধারণের চলাচলের জন্য উন্মুক্ত করে দেওয়ার কথা ছিল। তবে দুই বছরের বেশি সময় পার হলেও সেতুটি চালু করা যায়নি।
নির্মাণকাজের দরপত্র পেয়েছিল কুষ্টিয়ার ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান মো. নুরুজ্জামান মিয়া ও সৈকত এন্টারপ্রাইজ জেভিসিএ। তবে এই প্রতিষ্ঠানটির হয়ে কাজটি করেছেন স্থানীয় ঠিকাদার চুয়াডাঙ্গার ইলিয়াস হোসেন।
এ ব্যাপারে জানতে চাইলে ঠিকাদার ইলিয়াস হোসেন দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘খোঁজ নিয়ে জেনেছি, জমি অধিগ্রহণ নিয়ে সমস্যা কেটে গেছে। জমি অধিগ্রহণ শেষ হলেই সংযোগ সড়কের রাস্তা করে দেব।’
চুয়াডাঙ্গার জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ জহিরুল ইসলাম বলেন, মূল সড়ক থেকে দূরে সেতুর স্থান নির্বাচন করা হয়েছে। বিষয়টি দুঃখজনক। সঠিক জায়গায় সেতু নির্মাণ করা হলে সংযোগ সড়কের জন্য জমি অধিগ্রহণ করতে হতো না। সেতু নির্মাণের আগে জমি অধিগ্রহণ না করায় সমস্যা দীর্ঘমেয়াদি হচ্ছে।
