আবাসিক হলের গণরুমে থাকা ছিল জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের (জাবি) প্রথম বর্ষের শিক্ষার্থীদের শিক্ষাজীবনের সবচেয়ে অপ্রত্যাশিত ও বিভৎষকর এক অধ্যায়। ক্ষমতাসীন ছাত্রসংগঠনের প্রভাব খাটিয়ে চারজনের কক্ষ একজন বা দুইজনের দখলে রাখা, আসন বন্টনে তাদের কর্তৃত্ব এবং নিয়মবহির্ভূতভাবে শিক্ষাজীবন শেষ হওয়া শিক্ষার্থীদের অবস্থানের ফলে সৃষ্টি হতো কৃত্রিম আসন সংকট। নথিপত্রে শতভাগ আবাসিক লেখা থাকলেও ‘গণরুম সংস্কৃতি’ ছিল এ বিশ্ববিদ্যালয়ের অন্যতম প্রধান সমস্যা। গণরুমে গাদাগাদি করে চারজনের কক্ষে ৮ থেকে ২০ জন, দুইজনের কক্ষে ৪ থেকে ১০ জন করে থাকতে হতো।
এই দুর্ভোগ বাদেও ছিল ক্ষমতাসীন ছাত্রসংগঠনের মানসিক ও শারীরিক নির্যাতন। গত ১৫ জুলাই শিক্ষার্থীদের তোপের মুখে ক্ষমতাসীন ছাত্রলীগ ক্যাম্পাস ছাড়ার সঙ্গে এসব অপসংস্কৃতিও দূর হয়েছে।
ভর্তি পরীক্ষার প্রায় আট মাস পর আজ রবিবার থেকে ৫৩ তম ব্যাচের (২০২৩-২৪ শিক্ষারবর্ষ) ক্লাস শুরু হয়েছে। গতকাল শনিবার সকাল থেকেই হলে উঠতে শুরু করেন শিক্ষার্থীরা। বিশ্ববিদ্যালয়ে ছাত্রদের ১১টি ও ছাত্রীদের ১০টি মোট ২১টি হল রয়েছে। পূর্নাঙ্গ আবসিকতা নিশ্চিত করতে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন হলগুলো গণরুম মুক্ত করতে সক্ষম হলেও পূর্ণাঙ্গ আবাসন সুবিধা ও পড়াশোনার উপযোগী পরিবেশ নিশ্চিত করতে পারেনি।
অধিকতর উন্নয়ন প্রকল্পের আওতায় নবনির্মিত ছয়টি হলের কোনোটাতেই গ্যাস সংযোগ নেই। ফলে ওই হলগুলোতে ডাইনিং (৩০ টাকা মূল্যের কুপন কেটে খাবার খেতে হয়) চালু হয়নি। এর মধ্যে চারটি হলে গ্যাসের সিলিন্ডার দিয়ে রান্নার ব্যবস্থা করে ক্যান্টিন চালু করা হয়েছে। তবে সিলিন্ডার গ্যাসে খরচ বেশির অযুহাতে খাবারের দাম বেশি রাখার অভিযোগ রয়েছে। নবনির্মিত বাকি দুইটি হলের মধ্যে সম্প্রতি উদ্বোধন হওয়া জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম হল ও বীরপ্রতীক তারামন বিবি হলে ডাইনিং-ক্যান্টিন কোনোটাই চালু হয়নি। ফলে ওই দুই হলের শিক্ষার্থীদের খাবারের জন্য পাশ্ববর্তী হলে গিয়ে বা হলের বাইরের খাবারের দোকান থেকে তুলনামূলক বেশি দামে খাবার কিনে খেতে হচ্ছে।
এছাড়াও ওই দুই হলে এখন পর্যন্ত ইন্টারনেট সংযোগ দেওয়া হয়নি। এর বাইরে নতুন ছয়টি হল বাদে কয়েকটি হলে নবীন শিক্ষার্থীদের জন্য পর্যাপ্ত চেয়ার ও টেবিল নিশ্চিত করতে পারেনি হল কর্তৃপক্ষ। ফলে পড়াশোনাসহ ইন্টারনেট নির্ভর কাজগুলো করতে বিড়ম্বনায় পড়ছেন শিক্ষার্থীরা।
বীরপ্রতীক তারামন বিবি হলের আবাসিক শিক্ষার্থী হুমাইরা নূর বলেন, ‘হলে ইন্টারনেট সংযোগ দেওয়া হয়নি এবং মোবাইল ইন্টারনেটও হলের ভেতরে কাজ করে না। হল চালু হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে হলে ক্যান্টিন চালু করার কথা থাকলেও এখন পর্যন্ত চালু হয়নি। আশেপাশে খাবারের দোকান না থাকায় খাবার খেতেও অসুবিধা হচ্ছে। এছাড়াও হলে পরিশোধিত পানি, শৌচাগারে বদনা ও গোসলখানায় ছিটকিনি নেই।’
তবে হল কতৃপক্ষ বলছে, ইন্টারনেট সংযোগের কাজ চলমান রয়েছে। গ্যাস সংযোগ দেওয়ার ব্যাপারে আলেচনা চলছে এবং শিক্ষার্থীরা বাকি যে সমস্যাগুলোর সম্মুখীন হচ্ছে তা শিক্ষার্থীদের সঙ্গে আলোচনা করে সমাধান করা হবে।
বিশ্ববিদ্যালয়ের হল প্রাধ্যক্ষ কমিটির সভাপতি অধ্যাপক মুহাম্মদ নজরুল ইসলাম দেশ রূপান্তরকে বলেন, হলগুলো থেকে গণরুম বিলুপ্ত করেছি। প্রত্যেক শিক্ষার্থীকে একক আসন দেওয়া হয়েছে। হলে গ্যাস সংযোগের ব্যাপারে আমরা কাজ করছি। নতুন যে দুটি হলে ক্যান্টিন চালু হয়নি এবং ইন্টারনেট সংযোগ দেওয়া হয়নি ওই হল দুটিতে এক বা দুই দিনের মধ্যে ক্যান্টিন চালু করা হবে। এছাড়াও গত কয়েকদিন ধরে ইন্টারনেট সংযোগ দেওয়ার কাজ চলছে, দ্রুতই শেষ হবে আশা করছি। শিক্ষার্থীরা যদি বাকি কোনো সমস্যায় পড়ে আমরা তা নিরসন করব।
এ ব্যাপারে উপাচার্য অধ্যাপক মোহাম্মদ কামরুল আহসান এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানান, নবীন শিক্ষার্থীরা তাদের নিজ নিজ হলে প্রথম দিনেই আসন পাবে এটা তাদের অধিকার। এই অধিকার নিশ্চিত করতে পেরে তার প্রশাসন আনন্দিত। শিক্ষার সুষ্ঠু পরিবেশ নিশ্চিত করতে তার প্রশাসন দৃঢ় প্রতিজ্ঞ। আবাসিক হলে এবং এ্যাকাডেমিক ভবনগুলোতেও শিক্ষার্থীদের সুযোগ-সুবিধা বৃদ্ধি করতে তারা আন্তরিকভাবে কাজ করবে।
বিকট বিস্ফোরণে কাঁপল দিল্লি, কারণ নিয়ে ধোঁয়াশা
মিরপুর স্টেডিয়ামে তুমুল উত্তেজনা, বিক্ষোভ!