নগরে মধ্যরাতে ‘ঝটিকা’ মিছিল করা ছাত্রলীগ নেতাকর্মীদের ২৪ ঘণ্টায়ও গ্রেপ্তার করতে পারেনি পুলিশ। এ নিয়ে বৈষম্যবিরোধী ছাত্রদের মধ্যে উত্তাপ ছড়িয়েছে। মিছিলকারীদের গ্রেপ্তারে গতকাল শনিবার বিকেলে পুলিশ প্রশাসনকে ২৪ ঘণ্টার আল্টিমেটাম দিয়েছিলেন বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের চট্টগ্রামের সমন্বয়ক রাসেল আহমেদ।
গত শুক্রবার দিবাগত রাতে নগরের জামালখান এলাকায় ৩০/৩৫জন ছাত্রলীগের নেতাকর্মী ঝটিকা মিছিল করেন। মিছিলে অংশগ্রহণকারীদের মুখ মাস্কে ঢাকা ছিল। মিছিলে ‘শেখ হাসিনার ভয় নেই, রাজপথ ছাড়ি নাই’ বলে স্লোগান দেওয়া হয়। এরপর দ্রুত তারা ওই স্থান ত্যাগ করেন। মিছিলে কেউ কেউ অস্ত্র প্রর্দশন করেছে বলেও অভিযোগ উঠেছে। তবে নগর পুলিশ কর্মকর্তারা এই অভিযোগের সত্যতা পায়নি।
এদিকে ছাত্রলীগের মিছিলটি ঘিরে এখনও চলছে নানা আলোচনা-সমালোচনা। ইতিমধ্যে ছাত্রলীগকে নিষিদ্ধের দাবি জানিয়েছে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন। পুলিশ বলছে, বৈষম্যবিরোধী ছাত্র-জনতার আন্দোলনে হামলা ও গুলি চালানো কোনো সন্ত্রাসী, অস্ত্রধারী ওই মিছিলে ছিল কিনা তা তদন্ত করে দেখা হচ্ছে। শিগগির তাদের চিহ্নিত করে আইনের আওতায় আনা হবে।
জানা গেছে, শুক্রবার মধ্যরাতে মিছিল করে ছাত্রলীগ নেতাকর্মীরা সটকে পড়ার পরপরই খবর পেয়ে সেখানে হাজির হয় বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের শিক্ষার্থীরা। ছাত্রলীগের মিছিলের প্রতিবাদে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন চট্টগ্রামের সমন্বয়ক রাসেল আহমেদ গতকাল শনিবার বিকেলে জামালখানে বিক্ষোভ সমাবেশ করে ছাত্রলীগকে নিষিদ্ধের দাবি জানান। পরে তারা নগর পুলিশ কমিশনার কার্যালয়ের সামনে ‘ঘেরাও’ করে অবস্থান নেন।
সমন্বয়ক রাসেল আহমেদ বলেন, ‘ঝটিকা মিছিলকারী ছাত্রলীগ-যুবলীগের নেতাকর্মীদের আইনের আওতায় আনার জন্য প্রশাসনকে ২৪ ঘণ্টার আল্টিমেটাম দিয়েছি৷ এ সময়ে যদি প্রশাসন আইনের আওতায় আনতে না পারে তাহলে চকবাজার, কোতোয়ালী ও পাঁচলাইশ থানার ওসিকে পদত্যাগ করতে হবে। একইসাথে সিএমপি কমিশনারকেও প্রত্যাহার করতে হবে।’
এ বিষয়ে নগর পুলিশের দক্ষিণ বিভাগের উপ-কমিশনার (ডিসি) লিয়াকত আলী খান বলেন, ‘শুক্রবার মধ্যরাতে যারা মিছিল বের করেছে তাদের আমরা খুঁজে বেড়াব তা নয়। এর মধ্যে দুস্কৃতিকারী কেউ থাকলে তাদের আইনের আওতায় আনব।’
এক প্রশ্নের উত্তরে সিএমপির অন্যতম এই শীর্ষ কর্মকর্তা বলেন, ‘মিছিলের একটি ভিডিও এবং সিসিটিভি ফুটেজ দেখেছি। ওই ফুটেজে অস্ত্র নিয়ে মিছিল করেছে এমন কিছু পাওয়া যায়নি।’
গত ৫ আগস্ট শেখ হাসিনা সরকারের পতনের আড়াই মাস পর চট্টগ্রামে গভীর রাতে ছাত্রলীগের এভাবে ‘ঝটিকা’ মিছিল বের করাকে রাজনৈতিক দেউলিয়াত্ব বলে মন্তব্য করেছেন জামায়াতে ইসলামী চট্টগ্রাম মহানগর শাখার এক নেতা।
এ বিষয়ে নগর জামায়াত ইসলামীর সাংগঠনিক সম্পাদক ও সাবেক কাউন্সিলর অধ্যক্ষ শামসুজ্জামান হেলালী সংবাদ মাধ্যমকে বলেন, ‘আওয়ামী লীগ যে এরকম দেউলিয়া হয়েছে সেটা আমি জানতাম না। তাদের পতন হয়েছে মাত্র আড়াই মাস। কিন্তু দিনের বেলায় একটি মিছিল করতে পারতো। রাত সাড়ে ১২টায় কোনো ভদ্র রাজনৈতিক দল মিছিল করে না। তাও আবার মুখ বেঁধে। আমি মনে করি এটা রাজনৈতিক দেউলিয়াত্বের চরম বহিঃপ্রকাশ।’
