অন্তরের গহিনে গেঁথে আছে মহান প্রভুর ভালোবাসা। যখন নিজেকে একাকী মনে হয় তখন মহান প্রভুর ভালোবাসার ঝলকানিতে ছেয়ে যায় এই হৃদয়। অনুভব করি অধম বান্দার প্রতি তার অসীম রহমতের বারিধারা। মনে পড়ে পরম মায়া করে তার আদম সৃষ্টির কথা। তিনি বিশ্বব্যাপী যার সন্তানদের বিস্তার করেছেন। আপন পরিচয় তুলে ধরার জন্য যুগে যুগে পাঠিয়েছেন অসংখ্য নবী-রাসুল। যাদের মাধ্যমে এই নশ্বর পৃথিবীর মানুষ এক আল্লাহ সম্পর্কে জেনেছে। যার পরিচয় দিতে গিয়ে ইবরাহিম (আ.)-কে অগ্নিকুণ্ডে নিক্ষিপ্ত হতে হয়েছে। অনেক নবী-রাসুল হয়েছেন দেশান্তরিত। ইউসুফ (আ.)-কে তার ভাইয়েরা কূপে ফেলেছে। তাকে দীর্ঘ সময় থাকতে হয়েছে কারাগারে। মুসা (আ.) ফেরাউনের মাধ্যমে নিপীড়িত হয়েছেন। ইহুদিরা ঈসা (আ.)-এর ব্যাপারে হত্যার ষড়যন্ত্র করেছে। সর্বশেষ বিশ্বনবী মুহাম্মদ (সা.)-এর মাধ্যমে পূর্ণতা পেয়েছে বিশ্বময় তাওহিদ ও রিসালাত। পৃথিবী পেয়েছে মহান রবের পূর্ণ পরিচয়। কোরআনে বর্ণিত হয়েছে, ‘আজ আমি তোমাদের জন্য তোমাদের দ্বীনকে পূর্ণ করে দিলাম। তোমাদের প্রতি আমার নেয়ামত পূর্ণ করে দিলাম। ইসলামকে তোমাদের দ্বীন হিসেবে পছন্দ করলাম।’ (সুরা মায়েদা ৩)
আমাদের প্রিয় নবী হজরত মুহাম্মদ (সা.) হলেন সর্বশেষ নবী। তার পরে আর কোনো নবী আসবেন না। মহান প্রভু নিজেই ঘোষণা দিয়েছেন তার মাধ্যমে খতমে নবুয়তের কথা। পবিত্র কোরআনে আল্লাহতায়ালা বলেন, ‘মুহাম্মদ তোমাদের কোনো পুরুষের পিতা নন। বরং তিনি আল্লাহর রাসুল ও শেষ নবী।’ (সুরা আহজাব ৪০)
রাসুল (সা.) বিশ্বজগতের জন্য রহমত স্বরূপ। যার মাধ্যমে এই ধরাধাম সিঞ্চিত হয়েছে মহান রবের পূর্ণ রহমতের বারিধারায়। মহান আল্লাহ ইরশাদ করেছেন, ‘হে নবী! আমি আপনাকে বিশ্বজগতের জন্য রহমতস্বরূপ প্রেরণ করেছি।’ (সুরা আম্বিয়া ১০৭) তার মাধ্যমে মানবজাতি পেয়েছে অনুসরণীয় এক মহান ব্যক্তিত্ব। মহান আল্লাহ পবিত্র কোরআনে ইরশাদ করেছেন, ‘তোমাদের জন্য রয়েছে আল্লাহর রাসুলের মধ্যে উত্তম আদর্শ।’ (সুরা আহজাব ২১)
