বিশ্বব্যাপী ১০০ জনেরও বেশি নারী ফুটবলার ফিফা আহ্বান জানিয়েছেন সৌদি তেলের বৃহত্তম প্রতিষ্ঠান আরামকোর সাথে স্পন্সরশিপ চুক্তি বাতিল করতে। মানবিক ও পরিবেশগত কারণে তারা এই চুক্তিকে "নারী ফুটবলের জন্য একটি চরম অবজ্ঞা" হিসেবে আখ্যায়িত করেছেন।
ফিফা প্রেসিডেন্ট জিয়ান্নি ইনফান্তিনোকে উদ্দেশ্য করে একটি খোলা চিঠিতে খেলোয়াড়রা বলেন, এই স্পন্সরশিপ "আমাদের এতটাই পেছনে ঠেলে দিয়েছে যে আমরা সম্পূর্ণ বিষয়টি উপলব্ধি করতেও হিমশিম খাচ্ছি।" চিঠিতে আরও উল্লেখ করা হয়, "সৌদি কর্তৃপক্ষ শুধু নারীদের অধিকারে আঘাত করেনি, বরং দেশের অন্যান্য নাগরিকদের স্বাধীনতাকেও হরণ করেছে।"
২৪টি দেশের খেলোয়াড়দের স্বাক্ষরিত এই চিঠিতে আরও বলা হয়েছে, "এলজিবিটিকিউ+ খেলোয়াড়দের কল্পনা করুন, যারা আমাদের খেলার নায়ক, তাদের ২০২৭ সালের বিশ্বকাপে সৌদি আরামকোর প্রচারণায় অংশগ্রহণ করতে বলা হবে। অথচ সেই সৌদি আরামকোই এমন একটি দেশের প্রতিষ্ঠান, যা তাদের ব্যক্তিগত সম্পর্ককে অপরাধ হিসেবে বিবেচনা করে এবং তাদের মূল্যবোধের বিরোধিতা করে।"
চিঠিতে পরিবেশগত দিক থেকেও উদ্বেগ প্রকাশ করা হয়েছে। আরামকো বিশ্বের বৃহত্তম তেল উৎপাদক, এবং এর ৯৮.৫ শতাংশ মালিকানা সৌদি আরবের। ২০২৪ সালের এপ্রিলে ফিফা ঘোষণা দেয় যে, আরামকো ২০২৭ সাল পর্যন্ত তাদের "মেজর ওয়ার্ল্ডওয়াইড পার্টনার" হিসেবে থাকবে। এর ফলে আরামকো ২০২৬ সালে যুক্তরাষ্ট্র, মেক্সিকো ও কানাডায় অনুষ্ঠিতব্য পুরুষদের বিশ্বকাপ এবং ২০২৭ সালে ব্রাজিলে অনুষ্ঠিতব্য নারীদের বিশ্বকাপের স্পন্সর হবে।
এই চিঠিতে ফিফাকে আহ্বান জানানো হয়েছে, যেন তারা আরামকোর পরিবর্তে এমন স্পন্সর খুঁজে বের করে যারা নারী-পুরুষের সমতা, মানবাধিকার এবং পৃথিবীর নিরাপদ ভবিষ্যতের প্রতি সমর্থন জানায়।
ডেনমার্কের খেলোয়াড় সোফি পেডেরসেন বলেন, "আমরা ফিফাকে তিনটি সাধারণ প্রশ্ন করেছি: তাদের মানবাধিকার অঙ্গীকারের পরিপ্রেক্ষিতে এই স্পন্সরশিপ তারা কিভাবে ন্যায়সঙ্গত মনে করে, জলবায়ু পরিবর্তনের প্রতিশ্রুতি রক্ষার ক্ষেত্রে এই স্পন্সরশিপ কতটা সঙ্গতিপূর্ণ, এবং তারা কি খেলোয়াড়দের প্রতিনিধিত্বে একটি স্পন্সরশিপ পর্যালোচনা প্যানেল গঠন করতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ হবে?"
