বাফুফের নির্বাচন নিয়ে সন্দিহান ক্রীড়া উপদেষ্টা

আপডেট : ২১ অক্টোবর ২০২৪, ০৭:১০ পিএম

দায়িত্ব নেওয়ার পর প্রথম বাংলাদেশ ফুটবল ফেডারেশন পরিদর্শন করেছেন ক্রীড়া উপদেষ্টা আসিফ মাহমুদ সজীব ভুঁইয়া। সোমবার দুপুরে বাফুফে ভবনে এসে আসন্ন ২৬ অক্টোবরের নির্বাচন সুষ্ঠু হওয়া নিয়ে সন্দেহ প্রকাশ করেছেন ক্রীড়াঙ্গনের নয়া অভিভাবক। তার শঙ্কা মূলত জেলা ও বিভাগীয় ফুটবল অ্যাসোসিয়েশন থেকে আসা ডেলিগেট তালিকা নিয়ে। তার কাছে অভিযোগ রয়েছে বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের দোসরদের অনেকেই ভোটার হিসেবে থেকে গেছে বাফুফের নির্বাচনে। যেটা কোনভাবেই পছন্দ নয় ক্রীড়া উপদেষ্টার। তবে ফিফার গাইডলাইনের প্রতি সম্মান রাখতে হচ্ছে বলে চাইলেই হস্তক্ষেপ করা যাচ্ছে না বলে জানিয়েছেন আসিফ। 

নির্বাচন প্রসঙ্গে আসিফ নিজের ভেতরে তৈরী হওয়া প্রশ্নটা উগরে দেন সংবাদকর্মীদের সামনে, ‘প্রথমত পূর্বের কাউন্সিলরদের স্বস্থানে রেখে নির্বাচন করার আমি বিপক্ষে আমি। তবে ফিফা রেগুলেশনস আর বাফুফের যে স্বায়ত্ত শাসন সেটার প্রতি সম্মান রাখতেই হবে। আপনারা জানেন, আমরা জেলা ক্রীড়া সংস্থাগুলো ভেঙে দিয়েছি। জেলা ক্রীড়া সংস্থা থেকে যে কাউন্সিলর যায় বিভিন্ন ফেডারেশনে, সেগুলো কিন্তু পরিবর্তন করা হচ্ছে। আগের যে পলিটিক্যাল নেক্সাস স্পোর্টসকে নিয়ন্ত্রণ করত, স্পোর্টসের সঙ্গে কোনো সম্পৃক্ততা নেই, সেটা তো এখনো ডিএফএতে ( জেলা ফুটবল অ্যাসোসিয়েশন) রয়ে গেছে। কিন্তু সেটা এখন থেকে আর থাকবে না। আমি যতটুকু জানতে পেরেছি, ডিএফএর অনেক কাউন্সিলরই পলাতক আছেন। এই পরিস্থিতিতে নির্বাচনটা আসলে কতটুকু গ্রহণযোগ্য হবে, সেটা নিয়ে সন্দেহ আছে।‘ তাছাড়া বিভিন্ন পদে বেশ কয়েকজন প্রার্থীতা প্রত্যাহার করায় আসিফ মনে করেন নির্বাচন সেভাবে প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ হবে না, ‘আমি জানতে পেরেছি, এর মধ্যে কেউ কেউ প্রার্থীতাও প্রত্যাহার করেছে। নির্বাচনটা সে কারণে প্রতিদ্বন্দ্বিতামূলক হচ্ছে বলে আমার মনে হচ্ছে না।'

বাফুফের নির্বাচন বরাবর বিতর্কিত হয়, সেটা মনে করিয়ে দিয়ে আসিফ বলেন, ‘বাইরে থেকে যতটুকু দেখেছি, বাফুফে নির্বাচন নিয়ে প্রতিবারই কোনো না কোনো বিতর্ক থাকে। আগের ফেডারেশনে যারা ছিলেন, তারা প্রতিক্ষেত্রেই বিতর্কিত। কারও কারও ওপর তো ফিফার নিষেধাজ্ঞাও আছে। ২০১০ পর্যন্ত ফুটবলে একটা ক্রেজ ছিল, সেটা দিনে দিনে নিচের দিকে গেছে। এটার জন্য দায়ী কিন্তু ফেডারেশনে যারা দায়িত্বে ছিল তারাই। তাদের বিরুদ্ধে নানা রকম অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ আমরা পেয়েছি। এসব বিষয়ে আপনারা জানেন, দুদক কাজ করছে। এসব কারণেই মূলত তাদের সঙ্গে না বসা। আমরা বসেছি এক্সিকিউটিভ যারা আছেন, তাদের সঙ্গে।‘ 

বাফুফের নির্বাচন নিয়ে খুব বেশি ইতিবাচক কিছু না শুনতে পেরে হতাশ আসিফ আরও বলেন, 'বাফুফে এক ধরনের স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠান, এখানে ফিফার কিছু রেগুলেশনস আছে। তবে সায়ত্তশাসনটা মাঝে মধ্যে পজিটিভলি হয়, আবার নেগেটিভলিও হয়। বাফুফেতে আমরা সেটি নেগেটিভলিই দেখে আসছি। সব সময় এখানে একটা কথা বলা হয়, বাফুফের ব্যাপারে সরকার কোন স্টেপ নিলে ফিফা নিষিদ্ধ করে দেবে। বাফুফের নামের মধ্যেই তো বাংলাদেশ ফুটবল ফেডারেশন আছে। বাংলাদেশ কথাটা আছে। বাংলাদেশ সরকারের যদি কোনো ভূমিকাই না থাকে, তাহলে তো নামের সার্থকতা থাকে না। আপনারা জানেন, মাঠ বলেন, কিংবা অন্যান্য লজিস্টিকসের জায়গায় সরকারের একটা ভূমিকা থাকে। সে জায়গা থেকে আমরা একটা পলিসি নিয়েছি, পজিটিভ হস্তক্ষেপ বলেন আর ভূমিকা রাখা বলেন। এই জায়গায় আমাদের কিছু কাজ করার প্রয়োজন আছে। ফুটবলের ক্ষেত্রে এটা নিয়ে আমরা সকল স্টেক হোল্ডারস, যারা এখানে নির্বাচিত হয়ে আসবে, সাবেক ফুটবলার, সংগঠক, সবার অভিজ্ঞতা কাজে লাগাতে চাই।’

অন্তবর্তী সরকারের আড়াই মাসে আসিফ বুঝতে পেরেছেন ক্রীড়াঙ্গন নেই সঠিক পথে, ‘ফুটবল, ক্রিকেটই শুধু না অন্য ফেডারেশনগুলোতেও নেক্সাস কাজ করেছে। একটা ফেডারেশনে দেখলাম একজন বসে আছে ৪০ বছর ধরে (কুস্তি ফেডারেশনের সাধারণ সম্পদাক তবিবুর রহমান পালওয়ান)। এখন এই লোকটা থাকার সময় যদি পজিটিভ কিছু হতো, তাও একটা কথা ছিল। ভালো কিছু তো হয়ই নি, উল্টো খারাপ হয়েছে। কারও কারও পরিবারের সব সদস্য (ফেডারেশনের) সদস্য হয়ে বসে আছে। এই অনিয়মগুলো ক্রীড়াঙ্গনের সর্বক্ষেত্রেই ছিল। আমি তো মাঝেমধ্যে ভাবি, এত অনিয়মের মধ্যে কীভাবে দেশের স্পোর্টসটা বেঁচে আছে। বেঁচে থাকার একমাত্র কারণ, স্পোর্টসের প্রতি মানুষের যে বিপুল আগ্রহ, সে কারণে।‘

 

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত