এবি পার্টির নেতারা বলেছেন, ক্ষমতাচ্যুত সরকারের আমলে চরম দুর্নীতি, অনিয়ম ও লুটপাটে বিপর্যস্ত বিদ্যুৎ খাত। সাড়ে ১৫ বছরে কোনো দরপত্র ছাড়াই বেসরকারি খাতে শতাধিক বিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মাণ করা হয়েছে। এর বেশিরভাগই কোনো কাজে আসেনি। সরকারি হিসাবে উৎপাদন ক্ষমতা ২৫ হাজার মেগাওয়াট বলা হলেও লোডশেডিং থেকে মুক্তি মেলেনি। এমনকি দেশে বিদ্যুতের প্রকৃত চাহিদা কত, তারও সঠিক কোনো হিসাব নেই বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ডের কাছে। সবার জন্য সরবরাহ নিশ্চিত না করে শুধু সংযোগ দিয়েই শতভাগ বিদ্যুতায়নের কৃতিত্ব জাহির করা হয়েছে।
আজ সোমবার বিদ্যুৎ সেক্টরের লুটপাট, পল্লী বিদ্যুতায়ন বোর্ড ও পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির সৃষ্ট সংকট ও সমাধানে করণীয় বিষয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে তারা এই দাবি করেন।
এবি পার্টির নেতারা বলেন, আওয়ামী মাফিয়া সিন্ডিকেটের লুটপাটে বিধ্বস্ত বিদ্যুৎ খাত। বিগত কিছু দিন যাবত আমরা দেখছি পল্লী বিদ্যুতায়ন বোর্ড ও পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির মধ্যকার সৃষ্ট সংকট জনগণকে নতুন করে ভোগাচ্ছে। এই সংকট সমাধানে আরইবি ও পিবিএসকে নতুন করে রিফর্ম করতে হবে।
সম্মেলনে বক্তব্য উপস্থাপন করেন এবি পার্টির যুগ্ম সদস্য সচিব ব্যারিস্টার আসাদুজ্জামান ফুয়াদ। আরইবি ও পিবিএসএর সংকট নিয়ে কথা বলেন এবি পার্টির সহকারী সদস্য সচিব ইঞ্জিনিয়ার মোহাম্মদ লোকমান। এ সময় আরো উপস্থিত ছিলেন এবি পার্টির যুগ্ম আহ্বায়ক লে. কর্নেল (অব.) হেলাল উদ্দিন, মহানগর উত্তরের আহ্বায়ক আলতাফ হোসাইন, মহানগর দক্ষিণের যুগ্ম আহ্বায়ক আনোয়ার ফারুক ও গাজী নাসিরসহ কেন্দ্রীয় নেতৃবৃন্দ।
ব্যারিস্টার ফুয়াদ তার বক্তব্যে বলেন, বিগত সরকারের বিদ্যুৎ মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বে ছিলেন পলাতক প্রধানমন্ত্রী হাসিনা। নসরুল হামিদ বিপুকে তিনি একনাগাড়ে এই মন্ত্রণালয়ে রেখেছেন শেখ পরিবারের লুটপাট অব্যাহত রাখতে। সেই অব্যবস্থাপনার ধারাবাহিকতাই এখনো চলছে। আমরা দেখলাম ফ্যাসীবাদের পতনের পর নতুন এক সংকট হাজির হলো পল্লী বিদ্যুতায়ন বোর্ড ও পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির মধ্যে। খবর নিয়ে আমরা জানতে পারলাম পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির কর্মকর্তা কর্মচারীরা বেশ কয়েক বছর আগে থেকেই তাদের কিছু দাবি দাওয়া নিয়ে আন্দোলন করে যাচ্ছে। তারই ধারাবাহিকতায় বিদ্যুৎ ব্ল্যাক আউটের মতো কিছু কর্মকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে।
এমতাবস্থায় আমরা সরকারকে অনুরোধ করবো পল্লী বিদ্যুতের আন্দোলনকারীদের মধ্যে কারা সরকারের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র করছে এবং কারা ন্যায় সংগত দাবি করছে এগুলো চিহ্নিত করতে হবে। সংকট সমাধানে সমস্যা চিহ্নিত না করে একতরফা ভাবে পল্লী বিদ্যুৎ সমিতিতে কর্মরত কর্মকর্তা কর্মচারীদের ঢালাও গ্রেপ্তার প্রতিষ্ঠানে অস্থিরতা তৈরি করবে এবং সংকট ঘনীভূত হবে, বলেন তিনি।
ইঞ্জিনিয়ার মোহাম্মদ লোকমান বলেন, পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির কর্মকর্তা কর্মচারীদের দাবি ও সাবোটাজকে আমাদের পৃথক করতে হবে। আমরা মনে করি বিদ্যুৎ খাতকে বিশৃঙ্খল করতে বিগত সরকারের সুবিধাভোগী কিছু অংশ ও কিছু আমলা ইন্ধন যোগাচ্ছে। আমরা সরকারকে বলব পল্লী বিদ্যুতের কর্মকর্তা কর্মচারীদের ন্যায্য দাবি সমুহ বিবেচনা করতে হবে।
সংবাদ সম্মেলনে আরো উপস্থিত ছিলেন এবি পার্টি ঢাকা মহানগর দক্ষিণের যুগ্ম সদস্য সচিব সফিউল বাসার, সাংগঠনিক সম্পাদক আব্দুল হালিম নান্নু, মহানগর উত্তরের যুগ্ম সদস্য সচিব আব্দুর রব জামিল, যুবপার্টি ঢাকা মহানগর উত্তরের সদস্য সচিব শাহিনুর আক্তার শীলা, কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য সুমাইয়া শারমিন ফারহানা, আমেনা বেগম, পল্টন থানা আহ্বায়ক আব্দুল কাদের মুন্সি ও সদস্য সচিব আব্দুল ওয়াদুদ মোল্লা রনিসহ কেন্দ্রীয় ও মহানগরীর বিভিন্ন পর্যায়ের নেতৃবৃন্দ।
বাফুফের নির্বাচন নিয়ে সন্দিহান ক্রীড়া উপদেষ্টা
সাভার ও আশুলিয়ায় শহীদ এবং আহতদের পরিবারের পাশে তারেক রহমান
নাশকতার মামলায় গ্রেপ্তার হয়ে বরখাস্ত, ৭ বছর পর চাকরিতে ফিরলেন দুই শিক্ষক