নগরের চান্দগাঁও থানাধীন শমসেরপাড়া এলাকায় দুর্ধর্ষ দুই সন্ত্রাসী গ্রুপের গোলাগুলিতে আফতাব উদ্দিন তাহসীন (২৭) নামে এক যুবক নিহত হয়েছেন। সোমবার (২১ অক্টোবর) বিকেলে এ ঘটনা ঘটে। পুলিশ ওই যুবকের মরদেহ উদ্ধার করেছে।
নিহত তাহসীন চান্দগাঁও থানার ৪ নম্বর ওয়ার্ডের হাজীরপুল এলাকার দিলা মিস্ত্রি বাড়ির মো. মুসার ছেলে। তাহসীন নগরের ওমরগণি এম ই এস কলেজের ছাত্র ছিলেন। চান্দগাঁও থানা এলাকায় গোলাগুলিতে এক যুবক নিহত হওয়ার সত্যতা সোমবার (২১ অক্টোবর) সন্ধ্যায় দেশ রূপান্তরকে নিশ্চিত করেছেন চান্দগাঁও থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আফতাব উদ্দিন।
স্থানীয় সূত্র জানিয়েছে, শমসেরপাড়া এলাকায় পুলিশের তালিকাভুক্ত শীর্ষ সন্ত্রাসী শিবির ক্যাডার সারোয়ার ও সাজ্জাদ গ্রুপের মধ্যে এই গোলাগুলির ঘটনা ঘটেছে। নিহত তাহসান সারোয়ার গ্রুপের সমর্থক ছিলেন। সারোয়ার দুর্ধর্ষ শিবির ক্যাডার হিসেবে পরিচিত।
স্থানীয় সূত্র আরও জানায়, নিহত তাহসীন কেন্দ্রীয় আওয়ামী লীগের বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিষয়ক উপকমিটির সদস্য আরশাদুল আলম বাচ্চুর অনুসারী হিসেবে সক্রিয় ছিলেন। তবে তাহসীন চলাফেরা করতেন শিবির ক্যাডার সারোয়ারের সাথে। তাহসীন ইট, বালু ও সিমেন্টের ব্যবসা করতেন। তার এই ব্যবসায় সহযোগী ছিলেন শিবিরকর্মী সারোয়ার।
পুলিশ জানায়, চট্টগ্রামে পুলিশের তালিকাভুক্ত ও আলোচিত এইট মার্ডার মামলার মৃত্যুণ্ডাদেশপ্রাপ্ত আসামি সাজ্জাদ আলী খান। এই সাজ্জাদের সহযোগী হিসেবেই অপরাধজগতে আসেন বায়েজিদ বোস্তামী থানা-সংলগ্ন হাটহাজারীর শিকারপুরের মো. জামালের ছেলে সাজ্জাদ। তার বিরুদ্ধে হত্যা, অস্ত্র, চাঁদাবাজির ১০টি মামলা রয়েছে। সবশেষ ১৭ জুলাই চান্দগাঁও থানা-পুলিশ অস্ত্রসহ সাজ্জাদকে গ্রেপ্তার করে। পরের মাসে তিনি জামিনে বেরিয়ে আসেন।
সারোয়ার ভারতে পলাতক ‘শিবিরক্যাডার’ সাজ্জাদ আলী খানের হয়েই একসময় কাজ করতেন। তিনি নগরের বায়েজিদ বোস্তামী থানার খোন্দকারপাড়ার কালা মুন্সির বাড়ির আব্দুল কাদেরের ছেলে। সারোয়ারের বিরুদ্ধে ডবলমুরিং, পাঁচলাইশ ও বায়েজিদ বোস্তামি থানায় হত্যা, চাঁদাবাজি, অস্ত্রবাজি, ডাকাতিসহ বিভিন্ন অপরাধে ১৮টি মামলা রয়েছে। সবগুলোতে জামিনে রয়েছেন তিনি।
জানা গেছে, আজ সোমবারের ঘটনার আগে গত ১৮ সেপ্টেম্বর বিকেল চারটার দিকে নগরের বায়েজিদ বোস্তামী থানার কালারপুল এলাকায় শটগান হাতে সাজ্জাদ হোসেনসহ আরও দুজন গুলি করতে করতে একটি নির্মাণাধীন ভবনে প্রবেশ করে। এরপর ওই ভবন মালিকের কাছে পাঁচ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করে।
গত ২৯ আগস্ট নগরের বায়েজিদ বোস্তামি থানার অক্সিজেন–কুয়াইশ সড়কে প্রকাশ্যে গুলি করে মাসুদ কায়সার (৩২) ও মোহাম্মদ আনিস (৩৮) নামে যুবলীগের দুই কর্মীকে খুন করে। চাঞ্চল্যকর এই জোড়া খুনের ঘটনার মামলায় সাজ্জাদ ও তার সহযোগীদের আসামি করা হয়।
এর আগে গত ৫ জুলাই বায়েজিদ থানার বুলিয়াপাড়া এলাকায় একটি বাসায় গুলি করেন সাজ্জাদ তার সহযোগীদের নিয়ে। গত বছরের ২৭ অক্টোবর চান্দগাঁও হাজীরপুল এলাকার চাঁদা না পেয়ে দলবল নিয়ে মো. হাছান নামের এক ঠিকাদারের বাসায় গিয়ে গুলি করে সাজ্জাদ। দুর্ধর্ষ এই সন্ত্রাসী চান্দগাঁও, পাঁচলাইশ ও হাটহাজারী থানা এলাকা মিলে অন্তত তিন লাখ মানুষের মূর্তিমান আতঙ্ক হয়ে উঠেছে। তিনি(সাজ্জাদ) একের পর এক হত্যাকাণ্ড ঘটিয়ে গেলেও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী তাকে এখনও গ্রেপ্তার করতে পারেনি।
মা হচ্ছেন জেনিফার লরেন্স
কুমিল্লা সীমান্তে আ.লীগ নেতাদের বৈঠকের গুঞ্জন