ট্রাফিকে ৩০০ শিক্ষার্থী পাবেন সম্মানী

আপডেট : ২২ অক্টোবর ২০২৪, ০৬:৪৭ এএম

রাজধানী ঢাকার সড়কে ট্রাফিক ব্যবস্থাপনায় শৃঙ্খলা প্রতিষ্ঠায় ট্রাফিক পুলিশের সদস্যদের সঙ্গে কাজ করতে ৩০০ শিক্ষার্থীকে যুক্ত করা হয়েছে। ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) ট্রাফিক পক্ষের কার্যক্রমে প্রাথমিকভাবে তাদের সম্মানীসহ যুক্ত করা হয়েছে। পরে এ সংখ্যা আরও বাড়ানো হবে। গতকাল সোমবার থেকে শুরু হয়ে ট্রাফিক পক্ষের এই কার্যক্রম চলবে আগামী ৪ নভেম্বর পর্যন্ত। রাজারবাগ পুলিশ লাইনসে গতকাল ডিএমপির ট্রাফিক পক্ষ-২০২৪-এর উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে এসব তথ্য জানান অন্তর্বর্তী সরকারের স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা লেফটেন্যান্ট জেনারেল (অব.) মো. জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা বলেন, ‘বিভিন্ন দাবিদাওয়া ও বৈধ-অবৈধ যানবাহনের আধিক্যের কারণে রাজধানীর সড়কে শৃঙ্খলা ভেঙে অসহনীয় যানজট সৃষ্টি হচ্ছে। ছাত্র-জনতাসহ নগরে বসবাসকারী জনসাধারণকে সচেতন ও সস্পৃক্ত করার মাধ্যমে ট্রাফিক শৃঙ্খলা উন্নয়ন সম্ভব। এই লক্ষ্যকে সামনে রেখে ডিএমপি ১৫ দিনব্যাপী কর্মসূচি হাতে নিয়েছে। আমি দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করি, এর ফলে ঢাকা মহানগরীর ট্রাফিক বিভাগের কাজে যেমন গতি আসবে, তেমনি ঢাকার ট্রাফিক ব্যবস্থার উন্নয়নের মাধ্যমে জনভোগান্তি কমে আসবে।’

এর আগে ট্রাফিক পক্ষ উদ্বোধন উপলক্ষে একটি বর্ণাঢ্য শোভাযাত্রা আশপাশের এলাকা ঘুরে রাজারবাগ পুলিশ লাইনসে এসে শেষ হয়। পরে বেলুন উড়িয়ে ট্রাফিক পক্ষের উদ্বোধন করেন প্রধান অতিথি। ডিএমপি কমিশনার মো. মাইনুল হাসানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন প্রধান উপদেষ্টার প্রতিরক্ষা ও জাতীয় সংহতি উন্নয়নবিষয়ক বিশেষ সহকারী লেফটেন্যান্ট জেনারেল (অব.) আবদুল হাফিজ, যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া, পুলিশ মহাপরিদর্শক (আইজিপি) মো. ময়নুল ইসলামসহ ডিএমপির ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা।

ট্রাফিক পক্ষ উদযাপনে ছাত্র-জনতা যোগ দিয়েছে জানিয়ে স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা বলেন, ‘প্রথম অবস্থায় ৩০০ জন ছাত্র এই ট্রাফিক সপ্তাহে কাজ করবেন। পরে এই সংখ্যা আরও বৃদ্ধি করা হবে। এজন্য তাদের সম্মানী দেওয়া হবে।’

তিনি আরও বলেন, ‘দেশের অর্থনৈতিক উন্নয়ন ও অবকাঠামো বৃদ্ধি পেলেও পরিবহন ব্যবস্থা সুশৃঙ্খল ও আধুনিকায়ন উল্লেখযোগ্যভাবে হয়নি। শহরের জনগণের জন্য সরকারি ও বেসরকারিভাবে সাশ্রয়ী ও আরামদায়ক যানবাহন উল্লেখযোগ্যভাবে দেওয়া সম্ভব হয়নি। পাশাপাশি একই সড়কে রিকশা ঠেলাগাড়িসহ অসংখ্য অযান্ত্রিক যানবাহন চলাচল করে। মানুষ তার প্রয়োজনে এসব যানবাহনের দ্বারস্থ হচ্ছে। ফলে ঢাকাতে সুশৃঙ্খল ও কাঠামোগত ট্রাফিক ব্যবস্থা বাস্তবায়ন কঠিনতর হচ্ছে। অন্যদিকে নানা কারণে যানজট পরিস্থিতি দিন দিন অসহনীয় পর্যায়ে চলে যাচ্ছে। তবে বর্তমান অন্তর্বর্তী সরকার গঠনের পর পুলিশের সঙ্গে ছাত্র-জনতা, সুশীল সমাজের ব্যক্তিরাসহ নানা শ্রেণি-পেশার লোকজন ঢাকার ট্রাফিক ব্যবস্থা উন্নয়নের চেষ্টা অব্যাহত রেখেছে।’

ট্রাফিক বিভাগ বেআইনি যানবাহনের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া শুরু করেছে জানিয়ে স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা বলেন, ‘ট্রাফিক সিগন্যাল দেশীয় প্রযুক্তির মাধ্যমে চালু করার জন্য একটি গবেষক দল কাজ করছে। আশা করি স্বল্প সময়ের মধ্যে এটা চালু হবে। এ ছাড়া সরকারি ও বেসরকারি সংস্থাকে সম্পৃক্ত করে ট্রাফিক ব্যবস্থার উন্নয়নে বর্তমান সরকার কাজ করছে। শুধু সরকার কিংবা পুলিশের কাজ করার মাধ্যমে ঢাকার ট্রাফিক ব্যবস্থা আশানুরূপ উন্নয়ন করা সম্ভব নয়। রাস্তায় চলাচলের ক্ষেত্রে গাড়ির চালক ও ট্রাফিক পুলিশের যেমন দায়িত্ব রয়েছে, তেমনি নগরীর অধিবাসীদেরও ট্রাফিক আইন মেনে চলা একান্ত কর্তব্য।’

বিশেষ অতিথির বক্তব্যে যুব ও ক্রীড়া এবং শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া বলেন, ‘৫ আগস্টের পরে কিছুদিন দেশ প্রশাসনবিহীন অবস্থায় ছিল। সে সময় দেশের শৃঙ্খলা বজায় রাখার জন্য শিক্ষার্থীরা ট্রাফিকের দায়িত্ব নেন। তখন খারাপ অভিজ্ঞতা থেকে নগরবাসীকে রক্ষা করেন শিক্ষার্থীরা।’

তিনি আরও বলেন, ‘অভ্যুত্থানের সময় নিরাপত্তা রক্ষাকারী বাহিনীকে জনগণের বিরুদ্ধে লেলিয়ে দিয়েছিল আওয়ামী লীগ। সে কারণে দায়িত্ব পালনের ক্ষেত্রে পুলিশ সদস্যের মধ্যে এখনো তাদের নৈতিক অবস্থান সম্পূর্ণরূপে ফিরে আসেনি।’

এখনো শিক্ষার্থীরা বিভিন্ন জায়গায় যানবাহন চলাচল নিয়ন্ত্রণের দায়িত্ব পালন করে যাচ্ছেন উল্লেখ করে যুব ও ক্রীড়া উপদেষ্টা বলেন, ‘সরকারের প্রত্যেকটি খাত সচল রাখার জন্য তরুণরা যেভাবে সহযোগিতা করছে এটি অভূতপূর্ব ঘটনা। এই তারুণ্যের শক্তিকে অন্তর্বর্তী সরকার কাজে লাগাতে চায়।’

জনসচেতনতা বৃদ্ধি, ট্রাফিক ব্যবস্থাপনার উন্নয়ন এবং রাজধানীর সড়কে শৃঙ্খলা ফেরানোর উদ্দেশ্যে শুরু হয়েছে ‘ট্রাফিক পক্ষ’।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত