ইউরোপীয় ইউনিয়নের (ইইউ) সদস্য রাষ্ট্রগুলো গতকাল শুক্রবার থেকে অভিবাসন ও আশ্রয় চুক্তি কার্যকর করেছে। প্রধানত ইইউ-বহির্ভূত দেশগুলো থেকে রাজনৈতিক আশ্রয় নেওয়ার চাপ সামাল দেওয়া এবং এ বিষয়ে আঞ্চলিক জোটটির সদস্য রাষ্ট্রগুলোর মধ্যকার তীব্র মতভেদ নিয়ন্ত্রণের জন্য চুক্তিটি কার্যকর করা হলো।
আন্তর্জাতিক বার্তা সংস্থার প্রতিবেদন অনুয়ায়ী, চুক্তিটি রাজনৈতিক আশ্রয়প্রত্যাশী ব্যক্তি বা ব্যক্তিবর্গকে ইইউয়ের সীমানার বাইরে তৃতীয় দেশে অবস্থিত ‘প্রত্যাবর্তন কেন্দ্রে’ রেখেই তাকে আশ্রয় দেওয়া বা না দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিতে সংশ্লিষ্ট ইইউ সদস্য-রাষ্ট্রেকে আইনি সুযোগ দেবে। ওই ব্যক্তি বা ব্যক্তিবর্গকে রাজনৈতিক আশ্রয় দেওয়ার সিদ্ধান্ত হলে কেবল তখনই তাকে সংশ্লিষ্ট দেশে প্রবেশের সুযোগ দেওয়া হতে পারে। আর আশ্রয়ের আবেদন নাকচ হলে তাকে তৃতীয় দেশের ওই কেন্দ্র থেকে নিজ দেশে ফিরতে হবে।
ইউরোপীয় পলিসি সেন্টার (ইপিসি) বছরের পর বছর ধরে চলা আলোচনায় থাকা এ চুক্তি কার্যকর হওয়াকে একটি ‘মোড় ঘোরানো মুহূর্ত’ হিসেবে বর্ণনা করেছে।
এ চুক্তির মাধ্যমে রাজনৈতিক আশ্রয় প্রসঙ্গে ইইউ-ব্যবস্থায় বিভাজন সামাল দেওয়ার পাশাপাশি শেনজেন অঞ্চলের মধ্যে অবাধ চলাচল বজায় রাখতে চাওয়া হয়েছে। তবে ইপিসি বলছে, ইইউ তার মানবিক দায়বদ্ধতার সঙ্গে সম্মিলিত বাস্তবায়নের বাস্তব সীমাবদ্ধতার সমন্বয় করতে পারবে কিনা, তা এখনো দেখার বিষয়।
ইউরোপের অভিবাসন সংকটের চরম পর্যায়ে নীতিগত গুরুত্বের কেন্দ্রবিন্দু ছিল মানবিক সুরক্ষা। বর্তমানে মহাদেশটির দেশগুলোর সরকারগুলোর মনোযোগ ক্রমশ সীমান্ত ব্যবস্থাপনা কঠোর করা এবং অননুমোদিত ব্যক্তির প্রত্যাবাসন পদ্ধতি সহজ করার দিকে সরে গেছে।
উদাহরণ হিসেবে, জার্মানি ২০২৪ সাল থেকে স্থলসীমান্তে পুনরায় তল্লাশি শুরু করেছে এবং সীমান্ত নিয়ন্ত্রণ শিথিল করার জন্য ইউরোপীয় কমিশনের সর্বশেষ অনুরোধ প্রত্যাখ্যান করেছে। জার্মানির অনেক প্রতিবেশী দেশ নিরাপত্তা উদ্বেগের কথা উল্লেখ করে একই ধরনের সীমান্ত বিধিনিষেধ গ্রহণ করেছে।
লাটভিয়া গত বৃহস্পতিবার একটি নতুন আইন অনুমোদন করেছে, যার লক্ষ্য হলো সীমান্ত নিয়ন্ত্রণ জোরদার করা এবং অভিবাসীদের গ্রহণ করার পরও তাদের নিয়মিত পর্যবেক্ষণ করা।
অভিবাসী ও আশ্রয়প্রার্থীদের অধিকারের পক্ষে কাজ করা ফরাসি সংস্থা লা সিমাদের মতে, এ চুক্তির কিছু বিধান ‘গভীরভাবে উদ্দেশ্যপ্রণোদিত’। সংস্থাটি বলছে, আশ্রয়প্রার্থীদের তৃতীয় দেশে স্থানান্তর বা রাখা এবং অভিবাসন ব্যবস্থাপনার বহিঃস্থকরণকে একই কাতারে রেখে ইইউ সংহতির ধারণা বিকৃত করছে।