দোকান দখল নিয়ে চবিতে ছাত্রলীগ যুবলীগের হামলা

আপডেট : ২২ অক্টোবর ২০২৪, ০৭:০৪ এএম

দোকান দখল কেন্দ্র করে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে হামলা চালিয়েছেন স্থানীয় ছাত্রলীগ ও যুবলীগের নেতাকর্মীরা। সে সময় ব্যাপক পরিমাণ ককটেল বিস্ফোরণের ঘটান তারা। ছাত্রলীগের নেতাকর্মীদের হামলায় আহত হন পাঁচ শিক্ষার্থী।

গত রবিবার রাতে সাড়ে ৩টায় বিশ্ববিদ্যালয়ের রেলস্টেশনের আপ্যায়ন স্টোর ভাঙচুর করে ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা। পরে শিক্ষার্থীদের ওপর হামলা চালায় তারা।

জানা গেছে, বিশ্ববিদ্যালয়ের রেলস্টেশন এলাকায় আপ্যায়ন স্টোর নামক দোকানের মালিকানা বিরোধ নিয়ে ঘটনার সূত্রপাত। স্থানীয় যুবলীগ নেতা হানিফ তার নেতাকর্মীদের নিয়ে দোকান দখলের চেষ্টা এবং দোকানে ব্যাপক ভাঙচুর করেন। পরে ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা বিশ্ববিদ্যালয়ের জিরো পয়েন্ট এলাকায় মিছিল করেন, মহড়া দেন। তারা ব্যাপক ককটেল বিস্ফোরণ ঘটান। তখন বিশ^বিদ্যালয়ের সাধারণ শিক্ষার্থীদের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়লে তারা জিরো পয়েন্টে অবস্থান নেন। পরে রেলক্রসিং সংলগ্ন এলাকার কাছে শিক্ষার্থী এবং ছাত্রলীগ-যুবলীগ নেতাকর্মীদের মধ্যে ধাওয়া-পাল্টাধাওয়ার ঘটনা ঘটে।

বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা স্থানীয় মসজিদ ও বাসিন্দাদের ওপর হামলা চালিয়েছে বলে মসজিদের মাইকে ঘোষণা দিয়ে গুজব ছড়িয়ে দেন ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা। মাইকে এমন গুজব শুনে রেলক্রসিং এলাকায় জড়ো হতে থাকে স্থানীয় লোকজন। সে সময় শিক্ষার্থীদের প্রতিহত করতে ইটপাটকেল ছুড়ে ও রাস্তা অবরোধ করেন ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা। তবে স্থানীয় লোকজনের সঙ্গে শিক্ষার্থীদের কোনো ঝামেলা তৈরি হয়নি। পরে শিক্ষার্থীদের পক্ষ থেকে পুলিশ ফোর্স পাঠাতে হাটহাজারী থানায় যোগাযোগ করা হলে, মাত্র তিনজন পুলিশ সদস্য ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়। পুলিশের অনুরোধে সাধারণ শিক্ষার্থীরা রেলক্রসিং এলাকা থেকে ক্যাম্পাসে ফেরার পথে অতর্কিত তাদের ওপর হামলা চালান ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা। এতে চার শিক্ষার্থী আহত হন।

হামলায় আহতরা হলেন ইসলামিক স্টাডিজ বিভাগের ২০২০-২১ সেশনের শিক্ষার্থী আবদুল্লাহ আল নোমান, লোকপ্রশাসন বিভাগের ২০১৯-২০ সেশনের শিক্ষার্থী মোনায়েম শরীফ, আরবি বিভাগের ২০২২-২৩ সেশনের শিক্ষার্থী নাজমুল হাসান, ভাষা ইনস্টিটিউটের ২০২১-২২ সেশনের শিক্ষার্থী ইয়াসিন আরাফাত। গুরুতর আহত হওয়ায় আরাফাতকে নগরীর পার্কভিউ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।

পরে বিশ্ববিদ্যালয়ের আবাসিক হলগুলো থেকে জিরো পয়েন্টে একে একে জড়ো হতে থাকেন শিক্ষার্থীরা। সে সময় বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টরিয়াল বডি সাধারণ শিক্ষার্থীদের নিয়ে রেলক্রসিংয়ের কাছে ঘটনাস্থলে যায়। বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে ছাত্রলীগ ও যুবলীগের নেতাকর্মীদের প্রতিহত করতে সাধারণ শিক্ষার্থীদের মানব শিল্ড তৈরি করতে দেখা যায়।

শিক্ষার্থী ও ছাত্রলীগ, যুবলীগের নেতাকর্মীদের ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়ায় চার-পাঁচ শিক্ষার্থী আহত হয়েছেন বলে জানিয়েছেন চবি মেডিকেল সেন্টারের প্রধান ডা. মোহাম্মদ আবু তৈয়ব। তিনি বলেন, ‘শিক্ষার্থীদের প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে। তাদের শরীরে ইটপাটকেল ও পাথরের চিহ্ন পাওয়া গেছে। এক শিক্ষার্থী গুরুতর আহত হওয়ায় তাকে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল নেওয়া হয়েছে।’

বিশ্ববিদ্যালয়ের নাট্যকলা বিভাগের ২০১৯-২০ সেশনের শিক্ষার্থী রেজাউল বলেন, ‘রক্তে রাঙানো এই ক্যাম্পাসে ছাত্রলীগকে ফিরতে দেওয়া যাবে না। তারা আজ সাধারণ শিক্ষার্থীদের ওপর হামলা করার সাহস কীভাবে পায়। আমরা তাদের মতো সন্ত্রাসী বাহিনীকে দৃঢ়ভাবে প্রতিহত করব।’

বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর অধ্যাপক ড. তানভীর মোহাম্মদ হায়দার আরিফ বলেন, ‘স্থানীয় দুই ব্যবসায়ীর দ্বন্দ্বে তারা বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্যাম্পাসে ককটেল বিস্ফোরণ ঘটায়। তখন শিক্ষার্থীদের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। পরে শিক্ষার্থীরা হল থেকে বের হয়ে রেলক্রসিংয়ের দিকে গেলে তারা আবার ককটেল বিস্ফোরণ ঘটায়। সে সময়ে পুলিশের সহযোগিতা শিক্ষার্থীরা তেমন পায়নি।’

হাটহাজারী থানার ওসি হাবিবুর রহমান বলেন, ‘শিক্ষার্থীরা যে অসহযোগিতার অভিযোগ করছে, সেটা সঠিক নয়। আমরা ৬টা ১৮ মিনিটে খবর পেয়েছি এবং ৬টা ২৬ মিনিটে রেলক্রসিংয়ে উপস্থিত হয়ে উত্তেজিত স্থানীয়দের নিবৃত্ত করার চেষ্টা করি, যাতে শিক্ষার্থীদের সঙ্গে তাদের কোনো ঝামেলা না হয়। আমরা বিশ্ববিদ্যালয়ের কার্যক্রম স্বাভাবিক করার জন্য সবরকম সহযোগিতা করেছি। বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিস্থিতি এখন শান্ত।

গত ৫ আগস্ট রাতে রেলক্রসিং এলাকায় শিক্ষার্থীদের ওপর হামলা চালিয়েছিলেন যুবলীগ নেতা হানিফ ও তার অনুসারীরা। সে সময় দর্শন বিভাগের শিক্ষক মোজাম্মেলের গাড়িতেও হামলা করে তারা। বিশ্ববিদ্যালয় স্টেশনে রেলওয়ের জায়গা অবৈধভাবে দখল করে সবগুলো দোকানের ভাড়া নেন হানিফ। তার ছোটভাই ছাত্রলীগ নেতা মো. ইকবাল পুরো ক্যাম্পাস ও আশপাশের এলাকায় ডিশ এবং ওয়াইফাইয়ের ব্যবসা করেন। নিম্নমানের ইন্টারনেট দিয়ে দীর্ঘদিন এ ব্যবসা চালিয়ে যাচ্ছেন। অন্য কাউকে তারা এখানে ব্রডব্যান্ডের ব্যবসাও করতে দেন না। শিক্ষার্থীরা তাদের সমস্যা নিয়ে মুখ খুললে হুমকি-ধামকি দেন ও হামলা চালায় হানিফ বাহিনী।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত