ক্ষমতার অপব্যবহার করে বিভিন্ন প্রকল্পে অনিয়ম-দুর্নীতির মাধ্যমে কোটি কোটি টাকার সম্পদ অর্জনের অভিযোগে সাবেক মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রী আ ক ম মোজাম্মেল হক ও সাবেক শিক্ষামন্ত্রী নুরুল ইসলাম নাহিদের বিরুদ্ধে অনুসন্ধানের সিদ্ধান্ত নিয়েছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। সংস্থাটির উপপরিচালক (জনসংযোগ) মো. আকতারুল ইসলাম বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, আওয়ামী লীগ সরকারের দুই মন্ত্রীর বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগের প্রাথমিক সত্যতা পাওয়ার পরই প্রকাশ্যে অনুসন্ধানের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
দুদকের কাছে অভিযোগে বলা হয়, সাবেক মন্ত্রী মোজাম্মেল হক গাজীপুর-১ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য (এমপি) ছিলেন। তিনি ক্ষমতার অপব্যবহার করে বিভিন্ন প্রকল্পে দুর্নীতি ও অনিয়মের মাধ্যমে কমিশন নিয়ে কোটি কোটি টাকার সম্পদ অর্জন করেছেন। নিজ নামে গাজীপুরের জয়দেবপুরে তিনতলা ভবন, একই এলাকায় আরেকটি দুইতলা ভবন এবং বিভিন্ন ব্যাংকে বিপুল পরিমাণ অর্থ জমা রেখেছেন।
অভিযোগে আরও বলা হয়, মোজাম্মেল হকের নামে দুটি গাড়ি রয়েছে। গাজীপুরের বিভিন্ন মৌজায় ৬৯১ দশমিক ৮ শতাংশ জমি এবং ১০১ দশমিক ৪৮৫ শতক অকৃষি জমি রয়েছে। ক্ষমতায় থাকাকালে তিনি টাকার বিনিময়ে অসংখ্য ভুয়া মুক্তিযোদ্ধা সনদ দিয়েছেন।
সাবেক শিক্ষামন্ত্রী নাহিদের অভিযোগে বলা হয়, তিনি সিলেট-৬ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য ছিলেন। তিনি শিক্ষামন্ত্রী থাকাকালে বিভিন্ন প্রকল্পে দুর্নীতি ও অনিয়মের মাধ্যমে কমিশন গ্রহণ করে কোটি কোটি টাকার সম্পদ অর্জন করেছেন। নিজ নামে উত্তরা আবাসিক এলাকায় ফ্ল্যাটসহ পাঁচ কাঠা জমি, নিকুঞ্জ আবাসিক এলাকায় তিন কাঠা জমি, একক ও যৌথ মালিকানায় সিলেট বিয়ানীবাজারে অকৃষি জমি, বিভিন্ন ব্যাংকে জমা ও বিনিয়োগ করেছেন। এ ছাড়া তার স্ত্রীর নামে সঞ্চয়পত্রে বিনিয়োগ, বিভিন্ন ব্যাংকে জমা ও বিলাশবহুল গাড়ি কিনে দিয়েছেন। এ ছাড়া নাহিদ তার ভাই যুক্তরাজ্যে প্রবাসী ডা. নজরুল ইসলাম এবং যুক্তরাষ্ট্র প্রবাসী বন্ধু কামাল আহমদের মাধ্যমে বিপুল অর্থ বিদেশে পাচার করেছেন বলে অভিযোগ রয়েছে।
