ফুটফুটে শিশুটির বয়স ১১ বছর। নাম হুমায়রা আক্তার মৌমিতা। সে মহিলা মাদ্রাসার নূরানি বিভাগের ছাত্রী। এখন তার আধো আধো কণ্ঠে বাবার কাছে আবদার করার বয়স। তার হৈ চৈ বাড়ি মুখর করে রাখার কথা। তবে যে বয়সে বই-খাতা নিয়ে সহপাঠীদের সাথে স্কুলে যাওয়ার কথা সেই বয়সে অজানা রোগে ক্ষয়ে যাচ্ছে শিশুটির জীবন প্রদীপ।
মৌমিতার বাড়ি ময়মনসিংহের ঈশ্বরগঞ্জ উপজেলার মাইজবাগ ইউনিয়নের হারুয়া গ্রামে। বুধবার (২৩ অক্টোবর) দুপুরে মৌমিতার বাবা আফজাল হোসেন হিমেল ফেসবুকে মৌমিতার কয়েকটি ছবি পোস্ট করেন।
তিনি লেখেন, ‘ডাক্তার বলেছে মৌমিতা আর কয়েকটা দিনের জন্য পৃথিবীর অতিথি। ওর যা ইচ্ছা তা পূরণ করেন। বাবা হিসেবে এটা মেনে নিতে খুব কষ্ট হচ্ছে। আপনারা কেউ কি কোন পরামর্শ দিতে পারবেন? ওকে কোথায় নিয়ে চিকিৎসা করাবো? সবাই আমার মা মণির জন্য দোয়া করবেন। আল্লাহ যেন আমাকে ওর জীবনটা ভিক্ষা দেয়।’
মৌমিতার বাবা আফজাল বলেন, পাঁচ মাস ধরে আমার মেয়ের এই অবস্থা। দিনদিন অবস্থার অবনতি হচ্ছে। আজ পর্যন্ত কোন ডাক্তার মৌমিতার রোগ নির্ণয় করতে পারেনি। তার মা কবিরাজি চিকিৎসাও করিয়েছে। কিন্তু কিছুতেই কাজ হচ্ছে না।
মৌমিতার পরিবার জানায়, প্রথমে মৌমিতার শরীরে পানি আসে। পরে ডাক্তারি চিকিৎসায় পানি কিছুটা কমে। এর কিছুদিন পর শরীরে আবার পানি বেড়েছে। তখন চিকিৎসকরা জানান, কিডনির সমস্যা। অনেক চিকিৎসা করেও কিছু হয়নি। এরপর থেকে চিকিৎসকরাও আর কিছু বলতে পারছেন না। সর্বশেষ বগুড়া শহীদ জিয়া মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল থেকে চিকিৎসকরা মৌমিতাকে বাড়িতে পাঠিয়ে দেয়।
বর্তমানে মৌমিতার পেট ফুলে গেছে। চোখ-মুখে ও সারা শরীরে পানি আসায় বিছানায় শুয়ে কাটছে দিন। এ অবস্থায় শারীরিক যন্ত্রণা নিয়ে একদিকে তিলেতিলে মৃত্যুর দিকে ঝুঁকছে মৌমিতা, অন্যদিকে তার বাবা-মায়ের জীবনে নেমে এসেছে অন্ধকার।
উপকূলীয় অঞ্চলে সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের ছুটি বাতিল