২০১০ সালে বাংলাদেশ মেডিকেল ও ডেন্টাল কাউন্সিল আইনের ২৯ ধারায় বিএমডিসির নিবন্ধনভুক্ত মেডিকেল বা ডেন্টাল ইনস্টিটিউট থেকে এমবিবিএস বা বিডিএস ডিগ্রিধারী ছাড়া অন্য কেউ তাদের নামের আগে ডাক্তার পদবি ব্যবহার না করার কথা বলা হয়েছে।
অথচ দিনাজপুরের বিরামপুর শহরসহ হাটে বাজারে ডাক্তার পরিচয় দিয়ে রীতিমতো সাইনবোর্ড দিয়ে স্বাস্থ্যসেবার নামে রমরমা ব্যবসা চালিয়ে যাচ্ছে তারা। আবার কয়েকটি ডায়াগনিস্টিক সেন্টার ও ক্লিনিক নিয়মনীতির তোয়াক্কা না করে চলছে।
এ বিষয়ে ২৩ অক্টোবর বিরামপুর উপজেলা আইন-শৃখলা কমিটির সভাপতি ইউএনও নুজহাত তাসনীম আওনের দৃষ্টি আকর্ষণ করলে ইউএনও তাৎক্ষনিক সভায় উপস্থিত ইউএইচও ডা. গোলাম রসুল রাখিকে দ্রুত ব্যবস্থা নেয়ার অনুরোধসহ নির্দেশনা দেন। সভায় ইউএইচও ডা.গোলাম রসুল রাখি বলেন, বিষয়টি গুরত্ব সহকারে দেখা হবে এবং যথাযথ ব্যবস্থা নেয়া হবে।
খণ্ডকালীন প্রশিক্ষণ নিয়ে তারা প্রতারণামূলকভাবে ডাক্তার পরিচয় ব্যবহারের কারণে অপচিকিৎসা করছে এতে স্বাস্থ্যঝুঁকি বেড়েই চলেছে। একাধিক সূত্র জানায়, এই সমস্ত স্বঘোষিত ডাক্তারের সাথে কতিপয় অসাধু ডায়াগনস্টিক সেন্টার ও ক্লিনিক মালিকদের সখ্যতা রয়েছে। হাসপাতালে রোগী পাঠালেই কমিশন আবার ডায়াগনস্টিক সেন্টারগুলোতে রোগী পাঠিয়ে বিভিন্ন পরীক্ষা-নিরীক্ষা দিয়ে সেখান থেকেও ৪০ থেকে ৫০% কমিশন পেয়ে থাকেন স্বঘোষিত ডাক্তাররা।
এদেরকে ডাক্তার উপাধি দিয়ে প্যাড ও ভিজিটিং কার্ড সরবরাহ করেন কতিপয় অসাধু ডায়াগনস্টিক সেন্টার ও ক্লিনিক মালিক, এমনটাই জানিয়েছেন স্বঘোষিত ডাক্তাররা।
এ বিষয়ে এল.এম.এফ.সি.আর.এমপি প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত স্বঘোষিত ডা. মো. ইউসুফ আলী জানান, তার ডাক্তার লেখার এখতিয়ার আছে।
এল.এম.এ.এফ.পি (দিনাজপুর) ডা. মো আউয়াল হোসেন, ডিএম.এফ ডা. মো. মানিক, ভি.ডি.আর.এম.পি (দিনাজপুর) ডা. মো. আ. লতিফ (বাচ্চু) সহ আরও কয়েকজন বলেন, আমরা যদি ডাক্তারই না হই তাহলে কতিপয় ডায়াগনস্টিক সেন্টার ও ক্লিনিক মালিকরা আমাদের কাছে রোগী পাঠানোর জন্য ধরনা দেন কেন। তারাই তো আমাদের সাহসিকতার সাথে ডাক্তারি করার জন্য মাঝে মাঝে উদ্বুদ্ধ করেন, উপহার দেন। এমনকি আমাদের নিয়ে কোনও কোনও অনুষ্ঠানে সরকারি হাসপাতালের প্রতিনিধিরাও উপস্থিত থাকেন।
ডায়াগনস্টিক সেন্টার ও ক্লিনিক মালিক সমিতি দিনাজপুর জেলা শাখার সিনিয়ব সহ-সভাপতি ও বিরামপুর শাখার সভাপতি ডা. ইমার উদ্দীন কায়েস (সাবেক সিভিল সার্জন) দেশ রূপান্তরকে জানান, তার ডায়াগনস্টিক সেন্টার ও ক্লিনিকে ২৬ জনবল রয়েছে। অনান্য প্রতিষ্ঠানের কেউ নীতিমালা অমান্য করলে স্বাস্থ্য দপ্তর যথাযথ ব্যবস্থা নিতে পারে।
গ্রামীণ রোগীদের স্বাস্থ্যঝুঁকি রোধে স্বঘোষিত ডাক্তাদের কার্যক্রম বন্ধ এবং কমিশন সিস্টেম বাদ দিয়ে স্বাস্থ্য ব্যবসাকে স্বাস্থ্যসেবায় রূপ দিতে সংস্কার সাধনে সংশ্লিষ্ট দপ্তরের ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সদয় হস্তক্ষেপ কামনা করছেন সচেতন মহল।
অফিস শেষে ফিরছিলেন বাসায়, গুলিস্তানে দুই বাসের চাপায় পড়ে মৃত্যু