উৎকৃষ্ট গণতন্ত্র চাইলে শুধু নির্বাচন করলেই হবে না, ফ্যাসিবাদী যেন গড়ে না ওঠে, সেজন্য কিছু সংস্কার করতে হবে বলে জানিয়েছেন আইন উপদেষ্টা অধ্যাপক আসিফ নজরুল। তিনি বলেছেন, গত ১৫ বছরে দেশের প্রতিটি প্রতিষ্ঠান চূর্ণবিচূর্ণ করেছে ফ্যাসিস্ট হাসিনা। এখন এরা অনেক বাধা দেবে, কিন্তু একটু ধৈর্য ধরতে হবে।
গতকাল বৃহস্পতিবার বাংলা একাডেমিতে ব্রেইন ও আদর্শ প্রকাশনী আয়োজিত ‘গণতন্ত্রের অভিযাত্রা, আসন্ন চ্যালেঞ্জ ও উত্তরণের উপায়’ শীর্ষক আলোচনা সভায় তিনি এ কথা বলেন।
২০০৮ সালের নির্বাচনকে পরিকল্পিতভাবে কারচুপির সাংবিধানিক পথে শপথ নেওয়ার সিদ্ধান্ত রাজনৈতিক দলগুলোর। মতবিরোধ থাকলেও দেশের স্বার্থে অনৈক্য যেন না থাকে, ফ্যাসিস্ট যেন ফিরে আসতে না পারে সেই লক্ষ্যে কাজ করতে হবে।
বিপ্লবী সরকার গঠন না হওয়ার কারণ উল্লেখ করে আইন উপদেষ্টা বলেন, ৫ তারিখে যখন সেনাপ্রধান ডেকেছেন বিএনপি গেছে, জামায়াত গেছে, গণতন্ত্র মঞ্চও গেছে। জাতীয় পার্টির তিন ভাগ সেখানে গেছে। আমি এক কোনায় বসে ছিলাম। তখন কোনো দলই সাংবিধানিক সরকার না করে বিপ্লবী সরকার গঠনের কথা বলেনি। এটা ভুল হয়ে থাকলে সেই পরিস্থিতিতে আমাদের সবার ভুল ছিল।
বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সমন্বয়ক হাসনাত আবদুল্লাহ বলেন, সংবিধানকে অস্বীকৃতি জানিয়ে ৫ আগস্টের গণ-অভ্যুত্থান হয়েছে। ৫ আগস্টের পর সে সংবিধানকে স্বীকৃতি দেওয়াই বড় ভুল। ৭২-এর সংবিধান এখন অপ্রাসঙ্গিক।
শুধু মতপ্রকাশই নয়, দ্বিমত প্রকাশের স্বাধীনতা দরকার উল্লেখ করে সমন্বয়ক বলেন, আগেও মতপ্রকাশ করা যেত, তবে সেটা ছিল সহমত। তাই আমরা শুধু মত নয়, দ্বিমত প্রকাশের স্বাধীনতা চাই।
সভায় অন্য সমন্বয়ক সারজিস আলম বলেন, বিভিন্ন প্রোপাগান্ডা সেলের মাধ্যমে বিভিন্ন অপপ্রচার চালানো হচ্ছে, যা সাধারণ অনেক মানুষ তা যাচাই করার সুযোগ না পেয়ে বিশ্বাস করছে। যারা ক্ষমতার অপব্যবহার করছে, তাদের অনেকেই ৫ আগস্টের পর সমন্বয়ক হয়েছে।
তিনি বলেন, জনগণের ভোটে একটি নির্বাচিত সরকার না আসা পর্যন্ত সব ষড়যন্ত্র মোকাবিলায় আমাদের সবাইকে ঐক্যবদ্ধ থাকতে হবে।
