প্রায় ৬ কোটি ৬০ লাখ বছর আগে বিলুপ্তি ঘটেছে অতিকায় প্রাণী ডাইনোসরের। তবে বিলুপ্তির দীর্ঘ সময় পরও ডাইনোসর নিয়ে মানুষের আগ্রহের কমতি নেই। নানাভাবে এখনো নিজেদের উপস্থিতির জানান দিয়ে চলেছে বিলুপ্ত হয়ে যাওয়া এই ডাইনোসররা। এবার চীনে সবচেয়ে ছোট আকৃতির ডাইনোসরের ডিম খুঁজে পেয়েছেন বিজ্ঞানীরা। সম্প্রতি বিজ্ঞানভিত্তিক জার্নাল ‘হিস্ট্রিকাল বায়োলজি’তে প্রকাশিত এক গবেষণায় এই তথ্য জানিয়েছেন বিজ্ঞানীরা। ২০২১ সালে পাওয়া এই জীবাশ্ম ডিমই এখন পর্যন্ত আবিষ্কৃত সবচেয়ে ছোট আকারের ডাইনোসর প্রজাতির ডিম বলে নিশ্চিত করেছেন চীনের বিজ্ঞানীদের একটি দল।
ডাইনোসরের এসব ডিম পাওয়া গেছে দক্ষিণ-পূর্ব চীনের শহর গঞ্জোউয়ের কাছে এক নির্মাণাধীন এলাকায়। যে এলাকাটি ডাইনোসরের ডিম খোঁজার জন্য বিশ্বের অন্যতম সেরা স্থান হিসেবে পরিচিত। প্রকাশিত গবেষণায়, যেখানে এসব ডিম কোথায় পাওয়া গেছে ও কীভাবে তারা এসব ডিম নিয়ে গবেষণা করেছেন এবং এর থেকে যেসব তথ্য উদঘাটন করা হয়েছে সে সম্পর্কে বিস্তারিত তুলে ধরেছে জীবাশ্মবিদ ও বিবর্তন বিশেষজ্ঞদের দলটি। এ ডিমের সন্ধান পাওয়ার আগে সবচেয়ে ছোট ডাইনোসরের ডিমের দৈর্ঘ্য ৪৫.৫ মিলিমিটার ছিল বলে জানিয়েছে বিজ্ঞানভিত্তিক সাইট নোরিজ। নতুন পাওয়া ডিমটি আগে পাওয়া ডিমের চেয়েও ছোট। ডিমটি মাত্র ২৯ মিলিমিটার দীর্ঘ এবং খুঁজে পাওয়া ছয়টি ডিমের মধ্যে এই ডাইনোসরের ডিমটিই ছিল সম্পূর্ণ। ছয়টি ডিম একসঙ্গে এক স্থানে ঠিকভাবেই জীবাশ্ম অবস্থায় ছিল এবং তিন বছর ধরে খুব সাবধানতার সঙ্গে এগুলো নিয়ে গবেষণা করেছে গবেষণা দলটি।
ইলেকট্রন মাইক্রোস্কোপের মতো উন্নত প্রযুক্তি ব্যবহার করে নানা সময়ে বিজ্ঞানীরা জানিয়েছিলেন, খুঁজে পাওয়া ডিমগুলো এক ধরনের নন এভিয়ান বা পাখির সঙ্গে সম্পর্কিত নয় এমন কোনো থেরোপড ডাইনোসরের। থেরোপড ছিল মাংসাশী ডাইনোসর, যেগুলো সুপরিচিত ডাইনোসর প্রজাতি টি-রেক্সের মতো দুই পায়ে হাঁটত। তবে সবশেষ খুঁজে পাওয়া ডিমটি ডাইনোসরে এক অজানা প্রজাতির অন্তর্গত। গবেষকরা এসব ডিমের নাম দিয়েছেন ‘মিনিওলিথাস গানজুয়েনসিস’। বিজ্ঞানীদের অনুমান, এসব ডিম প্রায় আট কোটি বছর আগের ক্রিটেসিয়াস যুগের শেষের দিকের ডাইনোসর প্রজাতির, ওই সময়ে ডাইনোসররা ঘুরে বেড়াত পৃথিবীতে। এসব জীবাশ্ম ডিমের কোনো ক্ষতি না করে ডিমের খোসা ও ভেতরে থাকা ভ্রƒণের বিস্তারিত ছবি তৈরিতে ‘ইলেকট্রন ব্যাকস্ক্যাটার ডিফ্রাকশন বা ইবিএসডি’ নামের এক বিশেষ কৌশল ব্যবহার করেছেন গবেষকরা। পদার্থের স্ফটিক গ্রাফিক কাঠামো গবেষণা করতে এই পদ্ধতি ব্যবহার করা হয়।
ডিমগুলো নিয়ে আরও গবেষণা চালিয়ে যাওয়ার পরিকল্পনা করছেন গবেষকরা। ডিম খুঁজে পাওয়ার স্থানটি ভালোভাবে সংরক্ষিত রয়েছে কারণ, ডাইনোসররা ওই সময় কীভাবে বাস করত সে সম্পর্কে নতুন তথ্য দেবে এ স্থানটি। এই রোমাঞ্চকর আবিষ্কার ডাইনোসরের প্রাচীন জগৎ ও কীভাবে এরা নিজেদের সন্তানদের যতœ নিত তা বোঝার নতুন সুযোগ করে দিয়েছে বিজ্ঞানীদের।
