মাশরাফীসহ ২৪ জনের নামে মামলা, বিএনপি নেতার চাপে প্রত্যাহার

আপডেট : ২৫ অক্টোবর ২০২৪, ০৯:১৫ এএম

নড়াইলে এক ইউনিয়ন বিএনপি নেতার চাপের মুখে আওয়ামী লীগ নেতাদের নামে করা মামলা তুলে নিতে হয়েছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। ছাত্র-জনতার আন্দোলনে গুলিবিদ্ধ হয়ে আহত শফিকুল ইসলাম মামলা করার পর তা প্রত্যাহার করতে হয়েছে বলে অভিযোগ করেন। তিনি বিষয়টি জেলা বিএনপি নেতাকে জানিয়েও কোনো ফল পাননি। এখন বিএনপির কেন্দ্রীয় নেতাদের হস্তক্ষেপ চেয়েছেন। মামলার এজাহারে সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা, আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক ও সাবেক সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের, নড়াইল-২ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য মাশরাফী বিন মোর্ত্তজা, মাশরাফির বাবা গোলাম মোর্ত্তজা স্বপন, জেলা আওয়ামী লীগ সভাপতি অ্যাডভোকেট সুবাস চন্দ্র বোস, সাধারণ সম্পাদক নিজাম উদ্দিন খান নিলু, জেলা ছাত্রলীগ সাধারণ সম্পাদক স্বপ্নীল সিকদার নীলসহ ২৪ জনের নাম উল্লেখ করা হয়।

গত বুধবার দুপুরে মামলার বাদী শফিকুল ইসলাম সাংবাদিকদের কাছে অভিযোগ করেন, ভদ্রবিলা ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি কাজী রকিবুদ্দীন সেন্টুর চাপের কারণে মামলা তুলে নিতে বাধ্য হয়েছেন। তাকে জোরপূর্বক কয়েকজন ধরে নিয়ে নড়াইল থানায় নিয়ে গিয়ে মামলাটি প্রত্যাহার করিয়েছেন।

শফিকুল ইসলাম বলেন, ‘ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি কাজী সেন্টুর সঙ্গে জেলা আওয়ামী লীগের অনেক নেতার সঙ্গে ভালো সম্পর্ক। তার সম্পর্কের কয়েকজনকে আসামি করায় মামলাটি জোরপূর্বক আমাকে দিয়ে প্রত্যাহার করিয়েছেন। বিষয়টি আমি বিএনপির কেন্দ্রীয় নেতাদের জানানোর চেষ্টা করছি।’

এ ব্যাপারে ভদ্রবিলা ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি কাজী কাজী রকিবুদ্দীন সেন্টু বলেন, ‘শফিকুল ছাত্র-জনতার আন্দোলনে গিয়ে আহত হয়েছেন সত্য। কিন্তু তিনি আমাকে না জানিয়ে তার ইচ্ছামতো আওয়ামী লীগ নেতাদের নামে মামলা করেছেন। শফিকুল ইউনিয়ন বিএনপির কোনো পদে নেই। তবে তিনি রাজমিস্ত্রির কাজ করেন। সে হিসেবে হয়তো তিনি শ্রমিক দলের সঙ্গে যুক্ত থাকতে পারেন। তবে তাকে চাপ প্রয়োগ দিয়ে মামলা তোলা হয়েছে এ অভিযোগ সঠিক নয়।’

এ ব্যাপারে জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মো. মনিরুল ইসলাম বলেন, ‘৪ আগস্ট নড়াইল শেখ রাসেল সেতুর ওপর ছাত্র-জনতার ওপর হামলার ঘটনায় আগেই একটি মামলা হয়েছে। একটি স্পটে হামলার ঘটনায় সাধারণত একটি মামলা হয়। রাসেল সেতুর ওপর হামলার ঘটনায় আগেই একটি মামলা হয়েছে। সে কারণে হয়তো সে মামলাটি প্রত্যাহার করে নিতে পারেন।’

নড়াইল সদর থানার ওসি সাজেদুল ইসলাম বলেন, ‘ভদ্রবিলা ইউনিয়নের পলইডাঙ্গা গ্রামের শফিকুল ইসলাম একটি এজাহার জমা দিয়েছিলেন। যেহেতু একই ঘটনায় আগে একটি মামলা রুজু হয়েছে। সে কারণে ওই অভিযোগপত্রের নতুন আসামিদের পুরনো মামলার সঙ্গে সংযুক্ত করার সুযোগ ছিল। কিন্তু কয়েক দিন পরই আবেদনকারী এজাহারটি প্রত্যাহার করে নিয়ে যান।’

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত