উত্তর কোরিয়ার সীমানায় অবৈধভাবে ড্রোন পাঠিয়েছে দক্ষিণ কোরিয়ার সেনাবাহিনী। উত্তর কোরিরার রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যম কেসিএনএ গতকাল সোমবার এ খবর জানিয়েছে। এটিকে সার্বভৌমত্বের মারাত্মক লঙ্ঘন হিসেবে অভিহিত করেছে দেশটির প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়। রাজনৈতিক উদ্দেশ্য হাসিলের জন্য দক্ষিণ কোরীয় সেনাবাহিনীর এই পদক্ষেপের নিন্দা জানিয়েছে পিয়ংইয়ং।
প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় থেকে প্রকাশিত বিবৃতিতে বলা হয়, চলতি মাসে অন্তত তিনবার তাদের রাজধানী শহরের ওপর দিয়ে ড্রোন উড়িয়েছে উত্তর কোরিয়া। ড্রোন থেকে উত্তর কোরিয়াবিরোধী লিফলেট ফেলা হয়েছে বলেও জানানো হয় বিবৃতিতে। কেসিএনএ থেকে বিধ্বস্ত কিছু ড্রোনের ছবি প্রকাশ করা হয়েছে। তাদের দাবি, এগুলো দক্ষিণ কোরিয়ার সামরিক বাহিনীর ড্রোন।
উত্তর কোরিয়া কর্র্তৃপক্ষ জানিয়েছে, বিধ্বস্ত ড্রোনের ফ্লাইট কন্ট্রোল প্রোগ্রাম বিশ্লেষণ করে ২৩০টির বেশি ফ্লাইট প্ল্যান ও লগের তথ্য পেয়েছে তারা। ২০২৩ সালের জুন মাস থেকে ‘রাজনৈতিক অপপ্রচার’ চালাতে এই ড্রোন ব্যবহৃত হয়েছে বলে অভিযোগ তাদের। গত ৮ অক্টোবর ধারণকৃত এক ভিডিওতে কথিত ড্রোনটিকে দক্ষিণ কোরিয়ার সীমান্তবর্তী দ্বীপ বায়েংনিয়ংডো থেকে গভীর রাতে উড্ডয়ন করতে দেখা যায়। এর কয়েক ঘণ্টা পর পিয়ংইয়ংয়ে অবস্থিত পররাষ্ট্র ও প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের ভবনের ওপর লিফলেট বিলি করতে দেখা যায় ড্রোনটিকে। পিয়ংইয়ংয়ের অভিযোগের বিষয়ে সরাসরি মন্তব্য করেনি দক্ষিণ কোরিয়ার প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়। সিউল জানিয়েছে, পিয়ংইয়ংয়ের একপক্ষীয় দাবি যাচাই করা বা অভিযোগের জবাব দেওয়ার প্রয়োজনীয়তা বোধ করছে না তারা।
এদিকে, উত্তর কোরিয়ার একজন মুখপাত্র কেসিএনএকে বলেছেন, দক্ষিণ কোরিয়া আবার যদি তাদের সার্বভৌমত্বে আঘাত হানে, তাহলে ‘নির্দয় আক্রমণের’ মাধ্যমে তা প্রতিহত করা হবে। সাম্প্রতিক সময়ে উত্তর কোরিয়ার বিরুদ্ধে আবর্জনাবোঝাই বেলুন দক্ষিণ কোরিয়ার সীমানায় পাঠানোর অভিযোগ করেছে সিউল। গত বৃহস্পতিবার দক্ষিণ কোরিয়ার প্রেসিডেন্ট কার্যালয় প্রাঙ্গণে উত্তর কোরিয়ার আবর্জনাভর্তি একটি বেলুন উড়ে আসে। বেলুনে দক্ষিণ কোরিয়ার প্রেসিডেন্ট ইউন সুক ইওল ও তার স্ত্রীকে বিদ্রুপ করে লেখা প্রচারপত্র ছিল বলে জানানো হয়। দুই দেশের বৈরিতার মধ্যে এই পাল্টাপাল্টি অভিযোগ কোরীয় উপদ্বীপে নতুন সংকটের সৃষ্টি করতে পারে বলে শঙ্কা প্রকাশ করেছেন রাজনীতি-বিশ্লেষকরা।
