বিএসসির বহরে আসছে কনটেইনার জাহাজ

আপডেট : ২৯ অক্টোবর ২০২৪, ০২:১৮ এএম

বর্তমানে দেশের পতাকাবাহী ১০২টি জাহাজের মধ্যে মাত্র আটটি জাহাজ কনটেইনারবাহী। সেগুলোও বেসরকারি কোম্পানির মালিকানাধীন। এবার রাষ্ট্রায়ত্ত প্রতিষ্ঠান বাংলাদেশ শিপিং করপোরেশনের (বিএসসি) বহরে যোগ হচ্ছে ছয়টি কনটেইনারবাহী জাহাজ।

চট্টগ্রাম বন্দরে প্রতি বছর প্রায় ৩০ লাখের বেশি কনটেইনার হ্যান্ডেলিং হয়। অথচ আইনি সুরক্ষা ও অগ্রাধিকার থাকলেও এর সুবিধা নিতে পারছে না বাংলাদেশ। এ কারণে এখন এই খাতে বিনিয়োগের উদ্যোগ নিয়েছে বিএসসি। কোরিয়া থেকে কেনা হচ্ছে কনটেইনারবাহী নতুন এসব জাহাজ।

নতুন জাহাজ কেনার কথা জানিয়ে বিএসসি ব্যবস্থাপনা পরিচালক কমোডর মাহমুদুল মালেক দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘কনটেইনার পরিবহনে চট্টগ্রাম বন্দরের যে প্রবৃদ্ধি বাড়ছে, তাই কনটেইনারবাহী জাহাজে বিশাল সম্ভাবনা দেখা যাচ্ছে। একসময় আমাদের আমদানি-রপ্তানি পণ্য কম ছিল বলে এই খাতে বিনিয়োগ করে লাভের আশা কম ছিল। তবে এখন পরিস্থিতি পাল্টে গেছে। বিএসসি এই খাতে বিনিয়োগের মাধ্যমে কনটেইনারবাহী জাহাজ যুক্ত করার উদ্যোগ নিয়েছে। আর তা হলে দেশের বৈদেশিক মুদ্রা আরও সাশ্রয় হবে।’ এ ছাড়া দুটি বিশেষায়িত অয়েল ট্যাংকার জাহাজ চীন থেকে কেনার বিষয়টি প্রক্রিয়াধীন।

উল্লেখ্য, বাংলাদেশ সমুদ্র বাণিজ্য অধিদপ্তরের তালিকা অনুযায়ী, বিএসসির সমুদ্রগামী জাহাজ রয়েছে সাতটি। এর মধ্যে সম্প্রতি আগুন লেগে জ¦ালানি তেল ও গ্যাসবাহী দুটি জাহাজ পুড়ে গেছে।

শিল্প গ্রুপের মধ্যে কেএসআরএমের ২৬টি, মেঘনা গ্রুপের ২৪টি, আকিজ গ্রুপের ১০টি, এইচআর শিপিংয়ের ৮টি, বসুন্ধরা গ্রুপের ৬টি, ভ্যানগার্ড গ্রুপের ৭টি, ক্রাউন গ্রুপের ৩টি, ডরিয়া, হানিফ ও পিএনএন প্রত্যেকের ২টি করে, সানশাইন, পিএইচ, টিকে, ডরিয়েন ও এমজেএল প্রত্যেকের ১টি করে জাহাজ রয়েছে। বৈদেশিক মুদ্রা সাশ্রয়ের বিষয়ে কথা হয় বাংলাদেশ শিপিং এজেন্ট অ্যাসোসিয়েশনের প্রেসিডেন্ট সৈয়দ মোহাম্মদ আরিফের সঙ্গে। তিনি বলেন, ‘বাংলাদেশি পতাকাবাহী জাহাজ হলে বাংলাদেশি নাবিকদের যেমন কর্মসংস্থান হবে তেমনিভাবে তাদের বেতনের টাকাও দেশে থাকবে, ডলার হয়ে বাইরে যাবে না। আবার এসব জাহাজের ভাড়ার টাকাও দেশে থাকবে। অন্যদিকে পণ্য আনা-নেওয়ার ভাড়ার টাকাও ডলার হিসেবে দেশে ঢুকবে। অর্থাৎ দেশ পুরো সুবিধা পাবে। কিন্তু সমস্যা হচ্ছে, আমাদের কনটেইনারবাহী জাহাজ নেই।’

জানা যায়, জি টু জি চুক্তির মাধ্যমে দক্ষিণ কোরিয়া থেকে ৩ হাজার ৫৩৪ কোটি টাকায় ছয়টি জাহাজ কেনা হবে। প্রতিটি জাহাজের কনটেইনার বহন সক্ষমতা থাকছে দুই থেকে আড়াই হাজার টিইইউএস (একক কনটেইনার)। সরকারের শীর্ষ পর্যায়ে চুক্তি স্বাক্ষরের ৩০ থেকে ৩৬ মাসের মধ্যে জাহাজগুলো বুঝে পাওয়ার আশা করছে বিএসসি।

শিপিং সেক্টরের অভিজ্ঞদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, বাংলাদেশি পতাকাবাহী জাহাজের সংখ্যা বাড়লে অবশ্যই এর সুবিধা মিলবে। বর্তমানে বাংলাদেশি পতাকাবাহী ১০২টি জাহাজের মধ্যে ৮টি কনটেইনারবাহী, ৭৯টি বাল্ক পণ্যবাহী, ৬টি ট্যাংকার, ৫টি অয়েল ট্যাংকার, ৩টি গ্যাস কেরিয়ার এবং ১টি কার্গো শিপ।

উপাত্ত বিশ্লেষণ করে দেখা যায়, যে আটটি কনটেইনারবাহী জাহাজ দেশের পতাকা নিয়ে যুক্ত হয়েছে সেগুলো এইচআর শিপিংয়ের। ২০২০ থেকে ২০২২ সালের মধ্যে যুক্ত হওয়া এই আটটি জাহাজের পর আর কোনো কনটেইনারবাহী জাহাজে দেশের পতাকা ওঠেনি।

বাংলাদেশ মেরিন অফিসার্স অ্যাসোসিয়েশনের প্রেসিডেন্ট ক্যাপ্টেন আনাম চৌধুরী দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘ফ্ল্যাগ (পতাকা) প্রোটেকশন আইনে বাংলাদেশি পতাকাবাহী জাহাজ দেশের মোট পণ্যের ৪০ শতাংশ কনটেইনার পরিবহন করতে পারবে, ৪০ শতাংশ বিদেশি পতাকাবাহী জাহাজ দিয়ে এবং বাকি ২০ শতাংশ কনটেইনার চাইলে বাংলাদেশি বা বিদেশি পতাকাবাহী জাহাজ দিয়ে পরিবহনের সুবিধা রয়েছে। এখন দেশীয় পতাকার জাহাজ যত বাড়বে কনটেইনার পরিবহনে তত বেশি সুবিধা পাওয়া যাবে এবং বাংলাদেশি নাবিকরা চাকরির সুযোগ পাবেন।

শুধু চাকরি নয়, চট্টগ্রাম বন্দরে ভেড়ানোর ক্ষেত্রেও বাড়তি অগ্রাধিকার রয়েছে দেশীয় পতাকাবাহী জাহাজের ক্ষেত্রে। এ বিষয়ে চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষের সচিব ওমর ফারুক বলেন, ‘দেশীয় পতাকাবাহী জাহাজগুলো ফ্ল্যাগ প্রোটেকশন আইনের কারণে বার্থিংয়ের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার পেয়ে থাকে।’ কর্মসংস্থানের বিষয়ে বিএসসির ব্যবস্থাপনা পরিচালক কমোডর মাহমুদুল মালেক বলেন, ‘আমাদের বর্তমান জাহাজগুলোর নাবিকদের সবাই বাংলাদেশি। আগামীতেও আমাদের নাবিকরাই আমাদের পতাকাবাহী জাহাজে কর্মসংস্থানের সুযোগ পাবে। আমাদের জাহাজ থাকলে দেশে নাবিকের সংখ্যা আরও বাড়বে।’

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত