পরীমণি, নামটাই আলোচনার জন্য যথেষ্ট। তবে ক্যারিয়ারে কাজের চেয়ে ব্যক্তিগত বিষয়েই বরাবর আলোচনা-সমালোচনায় থাকেন তিনি। দিনভর তাকে নিয়ে নানা চর্চা হলেও এসবে একদমই ভ্রুক্ষেপ নেই তার। তিনি থাকেন তার মতো করে।
অনেকদিন তাকে পর্দায় পাওয়া যাচ্ছিল না। এর মধ্যেই নতুন খবর নিয়ে হাজির হলেন। জানালেন তার অভিনীত প্রথম ওয়েব সিরিজ ‘রঙিলা কিতাব’ মুক্তির দিনক্ষণ। অন্তর্জালে উন্মুক্ত হয়েছে সিরিজটির ট্রেলার। মুক্তির পর রীতিমতো প্রশংসায় ভাসছেন পরী, যেটা সচরাচর খুব কমই দেখা যায় তার ক্ষেত্রে। তার নামের সঙ্গে প্রশংসার ঝুলির চেয়ে সমালোচিত তকমাটিই যেন বেশি ব্যবহার করা হয়। তবে সেসব ছাপিয়ে অন্য পরী হয়ে এসেছেন তিনি আর কুড়াচ্ছেন দর্শক মহলের ভালোবাসা।
মুক্তি পাওয়া সিরিজটির ট্রেলারে পরীকে দেখা গেছে একজন অন্তঃসত্ত্বা মা, সুপ্তি চরিত্রে। একদম চিরচেনা গ্ল্যামার থেকে বেরিয়ে সাদামাটা রূপে অভিনেত্রী হয়ে ধরা দিয়েছেন তিনি। ট্রেলার দেখার পর বেশিরভাগ দর্শকের এমনটাই মন্তব্য। এ যেন অন্য এক পরী।
সিরিজটি জুড়ে টান টান উত্তেজনার মধ্যে দুর্দান্ত এক প্রেমের গল্প বলা হয়েছে। যা ট্রেলার থেকেই অনুমান করা যাচ্ছে। ট্রেলারটি প্রকাশের পর অন্তর্জালে চলছে দর্শক-সমালোচকদের মুগ্ধ প্রতিক্রিয়া। কেউ কেউ বলছেন, এখন পর্যন্ত এটি যেন পরীর সেরা কাজ! তবে বাকিটা সিরিজ মুক্তির পরই বলা যাবে। নিজের অভিনীত প্রথম সিরিজ নিয়ে স্বভাবতই বেশ উচ্ছ্বসিত পরীমণি। প্রচারণায়ও রাখছেন না কোনো কমতি। স্মৃতির ঝাপটি খুলে কাজটি করতে গিয়ে নিজের অভিজ্ঞতার কথা জানান দিচ্ছেন সবাইকে।
এই নায়িকা বললেন, ‘আমি ছাড়া সুপ্তি চরিত্রটি হতো না। সুপ্তিকে আমার দরকার হতো। অন্তত আমার জীবনে একটা ক্ষুধা থেকে যেত যে আমি সুপ্তি চরিত্রটি করতে পারিনি। আকাক্সক্ষাটা আমার মধ্যে থেকে যেত। আমি কোনো আফসোস জীবনে রাখতে চাই না। তাই সুপ্তি চরিত্রটি করে ফেলেছি।’ নিজের খেয়ালখুশি মতো চলা, যা ভালো লাগে বলে দেওয়া এবং খারাপ লাগার বিষয়ও মুখের ওপর অকপটে বলে দিতেই যেন স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করেন তিনি। সেসব প্রসঙ্গ টেনে পরী আরও বলেন, ‘নায়িকা টায়িকা বুঝি না। আমি একজন মানুষ। মানুষ হয়ে আসছি, মানুষ হয়ে যেতে চাই। মাঝখানে যা যা হয়েছে, তারমধ্যে কোনো রাখঢাক আমি রাখতে চাই না। যেমন এই প্রেম বলো, বিয়ে বলো, বাচ্চা বলো, ডিভোর্স বলো এবং বুড়ো হওয়ার ব্যাপারটা বলো এই বয়স লুকানোটা আমার কাছে অনেকটা আরোপিত বিষয় মনে হয়। আমি কোনো কিছু লুকাতে চাই না, আমি যা, আমি তাই।’
বরিশালের মতো একটা মফস্বল শহরে প্রদীপ ও সুপ্তির সুখের সংসার। নতুন জীবন শুরু হওয়ার আগেই মিথ্যা অভিযোগে সবকিছু এলোমেলো হতে থাকে। প্রদীপের জীবনের অতীত তাড়িয়ে নিয়ে বেড়ায় তাদের। গর্ভবতী সুপ্তিও ছুটতে থাকে তার প্রাণ প্রিয় স্বামীর সঙ্গে। এমনই এক প্রেক্ষাপটে নির্মিত হয়েছে ‘রঙিলা কিতাব’।
কিঙ্কর আহসানের উপন্যাস অবলম্বনে ‘রঙিলা কিতাব’ নির্মাণ করেছেন অনম বিশ্বাস। এতে পরীমণির সঙ্গে জুটি বেঁধে অভিনয় করেছেন মোস্তাফিজুর নূর ইমরান। এখানে আরও অভিনয় করেছেন ফজলুর রহমান বাবু, মনোজ প্রামাণিক, ইরেশ জাকের, শিল্পী সরকার অপু প্রমুখ। আগামী ৮ নভেম্বর ওটিটি প্ল্যাটফর্ম হইচইতে সিরিজটি মুক্তি পাবে।
উল্লেখ্য, শোবিজের শুরুটা নাটক দিয়ে হলেও পরীমণি আলোচনায় আসেন চলচ্চিত্রে অভিনয় করে। ২০১৫ সালে তার প্রথম চলচ্চিত্র ‘ভালোবাসা সীমাহীন’ মুক্তি পায়। শাহ আলম মণ্ডল পরিচালিত ছবিটিতে অভিনয়ের পর কেটে গেছে লম্বা সময়। এরপর গিয়াস উদ্দিন সেলিমের ‘স্বপ্নজাল’ চলচ্চিত্রে অভিনয় করে প্রশংসিত হন। মুক্তির অপেক্ষায় রয়েছে তার কলকাতার সিনেমা ‘ফেলুবক্সী’।
