৩ ইউপিডিএফ কর্মীকে গুলি করে হত্যা

আপডেট : ৩১ অক্টোবর ২০২৪, ০৭:২০ এএম

খাগড়াছড়ি জেলার পানছড়ি লতিবান ইউনিয়নে ইউপিডিএফের তিন কর্মীকে গুলি করে হত্যা করেছে দুর্বৃত্তরা। পানছড়ি উপজেলার লতিবান ইউনিয়নের শান্তি রঞ্জনপাড়ায় গতকাল বুধবার সকাল সাড়ে ১০টার দিকে এ ঘটনা ঘটে। ইউপিডিএফের মুখপাত্র নিরন চাকমা তাদের তিন কর্মীকে হত্যার দাবি করে ঘটনার জন্য প্রতিপক্ষ সংগঠনকে দায়ী করেছে। এ ঘটনার প্রতিবাদে আজ বৃহস্পতিবার জেলায় সকাল-সন্ধ্যা সড়ক অবরোধ ডাক দিয়েছে। পুলিশ জানিয়েছে, আঞ্চলিক রাজনৈতিক দলগুলোর আধিপত্য বিস্তারের জেরে এমন ঘটনা ঘটেছে। ইউপিডিএফের এক বিবৃতিতে দাবি করা হয়, ১৩-১৪ জনের একদল সশস্ত্র সন্ত্রাসী ওই এলাকায় ঢুকে ইউপিডিএফ কর্মীদের ওপর হামলা চালায়। এতে ঘটনাস্থলে নিহত হন মন্যা চাকমা ওরফে সিজন (৫০), খরকসেন ত্রিপুরা ওরফে শাসন (৩৫) ও পরান্টু চাকমা ওরফে জয়েন (২২)। মন্যা চাকমা বাড়ি লতিবান ইউনিয়নের চন্দ্রনাথপাড়ায়। অন্য দুজনের বাড়ি ভাইবোনছড়া ইউনিয়নের নতুন বাগান প্রকল্প এলাকায়।

ইউপিডিএফর জেলা সংগঠক অংগ্য মারমা জানান, নিহত ব্যক্তিরা পাহাড়ের আঞ্চলিক দল ইউনাইটেড পিপলস ডেমোক্রেটিক ফ্রন্টের (ইউপিডিএফ) কর্মী। তারা সাংগঠনিক কাজে ওই গ্রামে গিয়েছিলেন। সন্ত্রাসীরা তাদের ওপর গুলি চালিয়ে পালিয়ে যায়। তিনি ঘটনার জন্য নব্য মুখোশ বাহিনীর সন্ত্রাসীদের দায়ী করে তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়েছেন।

লতিবান ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান ভূমি ধর ত্রিপুরা ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, সকালে গুলির শব্দ শোনা গেছে। পরে জানা যায় ওই এলাকার তিনজনকে হত্যা করা হয়েছে। এলাকায় এ নিয়ে থমথমে অবস্থা বিরাজ করছে। তবে কে বা কারা গুলি করেছে, তা তিনি জানে না বলে জানান।

এদিকে পানছড়ি থানার ওসি মোহাম্মদ জসিম জানান, সকালে ওই গ্রামে দুপক্ষের মধ্যে গোলাগুলির খবর পাওয়া গেছে। পরে লতিবান ইউনিয়নের শান্তি রঞ্জন পাড়া থেকে সেনাবাহিনীর সহায়তায় দুপুর আড়াইটায় দিকে মরদেহগুলো উদ্ধার করে থানায় নিয়ে আসা হয়। মরদেহগুলো ময়নাতদন্তের জন্য খাগড়াছড়ি জেলা সদর হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। পরে অভিযোগ পেলে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

এদিকে ইউপিডিএফের তিন কর্মীকে হত্যার প্রতিবাদে আজ বৃহস্পতিবার খাগড়াছড়ি জেলায় সকাল-সন্ধ্যা সড়ক অবরোধের ডাক দিয়েছে ইউপিডিএফ প্রসিত দল।

গত বছরের ১১ ডিসেম্বর পানছড়ির অনিল পাড়ায় ইউপিডিএফের নেতা বিপুল চাকমাসহ চার নেতাকর্মীকে হত্যা করে সন্ত্রাসীরা। তখনো প্রতিপক্ষেকে দায়ী করেছিল ইউপিডিএফ।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত