দেশের প্রখ্যাত লিভার রোগ বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক অধ্যাপক ডা. মবিন খান আর নেই। আজ বৃহস্পতিবার বিকেল সাড়ে তিনটার দিকে রাজধানীর আনোয়ার খান মডার্ন হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান। (ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন)। তিনি এই হাসপাতালে দীর্ঘদিন চিকিৎসাধীন ছিলেন। তার বয়স হয়েছিল ৭৫ বছর।
মবিন খান লিভার সেন্টার কর্তৃপক্ষ ও হাসপাতালের হেপাটোলজি বিভাগের চিকিৎসক ডা. ফজলে ফাহিম গণমাধ্যমকে মৃত্যুর খবরটি নিশ্চিত করেন। এই চিকিৎসক জানান, ডা. মবিন খান বাধ্যর্কজনিত কারণে অসুস্থ ছিলেন। ডায়াবেটিস ও পারকিনসন রোগে আক্রান্ত হয়ে এই হাসপাতালে চিকিৎসা নিচ্ছিলেন। সর্বশেষ তাকে নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রে রাখা হয়েছিল।
এই প্রথিতযশা চিকিৎসকের মৃত্যুতে দেশের চিকিৎসা জগতে শোক নেমে আসে। দেশের অনেক খ্যাতিমান চিকিৎসকই ডা. মবিন খানের ছাত্র। তাকে একনজর দেখতে ধানমন্ডির হাসপাতালে সবাই ভিড় করেন। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে মৃত্যুর খবরের পাশাপাশি তার প্রতি শোক ও শ্রদ্ধা জানান।
ডা. মবিন খান বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বিএসএমএমইউ) সাবেক কোষাধ্যক্ষ ও হেপাটোলজি বিভাগের প্রতিষ্ঠাতা চেয়ারম্যান। হেপাটোলজি সোসাইটির ওয়েবসাইটে ডা. মবিন খানকে ‘ফাদার অব হেপাটোলজি ইন বাংলাদেশ’ উল্লেখ করা হয়েছে। অর্থাৎ তাকে বাংলাদেশে হেপাটোলজির জনক বলা হয়ে থাকে।
ডা. মবিন খানের মৃত্যুতে গভীর শোক প্রকাশ করেছে বিএসএমএমইউ। বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ডা. সায়েদুর রহমান এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে মরহুমের বিদেহী আত্মার মাগফেরাত কামনা করে গভীর শোক প্রকাশ ও শোকসন্তপ্ত পরিবারের প্রতি গভীর সহানুভুতি ও সমবেদনা জ্ঞাপন করেছেন।
মরহুমের নামাজে জানাযা আগামীকাল শুক্রবার সকাল ১১টায় বিএসএমএমইউ-এর কেন্দ্রীয় জামে মসজিদ প্রাঙ্গণে অনুষ্ঠিত হবে। বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার অধ্যাপক ডা. মো. নজরুল ইসলাম নামাজে জানাযায় অংশ নিতে সবাইকে অনুরোধ করেছেন।
অধ্যাপক ডা. মবিন খানের জন্ম ১৯৪৯ সালে। লিভার বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকদের সংগঠন বাংলাদেশ হেপাটোলজি সোসাইটির সভাপতি ছিলেন তিনি। দেশে ও আন্তর্জাতিক পর্যায়ে লিভার রোগ গবেষণায় তার অবদান অসীম।
কমনওয়েলথে বাংলাদেশের তরুণদের ভূমিকা তুলে ধরলেন পররাষ্ট্র উপদেষ্টা
ডলার হিসাবের সুদের সীমা তুলে নিল বাংলাদেশ ব্যাংক