সাত কলেজ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধীনেই থাকবে। তবে শিক্ষার্থীদের প্রশাসনিক কাজকর্মের জন্য ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের মধ্যে আলাদা রেজিস্ট্রারসহ নতুন কাঠামো নির্মাণ করা হবে। তাদের জন্য যে সার্ভিসটা দরকার, সেটা যেন ডেডিকেট ওয়েতে দিতে পারে।
গতকাল বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় ফরেন সার্ভিস একাডেমিতে আয়োজিত এক প্রেস ব্রিফিংয়ে প্রধান উপদেষ্টার প্রেস সচিব শফিকুল আলম এ তথ্য জানান। উপদেষ্টা পরিষদের বৈঠকের সিদ্ধান্ত এবং সমসাময়িক বিষয় নিয়েও ওই সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করা হয়। এ সময় প্রধান উপদেষ্টার উপ-প্রেস সচিব অপূর্ব জাহাঙ্গীর ও আবুল কালাম আজাদ মজুমদার উপস্থিত ছিলেন।
শফিকুল আলম বলেন, আজ (গতকাল) যুব ও ক্রীড়া উপদেষ্টা, শিক্ষা উপদেষ্টা এবং সাত কলেজের প্রতিনিধিরা কথা বলেছেন। সেখানে সিদ্ধান্ত হয়েছে, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের মধ্যে একটা জায়গা ঠিক করা হবে। যেখানে সাত কলেজের প্রশাসনিক কাজ করা হবে। তাদের আলাদা রেজিস্ট্রার থাকবে। পুরো বিষয়টি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় এবং বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের সঙ্গে কথা বলে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে। এ সময় তিনি বলেন, আশা করি এখন আন্দোলনরত শিক্ষার্থীরা তাদের আন্দোলন প্রত্যাহার করে নেবেন।
প্রবাসী শ্রমিকদের বিষয়ে শফিকুল আলম বলেন, সময়সীমার জন্য যেসব বাংলাদেশি শ্রমিক মালয়েশিয়ায় যেতে পারেননি, তাদের পাঠানোর কাজ শুরু করেছে সরকার।
এক প্রশ্নের উত্তরে প্রেস সচিব বলেন, তৈরি পোশাক খাতের শ্রমিকরা যে আন্দোলন করছে, সেটাকে সরকার কোনো ষড়যন্ত্র হিসেবে দেখছে না। দেশে গণঅভ্যুত্থানের পর অনেক কারখানার মালিক পালিয়ে গেছেন, ফলে ওইসব কারখানা বেতন দিতে পারছে না। সেখানে আন্দোলন হচ্ছে। আগেও এরকম কিছু কারখানায় আন্দোলন চলত। এ আন্দোলনকে সরকার কোনো ধরনের অস্থিতিশীলতা তৈরির চেষ্টা হিসেবে দেখছে না বলে তিনি উল্লেখ করেন। তিনি জানান, এই মুহূর্তে তৈরি পোশাক খাতের ৯৯ শতাংশ কারখানা চালু আছে।
নির্বাচন কমিশন গঠনের লক্ষ্যে সরকার যে সার্চ কমিটি করেছে, তারা নিরেপক্ষ ও দক্ষ ব্যক্তিদের খুঁজে বের করবেন বলে আশা প্রকাশ করেন শফিকুল আলম। তিনি বলেন, নির্বাচন কমিশন গঠনের মধ্যে দিয়ে নির্বাচন আয়োজনের কাজ শুরু হয়ে যাবে।
ঢাকা নগরীর যানজটের আশু সমাধানের জন্য সরকার আন্তরিকভাবে কাজ করছে উল্লেখ করে প্রেস সচিব বলেন, গত ১৫ বছর দেশে কুশাসন এমন পর্যায়ে ছিল যে, কেউ তখন কোনো ধরনের আন্দোলন করতে পারেনি। এখন তারা ভাবছে অন্তর্র্বর্তী সরকার জনগণের সরকার, ফলে অনেকে এখন তাদের দাবি নিয়ে মাঠে আন্দোলন করছে। তবে যানজট নিরসনে বর্তমান সরকারের চেষ্টার কোনো কমতি নেই। উপদেষ্টা পরিষদে যানজট নিরসনের উপায় নিয়ে আলোচনা হয়েছে বলে তিনি জানান।
