দেবলীনা সুর জনপ্রিয় সংগীতশিল্পী। রবীন্দ্রসংগীত শিল্পী হিসেবে পরিচিতি রয়েছে তার। তবে এর বাইরে মৌলিক গান ও চলচ্চিত্রের গানও গাইছেন। দেবলীনা শুধু গাওয়া নয়, গান লেখেন, সুরও করেন। এসবের বাইরে দেবলীনার পরিচয় রয়েছে উপস্থাপক হিসেবেও। এই সংগীতশিল্পীর গানের পথের গল্প শুনেছেন মাহতাব হোসেন
পারিবারিক আবহে গান
গানে আসা অনেকটা রক্তে থাকা বিষয়। গানটা পারিবারিকভাবেই আমার সঙ্গে এসেছে। আর আমি তেমনই আবহে বড় হয়েছি, চারপাশের মানুষ, আমার মা, মামা, দাদু, দীদা, পিসি, সবাই এই চর্চার মধ্যেই নিমগ্ন থাকতেন। তাই আমারও সেভাবেই গানটা আত্মস্থ হয়েছে। আর গান বিষয়টা হয়তো খুব আর্লি আমার ভেতরে অবস্থান তৈরি করে নিয়েছে, আমার মাও খুব অল্প বয়স থেকেই গান শেখানো শুরু করেছেন।
স্বপ্ন শান্তিনিকেতন
ছেলেবেলায় শিশুতোষ বই পড়ে শান্তিনিকেতনের শিক্ষার ধরনটা আমার মনে দাগ কেটেছে, মনে হতো আমি যদি এভাবে পড়াশোনা করতে পারতাম। আমার বাবা-মাও স্বপ্ন দেখতেন তাদের সন্তান শান্তিনিকেতনে পড়াশোনা করতে যাবে। শান্তিনিকেতনে তো শুধু সংগীত নয়, সব ধরনের পড়াশোনা হয় সেখানে। যখন সেই স্বপ্ন পূরণ হলো, তখন বোঝার চেষ্টা করতাম আমি কি আনন্দিত? দুখী তো নই, তবে আমার বাড়ি থেকে বহু দূরে, ভিনদেশে পড়তে গিয়েছি, একটা একাকিত্ববোধ তো কাজ করত।
ঠিকানা রবীন্দ্রনাথ
ছেলেবেলায় যখন গান শেখা শুরু করলাম, তখন তো সব গানই গাইতাম। সারগাম থেকে শুরু করে শাস্ত্রীয় সংগীত থেকে ছড়াগান, দেশের গান, রবীন্দ্র, নজরুল, লোকগান, হাছন রাজার গান। কিন্তু ওই সময়ে রবীন্দ্রসংগীত কোথায় যেন ভালো লেগে যায়। যখন শান্তিনিকেতনে পড়তে গেলাম, তখন রবীন্দ্রনাথকে আরও গভীরভাবে জানলাম, তখন ভালো লাগাটা আরও বেড়ে গেল, ভালোবাসায় পরিণত হলো। সেটার পরিণতি হলো এখনকার অবস্থা, সংসার করার মতো। এখন যখন আনন্দ পাই, দুঃখ পাই, একাকিত্ববোধ করি, তাকে খুঁজে পাই।
মঞ্চে পরিচিতি
আমি মঞ্চে অনেক ছোটবেলা থেকে গান করা শুরু করি। যশোর চাঁদের হাটের অধ্যক্ষ ছিলেন আমার মা। সে কারণেই হয়তো চাঁদের সঙ্গে যুক্ত হয়ে যাওয়া। ইচ্ছাকৃতভাবেই মা আমাকে ঘিরে রেখেছিলেন। সে সময় যশোরে অনুষ্ঠান লেগেই থাকত। আর মঞ্চে গান করব এটার কারণে আমার একটা এক্সাইটমেন্ট কাজ করত। শুরু থেকেই আমি একা হারমোনিয়াম বাজিয়ে পারফর্ম করতাম। একবার যশোরের বিডি হল অডিটোরিয়ামে, একতারা বাজাইওনা গানটা গাইলাম আমার সঙ্গে পুরো অডিটোরিয়াম গাইতে শুরু করল, তারপর থেকে সবাই আমাকে আমার ডাক নাম দোলা, এই এক নামেই চিনত।
নেপথ্যে মা
শিশু অবস্থায় নতুন কুঁড়ি পুরস্কার পেয়েছি। তবে সেই ছোটবেলা থেকে আমি যতটুকু ফল পেয়েছি, তা আমার মায়ের কারণে; তিনি আমাকে নিয়ে দৌড়াদৌড়ি করা, সবখানে নিয়ে যাওয়া-আসা করেছেন। আমার পক্ষে হয়তো স্বপ্ন দেখা পর্যন্তই হতো, কিন্তু বাকিটা মা নিয়ে যেতেন। যদি মা না থাকতেন তাহলে হয়তো শান্তিনিকেতন পর্যন্ত যাওয়াটাও কঠিন ছিল।
গান ও গান
আমার রবীন্দ্রসংগীতের অ্যালবাম প্রকাশ হয়েছে ‘কি হাওয়ায় মাতালো’, আমি যখন শান্তিনিকেতনে পড়াশোনা করতাম, তখনই ১০টি গান করেছিলাম। সেটা বাংলাদেশ থেকে প্রকাশ হয়, অ্যালবামের নাম ছিল ‘মাধবী জাগলো বনে।’ ক্যারিয়ারের শুরুতেই আমার মৌলিক গানের অ্যালবাম ‘জল ফড়িং’ প্রকাশ পায়, যেখানের বেশিরভাগ গান আমার লেখা ও সুর করা ছিল। ওই অ্যালবামের গান কিন্তু এখনো মানুষ আমাকে গাইতে বলে।
