অরবিসের পরামর্শ সভায় তথ্য

রেটিনার রোগে বছরে ৪০০ শিশু অন্ধ হওয়ার ঝুঁকিতে

আপডেট : ০৪ নভেম্বর ২০২৪, ০৭:২৩ এএম

শিশু অন্ধত্বের অন্যতম কারণ চোখের রেটিনাজনিত ‘রেটিনোপ্যাথি অব প্রিম্যাচুরিটি’ (আরওপি) রোগের চিকিৎসার কার্যকর ব্যবস্থাপনা না হলে দেশে দৃষ্টিহীন মানুষের সংখ্যা বাড়ার আশঙ্কা করছে ইন্টারন্যাশনাল এজেন্সি ফর দ্য প্রিভেনশন অব ব্লাইন্ডনেসের (আইএপিবি) বাংলাদেশ চ্যাপ্টার।

রেটিনোপ্যাথি অব প্রিম্যাচুরিটি (আরওপি) হলো একটি সম্ভাব্য অন্ধ রোগ, যা চোখের পেছনের অংশকে (রেটিনা) প্রভাবিত করে। এটি কম ওজনের শিশুদের ক্ষেত্রে ঘটতে পারে।

চ্যাপ্টারের চেয়ার ও অপথালমোলজিক্যাল সোসাইটি অব বাংলাদেশের সভাপতি অধ্যাপক ডা. এ এইচ এম এনায়েত হোসেন এ ব্যাপারে সতর্ক করে দিয়ে বলেছেন, আরওপিজনিত দৃষ্টিহীনতা রোধ করতে ব্যর্থ হলে দেশে প্রতি বছর ৪০০ শিশু অন্ধ মানুষের সঙ্গে যুক্ত হবে।

গতকাল রবিবার রাজধানীর একটি হোটেলে অরবিস ইন্টারন্যাশনাল আয়োজিত ‘ন্যাশনাল আরওপি প্রোগ্রাম : অপশন অ্যান্ড অপরচুনিটিজ’ শীর্ষক এক পরামর্শ সভায় এমন সতর্কতা উচ্চারণ করেন এই চক্ষুরোগ বিশেষজ্ঞ।

পরামর্শ সভায় বলা হয়, আরওপি এমন একটি চক্ষুরোগ, যাতে অকালে জন্মগ্রহণকারী শিশুরা আক্রান্ত হয়। অর্থাৎ যেসব শিশু মাতৃগর্ভে ৩৫ সপ্তাহ পূরণের আগেই জন্ম নেয় কিংবা জন্মকালে যাদের ওজন ২ কিলোগ্রামের কম থাকে এমন শিশুরা এই রোগে আক্রান্ত হয়।

জাতিসংঘের তথ্য অনুযায়ী, বাংলাদেশে প্রতি বছর ৩০ লাখের বেশি শিশু জন্ম নেয়। তাদের মধ্যে ১২ দশমিক ৫ শতাংশ বা প্রায় ৪ লাখ শিশু অকালে জন্মগ্রহণ করে।

আরওপি থেকে রক্ষায় রোগটি প্রতিরোধের ওপর গুরুত্বারোপ করেন ডা. এ এইচ এম এনায়েত হোসেন। তিনি বলেন, দেশের কয়েকটি হাসপাতালে আরওপি পরীক্ষার যে আটটি রেটক্যাম্প অর্থাৎ আধুনিক ডিজিটাল ইমেজিং যন্ত্র রয়েছে, সেগুলোকে সম্পূর্ণভাবে কাজে লাগাতে হবে।

সভায় বাংলাদেশ কলেজ অব ফিজিশিয়ানস অ্যান্ড সার্জনসের (বিসিপিএস) প্রেসিডেন্ট অধ্যাপক মোহাম্মদ শহীদুল্লাহ বলেন, দেশে প্রশিক্ষিত মানবসম্পদের অভাবে আরওপি পরীক্ষার হার এখনো কম।

জাতীয় চক্ষুবিজ্ঞান ইনস্টিটিউট ও হাসপাতালের পরিচালক অধ্যাপক ডা. খায়ের আহমেদ চৌধুরী বলেন, চোখের স্বাস্থ্যের জন্য প্রয়োজনীয় মানবসম্পদ তৈরি হলে আরওপি সেবাকে বিকেন্দ্রীকরণ করা যেত।

সভায় বিশেষজ্ঞরা জানান, প্রয়োজনীয় আধুনিক যন্ত্রপাতি থাকা সত্ত্বেও সচেতনতা ও সঠিক রেফারেলের অভাবে বাংলাদেশ কার্যকরভাবে আরওপি ব্যবস্থাপনা করা যাচ্ছে না। পরিস্থিতির পরিবর্তন না হলে এই রোগের ব্যবস্থাপনায় সফলতা আসবে না বলে সতর্ক করেন তারা।

বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিট্রিও রেটিনা বিভাগের অধ্যাপক ডা. নুজহাত চৌধুরী বলেন, অকালে জন্মগ্রহণকারী শিশুদের সময়মতো টারশিয়ারি বা সর্বোচ্চ স্তরের চক্ষু হাসপাতালে রেফার করতে হবে। যেখানে নিকু (নবজাতক নিবিড় পরিচর্যা ইউনিট) এবং স্ক্যানু (বিশেষ যতœ নবজাতক ইউনিট) আছে সেখানে আরওপি পরীক্ষা বাধ্যতামূলক করতে হবে।

চক্ষুরোগ বিশেষজ্ঞ অধ্যাপক ডা. নাজমুন নাহার বলেন, শুধু প্রেসক্রিপশনে লিখলেই হবে না। জন্ম নেওয়া নবজাতকের আরওপি ঝুঁকি সম্পর্কে তার মা-বাবাকে বোঝাতে হবে ও শিশুটিকে পরীক্ষা এবং রেফারেল প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়ে চিকিৎসা দিতে হবে।

অরবিস ইন্টারন্যাশনালের কান্ট্রি ডিরেক্টর ডা. মুনির আহমেদ বলেন, সময়মতো শনাক্ত এবং চিকিৎসা না হলে আরওপি দ্রুত অন্ধত্ব পর্যায়ে যেতে পারে। জন্মের ২০-৩০ দিনের মধ্যে পরীক্ষা এবং আরওপির প্রাথমিক পর্যায়ে চিকিৎসার মাধ্যমে এ রোগের কারণে অন্ধত্ব প্রতিরোধ করা যায়।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত