নির্বাচন নিয়ে বিএনপির দাবি অমূলক নয় বলে মন্তব্য করেছেন পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন এবং পানিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা সৈয়দা রিজওয়ানা হাসান। তিনি বলেছেন, ‘তবে জনগণ আগে সংস্কার চায়। তা ছাড়া, রাজনৈতিক দল বা যে কেউ নির্বাচন নিয়ে কথা বলতে পারে। নির্বাচন এবং সংস্কার দুটো নিয়েই কাজ করছে সরকার।’
গতকাল সোমবার বিশ্ব ‘ওয়ান হেলথ ডে ২০২৪’ উদযাপন উপলক্ষ্যে ঢাকার প্যান প্যাসিফিক সোনারগাঁও হোটেলে আয়োজিত অনুষ্ঠান শেষে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে তিনি এসব কথা বলেন।
সৈয়দা রিজওয়ানা হাসান বলেন, ‘এখনো কিছু কিছু জায়গায় ফ্যাসিবাদের ভিত্তিমূল থেকে গেছে, যারা বিভিন্ন কর্মকাণ্ডে অস্বাভাবিক পরিবেশ তৈরির চেষ্টা করছে। তা ছাড়া, সরকার সেন্টমার্টিন এবং পর্যটন শিল্পকে একসঙ্গে রক্ষা করতে চায়। এ লক্ষে প্রয়োজনীয় সব পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে, এ বিষয়ে বিভ্রান্তি সৃষ্টির কোনো অবকাশ নেই।’
এর আগে বিশ্ব ওয়ান হেলথ ডে ২০২৪ অনুষ্ঠানে পরিবেশ উপদেষ্টা সৈয়দা রিজওয়ানা হাসান বলেন, জনস্বাস্থ্যের সুরক্ষা এবং সংক্রামক রোগ প্রতিরোধে প্রকৃতি, প্রাণিজগৎ এবং পরিবেশের সুরক্ষার দিকে নজর দিতে হবে। বন ও বন্যপ্রাণী রক্ষায় মানবজাতির দৃষ্টিভঙ্গি পরিবর্তন এবং দায়িত্বশীল আচরণ অত্যন্ত জরুরি। বন্যপ্রাণী নিজেদের অধিকার নিয়ে কথা বলতে বা লড়াই করতে পারে না; তাই তাদের অধিকার ও প্রকৃতির অধিকার রক্ষা আমাদের দায়িত্ব। প্রকৃতি ও বন্যপ্রাণীর সঙ্গে শান্তিপূর্ণ সহাবস্থানই আমাদের বিভিন্ন সংক্রামক রোগ হতে মুক্ত রাখতে পারে।’
তিনি আরও বলেন, এক স্বাস্থ্য ধারণা একটি সমন্বিত দৃষ্টিভঙ্গি, যা মানব স্বাস্থ্য, প্রাণী স্বাস্থ্য এবং পরিবেশগত সুস্থতার অভিন্ন সংযোগকে চিহ্নিত করে। তাই এদের মধ্যে আন্তঃসম্পর্ক নিয়ে সচেতনতা বাড়ানোর মাধ্যমে জনগণকে যুক্ত করতে হবে। তা ছাড়া এক স্বাস্থ্য ধারণার ওপর বিভিন্ন কর্মসূচি বাস্তবায়ন করতে হবে। স্থানীয় ও আন্তর্জাতিক অংশীদারিত্বের মাধ্যমে এক স্বাস্থ্য মডেল কার্যকর করার গুরুত্ব তুলে ধরে এই লক্ষ্য অর্জনে সম্মিলিত উদ্যোগের প্রয়োজনীয়তার ওপর জোর দেন তিনি।
এর আগে অনুষ্ঠানে মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা ফরিদা আখতার বলেন, ‘ওয়ান হেলথ এর মধ্যে শুধু মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ; স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ; পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয় থাকলেই হবে না এখানে কৃষি, শিল্প মন্ত্রণালয়সহ অন্যান্য বিভাগকে আওতাভুক্ত করতে হবে। কৃষিতে পেস্টিসাইড, হার্বিসাইড ব্যবহারের ফলে দেশের উৎপাদিত কৃষিপণ্য মানুষ ও প্রাণী স্বাস্থ্যের জন্য মারাত্মক হুমকি হয়ে দাঁড়িয়েছে। তিনি আরও বলেন, আমরা খাদ্য দ্রব্যের উৎপাদন বাড়িয়েছি কিন্তু নিরাপদ খাদ্য উৎপাদনে যথেষ্ট পরিমাণ গুরুত্বারোপ করি নাই। ওয়ান হেলথ অ্যাপ্রোচের মাধ্যমে মানুষ, প্রাণী ও কৃষি উৎপাদন নিয়ন্ত্রণ করা হলে মানব স্বাস্থ্য রক্ষা হবে।
ওয়ান হেলথ বাংলাদেশের জাতীয় সমন্বয়ক প্রফেসর ড. নিতীশ চন্দ্র দেবনাথ অনুষ্ঠানের সূচনা বক্তব্যে বিশ্ব ওয়ান হেলথ দিবস এবং ওয়ান হেলথ সম্বন্ধে বিস্তারিত আলোচনা করেন। তিনি ওয়ান হেলথ কৌশলগত কাঠামো ২০২৪-২০৩০ তুলে ধরে ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা বিষয়ে আলোকপাত করেন। এবং এ উদ্যোগের মাধ্যমে বাংলাদেশের স্বাস্থ্য খাতে টেকসই উন্নয়নের সম্ভাবনাগুলো আরও সুসংহত করার বিষয়ে আলোকপাত করেন। তিনি বলেন, বাংলাদেশে স্বাস্থ্য ও পরিবেশের স্থিতিশীলতা নিশ্চিত করতে এই সমন্বিত পদ্ধতি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে।’
‘ওয়ান হেলথ’ গঠন করতে হলে সহযোগিতা প্রয়োজন এবং এই লক্ষ্যে ইউএসএইড বাংলাদেশে বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে সক্রিয়ভাবে কাজ করে যাচ্ছে বলে জানান তিনি।
স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের স্বাস্থ্যসেবা বিভাগের সিনিয়র সচিব এম এ আকমল হোসেন আজাদ অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য রাখেন, স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের মেডিকেল শিক্ষা ও পরিবার কল্যাণ বিভাগের সচিব ডা. মো. সারোয়ার বারী; বন অধিদপ্তরের প্রধান বন সংরক্ষক মো. আমির হোসাইন চৌধুরী; স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক প্রফেসর ডা. মো. আবু জাফর; বাংলাদেশে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার (ডঐঙ) অফিসের ভারপ্রাপ্ত প্রতিনিধি ডা. রাজেশ নারওয়াল; বাংলাদেশে এফএওর প্রতিনিধি ঝিয়াওকুন শি; ওয়ান হেলথ সেক্রেটারিয়াট সমন্বয় কমিটির চেয়ার প্রফেসর ডা. তাহমিনা শিরিন প্রমুখ।
অনুষ্ঠানে ওয়ান হেলথ প্রতিযোগিতা ২০২৩ ও ২০২৪-এর বিজয়ীদের মধ্যে পুরস্কার বিতরণ করা হয়।
