ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর শীর্ষ সহযোগী এলিজার ফেল্ডস্টেইনকে গ্রেপ্তার করেছে দেশটির পুলিশ। বিদেশি গণমাধ্যমে গোপন তথ্য ফাঁস করার অভিযোগে গত সোমবার তাকে গ্রেপ্তার করে ইসরায়েলি পুলিশ। ইসরায়েলের বিরোধী নেতারা বলছেন, ফাঁস করা গোয়েন্দা তথ্য ছিল ‘ভুয়া’। ফিলিস্তিনের গাজায় যুদ্ধবিরতি ও জিম্মি মুক্তির লক্ষ্যে একটি সম্ভাব্য চুক্তিকে নস্যাৎ করার চক্রান্তের অংশ ছিল এই কাজ।
তদন্তকারিদের অভিযোগ, ফিলিস্তিনি স্বাধীনতাকামী সশস্ত্র সংগঠন হামাস মিসরীয় সীমান্ত দিয়ে গাজা থেকে জিম্মিদের পাচারের পরিকল্পনা করছে-ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় থেকে বিদেশি গণমাধ্যমের কাছে এমন কথা প্রচার করা হয়েছে। এ ছাড়া নেতানিয়াহু জিম্মি মুক্তি এবং যুদ্ধবিরতি চুক্তিতে চাপ দেওয়ার জন্য ইসরায়েলি সমাজে বিভাজন তৈরি করছে এমন তথ্য ছড়ানোর অভিযোগও এনেছেন তারা।
ইসরায়েলি আদালতের নথির তথ্যমতে, গোপন ও স্পর্শকাতর গোয়েন্দা তথ্য ফাঁসের অভিযোগে বেশ কিছু ব্যক্তিকে ইতিমধ্যে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়েছে। এসব ব্যক্তিদের মধ্যে রয়েছেন এলিজার ফেল্ডস্টেইন। তাকে নেতানিয়াহুর ঘনিষ্ঠ সহযোগী বলে জানিয়েছেন ইসরায়েলি বিরোধী রাজনীতিকরা। তবে এ বিষয়ে ফেল্ডস্টেইনের বক্তব্য জানার চেষ্টা করে ব্যর্থ হয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের সংবাদ মাধ্যম সিএনএন।
অন্যদিকে ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় থেকে তথ্য ফাঁস হওয়ার কথা অস্বীকার করেছেন নেতানিয়াহুর এক মুখপাত্র। তিনি বলেন, এই ব্যক্তির নিরাপত্তা সংক্রান্ত আলোচনায় অংশগ্রহণের সুযোগ ছিল না এবং তার বিরুদ্ধে এ ধরনের অভিযোগকে তিনি অযৌক্তিক বলে অভিহিত করেছেন।
এদিকে, ফিলিস্তিনের গাজা উপত্যকায় ইসরায়েলি বাহিনীর নির্বিচার হামলার নিহতের সংখ্যা ৪৩ হাজার ৩০০ ছাড়িয়ে গেছে। গতকাল মঙ্গলবার গাজাসহ বিভিন্ন অঞ্চলে হামলায় ৫৪ জন নিহত হয়েছেন। দ্বিতীয়বারের মতো উত্তর গাজার কামাল আদওয়ান হাসপাতালে হামলা চালিয়েছে ইসরায়েলি বাহিনী। হামলায় সদ্যজাত এক শিশুসহ বেশ কয়েকজন চিকিৎসাকর্মীসহ গুরুতর আহত হয়েছেন। ধ্বংসপ্রাপ্ত হয়েছে হাসপাতালটির চিকিৎসা সরঞ্জামের একটি বড় অংশ।
এদিকে, অধিকৃত পশ্চিম তীরের ব্যক্তি মালিকাধীন ও সরকারি অবকাঠামো ধ্বংসের অভিযোগ উঠেছে ইসরায়েলের বিরুদ্ধে। সেখানকার তুলকারেম ও নূর শামস শরণার্থী শিবির এলাকায় ইসরায়েলি বাহিনী বুলডোজার ব্যবহার করে বহু ভবন গুড়িয়ে দেওয়া হয়েছে। তুলকারেম এলাকায় রাস্তার মারাত্মক ক্ষতি সাধন ও অঞ্চলটির প্রধান পানি সরবরাহ কেন্দ্র গুড়িয়ে দেওয়া হয়েছে। এ ছাড়া নূর শামস শরণার্থী শিবির এলাকায় একটি দোকান আগুনে পুড়িয়ে দেওয়ার ঘটনাও ঘটেছে।
