কুমিল্লার মুরাদনগর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসক সংকটে রোগীদের সেবা দিতে হিমশিম খাচ্ছেন কর্তৃপক্ষ। উপজেলার ৯ লাখ ৩৪ হাজার ৮৮০ জন মানুষের জন্য রয়েছেন মাত্র ১৭ জন চিকিৎসক। এর মধ্যে দুয়েকজন আবার ট্রেনিং, সভা-সেমিনারসহ বিভিন্ন কর্মসূচিতে ব্যস্ত থাকেন। ফলে তাৎক্ষণিক সেবা থেকে বঞ্চিত হয়ে পড়ছেন চিকিৎসা নিতে আসা রোগীরা। অপ্রত্যাশিত শারীরিক জটিলতায় অনেক সময় রোগীর জীবন বিপন্ন হওয়ার আশঙ্কা দেখা দিচ্ছে।
হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, ৫০ শয্যাবিশিষ্ট এ স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে সাধারণ ও বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের পদ ৩৭টি। তার মধ্যে ১২টি পদই শূন্য। একজন বিশেষজ্ঞসহ চারজন রয়েছেন প্রেষণে। তা ছাড়া চারজন বিনা অনুমতিতে দীর্ঘদিন কর্মস্থলে অনুপস্থিত। ফলে হাসপাতালে উপস্থিত থাকছেন মাত্র ১৭ জন চিকিৎসক। অন্যদিকে এই উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের অধীনে জনসংখ্যা ৯ লাখ ৩৪ হাজার ৮৮০ জন। সে হিসেবে এ উপজেলায় প্রায় ৫৫ হাজার মানুষের বিপরীতে চিকিৎসকের সংখ্যা মাত্র একজন। আর ১৮ হাজার ৬৯৮ জন মানুষের বিপরীতে হাসপাতালে শয্যা সংখ্যা মাত্র একটি।
খোঁজ নিয়ে আরও জানা যায়, এখানে বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের পদ অনুযায়ী শুধু মেডিসিন, কার্ডিওলজি, গাইনি, অ্যানেস্থেশিয়া, শিশু ও অর্থোপেডিক বিভাগের চিকিৎসক রয়েছেন। দীর্ঘদিন ধরে নেই সার্জারি, ইএনটি (নাক-কান-গলা), অপথালমোলজি (চোখ), ডার্মাটোলজি (চর্ম) রোগের বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক। ফলে বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের অভাবে অন্য রোগের বিশেষজ্ঞকে দিয়ে সেবা নিতে বাধ্য হচ্ছেন সেবাগ্রহিতারা।
এদিকে আবার গ্রামের তৃণমূল মানুষের মধ্যে স্বাস্থ্যসেবা পৌঁছাতে ২২টি ইউনিয়ন পরিষদের জন্য ২২ জন চিকিৎসকের কথা থাকলেও আছেন মাত্র তিনজন। তার মধ্যে নবীপুর পূর্ব ইউনিয়নের একজন বাদে বাকি দুজনও উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সেই রোগী দেখেন।
চিকিৎসাসেবা নিতে আসা শিক্ষক বেলাল উদ্দিন আহাম্মদ বলেন, ‘ডাক্তার কম থাকায় আমাদের দীর্ঘসময় লাইনে দাঁড়িয়ে থাকতে হচ্ছে। দূর-দুরান্ত থেকে চিকিৎসা নিতে আসা রোগীদের অনেক ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে। বিশেষ করে মহিলা ও শিশুদের ভোগান্তিটা একটু বেশি হয়। আবার বেশির ভাগ সময়ে এখানে রোগীর ভর্তির ক্ষেত্রে শয্যা পাওয়া যায় না, তাই ফ্লোরে শুয়ে চিকিৎসাসেবা নিতে হয়। ডাক্তার বেশি থাকলে ও শয্যার সংখ্যা যদি বাড়ানো হতো তাহলে আমাদের আরও উপকার হতো। তা ছাড়া শুনেছি, দীর্ঘদিন ধরে নাকি এখানে সার্জারি, চর্ম, নাক-কান-গলা ও চোখের কোনো বিশেষজ্ঞ ডাক্তার নেই। যে সব পদে বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক নেই সেসব পদে চিকিৎসক দেওয়ার জন্য কর্তৃপক্ষের দৃষ্টি আকর্ষণ করছি।’
এ ব্যাপারে মুরাদনগর উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. এনামুল হক বলেন, ‘এখানে রোগীর আনুপাতিক হারে মেডিকেল অফিসার ও বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকদের যথেষ্ট অভাব রয়েছে। তারপরও আমরা আমাদের সামর্থ্য অনুযায়ী রোগীদের সেবা দিতে চেষ্টা করে যাচ্ছি। এই হাসপাতালে সার্জারি বিশেষজ্ঞ না থাকার কারণে অধিকাংশ সময় আমাদের সার্জারির রোগীদের সেবা দিতে খুব বেগ পেতে হয়।’
তিনি আরও বলেন, ‘বহির্বিভাগে প্রতিদিন গড়ে ৭ থেকে ৮ শতাধিক এবং আন্তর্বিভাগে সবসময় ৬৫ থেকে ৭০ জন রোগী ভর্তি থেকে নিয়মিত চিকিৎসাসেবা নিচ্ছেন। এ ছাড়া জরুরি বিভাগে দৈনিক ৭০ থেকে ৮০ জন রোগী চিকিৎসা নিয়ে থাকেন। কখনো কখনো এ সংখ্যা শতাধিকে গিয়ে দাঁড়ায়। পর্যাপ্ত চিকিৎসক এবং পর্যাপ্ত শয্যার ব্যবস্থা হলে কোনো রোগীকেই আর শহরমুখী হতে হবে না।’
