খুলে দেওয়া হয়েছে হাজারি গলির দোকানপাট

আপডেট : ০৮ নভেম্বর ২০২৪, ০৫:৩৫ এএম

স্বাভাবিক হয়ে আসছে হাজারি গলি। গতকাল বৃহস্পতিবার দুপুরে খুলে দেওয়া হয়েছে সেখানকার সিলগালা করা দোকান। বেড়েছে মানুষের আনাগোনা। নগর পুলিশের উপকমিশনার (অপরাধ) রইছ উদ্দিন গতকাল সন্ধ্যায় দেশ রূপান্তরকে জানান, হাজারি গলির পরিস্থিতি ধীরে ধীরে স্বাভাবিক হয়ে আসছে। সেখানে যৌথ বাহিনীর সদস্যরা সতর্ক অবস্থানে আছেন। নতুন করে কোনো কোনো ধরনের গোলযোগ হয়নি।

গত মঙ্গলবার সনাতন ধর্মের সংগঠন ‘ইসকন’কে নিয়ে এক ব্যবসায়ীর ফেসবুক পোস্টকে কেন্দ্র করে হাজারি গলিতে বিক্ষোভকারীদের সঙ্গে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যদের সংঘর্ষ হয়। সন্ধ্যার পর থেকে রাত ১০টা পর্যন্ত এই সংঘর্ষ চলে। এতে পাঁচজন সেনা সদস্য এবং ৯ জন পুলিশ আহত হয়। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে ফাঁকা গুলি ছোড়া হয়। এ নিয়ে বুধবার দুপুরে নগরের দামপাড়ায় সেনাবাহিনীর ৩৪ ইঞ্জিনিয়ারিং কনস্ট্রাকশন ব্রিগেড ক্যাম্পে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলন করে সেনাবাহিনী। এতে বক্তব্য দেন যৌথ বাহিনীর পক্ষে টাস্কফোর্স-৪ এর মুখপাত্র লেফটেন্যান্ট কর্নেল ফেরদৌস আহমেদ। এরপর একই দিন বিকেল ৩টার দিকে সদর দপ্তরে সংবাদ সম্মেলন করে সিএমপি উপকমিশনার (অপরাধ) রইছ উদ্দিন। তিনি নিরাপত্তা বাহিনীর ওপর হামলার ঘটনায় ইসকন সমর্থকরা জড়িত বলে সাংবাদিকদের জানান। তবে গত বুধবার গণমাধ্যমে বিবৃতি দিয়ে ইসকন বলেছে, তাদের সংগঠনের ভাবমূর্তি ক্ষুণœ করতেই এসব অপপ্রচার চালানো হচ্ছে। সংগঠনটি পুলিশের বক্তব্যের প্রতিবাদও জানান।

সেনাবাহিনীর সংবাদ সম্মেলনে মুখপাত্র লেফটেন্যান্ট কর্নেল ফেরদৌস আহমেদ বলেন, ‘মঙ্গলবার বিকেল সাড়ে ৫টায় মিয়া শপিং সেন্টারের ‘মোল্লা স্টোর’ নামের একটি দোকানের মালিক ওসমান আলী হিন্দুদের ধর্মীয় সংগঠন ইসকন’র বিরুদ্ধে ফেসবুকে একটি পোস্ট শেয়ার করেন। মূলত ওই পোস্টকে কেন্দ্র করে হাজারি গলিতে উত্তেজনার সৃষ্টি হয়। সন্ধ্যার দিকে আনুমানিক ৫০০ থেকে ৬০০ জন দুষ্কৃতিকারী হাজারি গলিতে ওসমান আলী ও তার ভাইকে হত্যা এবং দোকান জ¦ালিয়ে দেওয়ার উদ্দেশ্যে জড়ো হয়। স্থানীয় কন্ট্রোল রুম থেকে প্রাপ্ত তথ্যের ভিত্তিতে সেনাবাহিনী, পুলিশ এবং বিজিবি সদস্যদের ছয়টি টহল দল সেখানে পৌঁছায়।’

জানমাল রক্ষা এবং মব জাস্টিস রোধে যৌথ বাহিনী ওসমান আলী ও তার ভাইকে উদ্ধার করার কথা জানিয়ে সেনা কর্মকর্তা ফেরদৌস বলেন, ‘উত্তেজিত জনতাকে যথাযথ আইনি প্রক্রিয়ার মাধ্যমে সমাধানের বিষয়টি আশ্বস্ত করা সত্ত্বেও একপর্যায়ে উগ্র বিশৃঙ্খলাকারীরা আরও আক্রমণাত্মক হয়ে ওঠেন। ঘটনাস্থলে দুর্বৃত্তরা ইট ছুড়ে সেনাবাহিনীর একটি গাড়ির সামনের কাচ ভেঙে ফেলে। দুর্বৃত্তরা যৌথ বাহিনীর ওপর অতর্কিতভাবে এসিড হামলা চালায়। ইটপাটকেলসহ ভাঙা কাচের বোতল ছুড়ে মারে। এতে সেনাবাহিনীর পাঁচজন, এবং পুলিশের ৯ জন সদস্য আহত হন।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত