দেশে স্টারলিংকের ডিভাইস আনতে বাংলাদেশ টেলিকমিউনিকেশন রেগুলেটরি কমিশন (বিটিআরসি) সম্প্রতি একটি গাইডলাইন তৈরি করেছে বলে জানিয়েছেন বাংলাদেশ বিনিয়োগ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (বিডা) নির্বাহী চেয়ারম্যান চৌধুরী আশিক মাহমুদ বিন হারুন।
সম্প্রতি স্টারলিংক প্রতিনিধিদের সঙ্গে দেখা করেছেন বিডার নির্বাহী চেয়ারম্যান চৗধুরী আশিক মাহমুদ বিন হারুন। তিনি বলেন, স্টারলিংক গত দুই বছর ধরে বাংলাদেশে প্রবেশের চেষ্টা করছে, কিন্তু বিটিআরসির আইনের কারণে তারা আসতে পারছে না।
আজ শনিবার ডিসিসিআইতে ‘তথ্য-প্রযুক্তি খাতের প্রবৃদ্ধির লক্ষ্যে প্রয়োজনীয় সংষ্কার’ শীর্ষক সেমিনারে বিশেষ অতিথির বক্তব্যে বিডার নির্বাহী চেয়ারম্যান এসব কথা বলেন।
বাংলাদেশ টেলিকমিউনিকেশন রেগুলেটরি কমিশন সম্প্রতি স্যাটেলাইট ইন্টারনেট পরিষেবা অপারেটরদের জন্য নির্দেশিকা তৈরি করেছে, যা সম্পূর্ণ বিদেশি মালিকানাধীন কোম্পানিগুলোকে বাংলাদেশে অপারেশনের জন্য লাইসেন্স পেতে সাহায্য করবে।
হারুন বলেন, ‘আমাদের একটি কেস স্টাডি বিবেচনা করা উচিত যেখানে স্টারলিংক রাউটারের মতো ডিভাইসগুলি সম্প্রদায়ের ব্যবহারের জন্য স্থাপন করা হয়।’
‘বাংলাদেশে নন-জিওস্টেশনারি অরবিট স্যাটেলাইট পরিষেবা অপারেটরদের জন্য নিয়ন্ত্রক এবং লাইসেন্সিং নির্দেশিকা’ শীর্ষক নির্দেশিকাগুলি স্টারলিঙ্ক ও এ ধরনের সংস্থাগুলোর জন্য দরজা খুলতে পারে বলেও মনে করেন তিনি।
তিনি বলেন, ‘আমাদের তৈরি পোষাক শিল্পের পর তথ্য-প্রযুক্তি খাত অত্যন্ত সম্ভাবনাময়, যেখানে বিশেষকরে তরুন জনগোষ্ঠীর কর্মসংস্থানের পাশপাশি দেশি-বিদেশি বিনিয়াগ সম্প্রসারণ সম্ভব। দেশে কর্মরত বিদেশি নাগরিকদের অনুমতি প্রদান প্রক্রিয়া সহজীকরণের লক্ষ্যে বিডার পক্ষ হতে কার্যক্রম অব্যাহত রয়েছে।
তিনি আরো বলেন, ‘ডিজিটাল কার্যক্রমের সম্প্রসারণের মাধ্যমে দূনীতি হ্রাস করা সম্ভব। বিডা-এর ফ্রন্ট অফিসে একজন রিলেশনশিপ কর্মকর্তা নিয়োগ করা হবে, যার কাজ হবে সিঙ্গেল ডেস্ক থেকে বিনিয়োগকারীদের সমস্ত পরিষেবা দ্রুত প্রদান করা।’
ডিসিসিআই আয়োজিত সেমিনারে প্রধান উপদেষ্টার আন্তর্জাতিক বিষয় সংক্রান্ত বিশেষ দূত লুৎফে সিদ্দিকী এবং বাংলাদেশ বিনিয়োগ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (বিডা)- নির্বাহী চেয়ারম্যান চৌধুরী আশিক মাহমুদ বিন হারুন যথাক্রমে প্রধান অতিথি ও বিশেষ অতিথি হিসেবে অংশগ্রহণ করেন।
সেমিনারের সূচনা বক্তব্যে ডিসিসিআই সভাপতি আশরাফ আহমেদ বলেন, এখাতে আমাদের কর্মীদের দক্ষতা বাড়ানোর পাশাপাশি উচ্চতর মূল্য সংযোজন পরিসেবা প্রদানের দিকে মনোনিবেশ করতে হবে এবং সেমিকন্ডাক্টর ভ্যালুচেইনে উৎপাদন ক্ষমতা সম্প্রসারিত করতে হবে। এ ছাড়া পণ্যের ডিজাইন, অ্যাসেম্বলি প্যাকেজিং এবং টেস্টিং (এপিটি) প্রভৃতি খাতে আমাদের দক্ষতা বৃদ্ধির ক্ষেত্রে কার্যকর উদ্যোগ গ্রহণ করতে হবে এবং এক্ষেত্রে উদীয়মান আইওটি বাজারের জন্য ইন্টিগ্রেটেড ডিভাইস ম্যানুফ্যাকচারিং (আইডিএম)-এর সুযোগগুলি অনুসরণ করা যেতে পারে।
