আওয়ামী লীগের নেতৃত্ব নিতে যে শর্ত দিলেন সোহেল তাজ

আপডেট : ১০ নভেম্বর ২০২৪, ১০:৫৩ এএম

মুক্তিযুদ্ধ পরিচালনাকারী বাংলাদেশ সরকারের প্রধানমন্ত্রী তাজউদ্দীন আহমদের ছেলে তানজিম আহমদ সোহেল তাজ আওয়ামী লীগের নেতৃত্ব নেওয়া বিষয়ক এক প্রশ্নে ‘শর্ত’ দিয়েছেন। গতকাল শনিবার বিকেলে বাংলা একাডেমির সাহিত্যবিশারদ আব্দুল করিম মিলনায়তনে আয়োজিত এক আলোচনা সভায় অংশ নিতে গিয়ে এই প্রশ্নের মুখে পড়েন তিনি। জবাবে সোহেল তাজ বলেন, ‘নির্দিষ্ট কিছু দায় আওয়ামী লীগ মেনে না নিলে এ দলের নেতৃত্বে আসার প্রশ্নই ওঠে না।’

ঐতিহ্য প্রকাশনীর আয়োজনে কথাসাহিত্যিক অধ্যাপক আহমাদ মোস্তফা কামালের সঞ্চালনায় ‘শতাব্দীর কণ্ঠস্বর তাজউদ্দীন আহমদ : কন্যার চোখে, পুত্রের চোখে’ শীর্ষক এই আলোচনা সভায় যোগ দিয়েছিলেন সোহেল তাজের বড় বোন শারমিন আহমদও।

২০০৯ সালে আওয়ামী লীগ সরকারের স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রীর দায়িত্ব পেয়েছিলেন সোহেল তাজ। তবে পরে ওই পদ ও দল থেকে অভিমানে পদত্যাগ করেন।

গত ৫ আগস্ট আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর থেকে সোহেল তাজ দলটির ক্ষমতায় থাকাকালীন নানা পদক্ষেপ ও নীতির সমালোচনা করছেন। ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে উদ্দেশ্য করেও বিভিন্ন কথা বলেছেন তিনি।

আলোচনার সঞ্চালক তার কাছে জানতে চান, দেশের পরিবর্তিত পরিস্থিতিতে তাজউদ্দীন পরিবার বা সোহেল তাজ আওয়ামী লীগের হাল ধরবেন কি না? জবাবে তিনি বলেন, ‘আওয়ামী লীগের দায়িত্ব তখনই নেওয়ার প্রশ্ন আসবে, আওয়ামী লীগ সংগঠন হিসেবে যখন আত্মসমালোচনা শুরু করবে, আত্মোপলব্ধি করবে, তাদের কর্মকাণ্ডগুলো যখন স্বীকার করবে, যারা আওয়ামী লীগকে নেতৃত্ব দিয়ে ধ্বংসের পথে নিয়ে গেছে তারা জবাবদিহি করবে। যারা হত্যা, গুম, খুনের সাথে জড়িত তাদেরকে বিচারের আওতায় এনে শাস্তি দেবে এবং আওয়ামী লীগ যখন পরিষ্কার হবে, তারপরে তারা যদি চায় আমি নেতৃত্বে আসি, তখন আমি বিবেচনা করব, তার আগে নয়।’

১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে সপরিবারে হত্যার দুই বছর পর যখন আওয়ামী লীগকে পুনরুজ্জীবিত করা হয়, তখন দলটির আহ্বায়ক হন সোহেল তাজের মা জোহরা তাজউদ্দীন। তিনি দলকে সংগঠিত ও ঐক্যবদ্ধ করেন। শেখ হাসিনা ১৯৮১ সালে দেশে এসে দলের সভাপতির দায়িত্ব নেওয়ার পর জোহরা তাজউদ্দীন আওয়ামী লীগের সর্বোচ্চ নীতিনির্ধারণী পর্ষদ সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য ছিলেন। ২০১৩ সালের ২০ ডিসেম্বর মৃত্যুর আগ পর্যন্ত তিনি এই দায়িত্বে ছিলেন। এ প্রসঙ্গ টেনে সঞ্চালক সোহেল তাজের কাছে আওয়ামী লীগের নেতৃত্ব নেওয়ার বিষয়ে প্রশ্ন রাখেন। যদিও ক্ষমতাচ্যুত দলটির পক্ষ থেকে এ বিষয়ে কোনো প্রস্তাব নেই।

আলোচনা সভায় তাজউদ্দীনকন্যা শারমিন আহমদ জানান, সরাসরি রাজনৈতিক দল করার ইচ্ছা তার নেই। তিনি বলেন, ‘তরুণরা যদি মানুষের সেবা করতে সামনে এগিয়ে যেতে চায় তাহলে আমরা পাশে আছি, কিন্তু এই মুহূর্তে একেবারে সরাসরি রাজনৈতিক দল করার চিন্তাভাবনা নেই। আরেকটা বড় রাজনীতি হলো মানুষের সেবা করা, আমরা তাদেরকে সেবা দিচ্ছি।’

শারমিন আহমেদের লেখা ‘নেতা ও পিতা’ বইটির নতুন সংস্করণ প্রকাশ করেছে প্রকাশনা সংস্থা ঐতিহ্য। শারমিন তার লেখা ‘নেতা ও পিতা’ বই থেকে তাজউদ্দীন ও মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস তুলে ধরেন এবং তরুণ প্রজন্মকে ‘আসল ইতিহাস’ অনুসন্ধান করার আহ্বান জানান।

তিনি বলেন, ‘অনেক পিলারের উপর ইতিহাস দাঁড়ায়। কিন্তু তারা একটা বঙ্গবন্ধু পিলারের উপর সবকিছু দাঁড় করিয়ে দিলেন, একজন নেতার একটা ন্যারেটিভেই উনারা (আওয়ামী লীগ) সীমাবদ্ধ ছিলেন।’

আলোচনা পর্বের শুরুতে সোহেল তাজ ও শারমিন আহমদের হাতে নতুন সংস্করণের কপি তুলে দেন প্রকাশনা সংস্থাটির প্রধান নির্বাহী আরিফুর রহমান নাইম।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত