শিশু মুনতাহাকে হত্যার বর্ণনা দিলেন গৃহশিক্ষিকা

আপডেট : ১০ নভেম্বর ২০২৪, ০৫:০৩ পিএম

সিলেটের কানাইঘাট উপজেলায় শিশু মুনতাহা আক্তার জেরিনকে (৬) হত্যার ঘটনায় চাঞ্চল্যকর তথ্য পেয়েছে জেলা পুলিশ। এ ঘটনায় এখন পর্যন্ত ছয়জনকে আটক করা হয়েছে। রবিবার (১০ নভেম্বর) দুপুরে সিলেট জেলা পুলিশের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার রফিকুল ইসলাম বিষয়টি নিশ্চিত করেন।

তিনি বলেন, ৩ নভেম্বর মুনতাহার বাবা তার মেয়েকে খুঁজে পাওয়া যাচ্ছে না মর্মে থানায় অবহিত করেন। পরে থানায় একটি জিডি করেন। পরবর্তীতে থানায় এজাহার দায়ের করেলে তদন্তে নামে পুলিশ। তদন্তের সূত্র ধরে মুনতাহার সাবেক গৃহশিক্ষিকা শামিমা বেগম মার্জিয়াকে জিজ্ঞাসাবাদ করে পুলিশ। জিজ্ঞাসাবাদের একপর্যায়ে হত্যার সঙ্গে নিজের সম্পৃক্ততা স্বীকার করেন মার্জিয়া। জিজ্ঞাসাবাদে তিনি জানান, ৩ নভেম্বর সন্ধ্যার দিকে তাদের ঘরে শিশু মুনতাহাকে গলা টিপে ও বস্তাচাপা দিয়ে হত্যা করা হয়।

অতিরিক্ত পুলিশ সুপার রফিকুল ইসলাম বলেন, এ ঘটনায় আরও কিছু মানুষের নাম এসেছে। আমরা তাদেরকে ধরতে অভিযান পরিচালনা করছি। এ ঘটনায় অভিযুক্ত শামিমা বেগম মার্জিয়া, তার মা আলিফজান বেগম ও নানি কুতুবজান বেগম, ইসলাম উদ্দিন, নিজাম উদ্দিন ও নাজমা বেগমকে আটক করা হয়েছে। তারা কানাইঘাটের বাসিন্দা ও শিশু মুনতাহার প্রতিবেশী বলে জানা গেছে।

এদিকে শিশু মুনতাহার মৃত্যুর খবরে দেশজুড়ে চলছে সমালোচনা। বাদ যায়নি সোশ্যাল মিডিয়া। অনেক মুনতাহার মরদেহ উদ্ধারের খবরে মর্মাহত হয়ে ফেসবুকে বিভিন্ন পোস্ট দিচ্ছেন।

মুনতাহার মৃত্যুর খবরে কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল জাজিরার অনুসন্ধানী সাংবাদিক ও মানবাধিকার কর্মী জুলকারনাইন সায়ের নিজের ফেসবুক স্ট্যাটাসে লিখেছেন, ‘এই নিষ্পাপ শিশুটাকে একজন মহিলা যিনি পরিবারটির প্রতিবেশী, বাসার কাছের একটি ডোবায় ফেলে হত্যা করেছে বলে জানা গেছে। সন্দেহভাজন মহিলাকে আটক করা হয়েছে। বাচ্চার মৃতদেহ উদ্ধার হয়েছে। আল্লাহ তুমি এই পশুদের কেন পৃথিবীতে পাঠাও? কেন এদের হাত থেকে এই নিষ্পাপদের রক্ষা করোনা?

আরিফুর রহমান নামের এক ব্যক্তি নিজের ফেসবুক পোস্টে লিখেছেন, ‘আশা ছিল শিশু মুনতাহা সুস্থ অবস্থায় মা-বাবার কোলে ফিরবে।   নিখোঁজের পর থেকে মায়াবী ও ফুটফুটে ছবিটি দেখে নিজের মেয়ের চেহারা চোখের সামনে ভেসে উঠছে। তাই শিশুটির সন্ধান চেয়ে আমিও পোস্ট করেছিলাম। কিন্তু আজ ঘুম থেকে উঠে দেখি বাড়ির পাশ থেকে ডোবায় শিশুটির মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। সংবাদটি দেখার সঙ্গে সঙ্গেই আমি হতবাক হয়ে যাই। এমন মৃত্যু কীভাবে সহ্য করবে তার বাবা-মা। আল্লাহ তুমি এই শিশু হত্যাকারীদের উত্তম বিচার কর।

এরকম হাজারো নেটিজেন তাদের ফেসবুক পোস্টে শিশু মুনতাহার মৃত্যুর খবরে ব্যতীত হয়ে পোস্ট দিচ্ছেন। একইসঙ্গে এই ঘটনায় জড়িতদের কঠোর শাস্তি নিশ্চিতের জাবি জানাচ্ছেন।

প্রসঙ্গত, মুনতাহা আক্তার জেরিন কানাইঘাট উপজেলার সদর ইউনিয়নের বীরদল গ্রামের ভাড়ারিফৌদ গ্রামের শামীম আহমদের মেয়ে। গত ৩ নভেম্বর সকালে বাবার সঙ্গে স্থানীয় একটি ওয়াজ মাহফিল থেকে বাড়ি ফেরে মুনতাহা। দুপুরের দিকে বাড়ির পাশে অন্য শিশুদের সঙ্গে খেলাধুলা করতে যায়। কিন্তু বিকেলে বাড়ি না ফিরলে তার পরিবারের লোকজন খোঁজাখুঁজি করেও কোথাও তাকে পাননি। পরে রবিবার ভোররাতে মুনতাহার বাড়ির পাশের একটি খাল থেকে তার মরদেহ উদ্ধার করা হয়। এরপর সকালে তিন নারীকে আটক করে পুলিশ ও পরবর্তীতে দুপুরে আরও এক নারীসহ তিনজনকে আটক করা হয়।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত