জাতীয় ক্রিকেট লিগের চতুর্থ রাউন্ডের ম্যাচে জয়ের দেখা পেয়েছে চট্টগ্রাম ও রংপুর বিভাগ। ঢাকা বিভাগ ও ঢাকা মেট্রোর ম্যাচ ড্র হয়েছে, খুলনাকে ফলো অন করিয়েও জিততে পারেনি সিলেট।
কক্সবাজারে অমিত হাসানের ডাবল সেঞ্চুরিতে প্রথম ইনিংসে ৭ উইকেটে ৪৯৬ রান করেছিল সিলেট। জবাবে খুলনা বিভাগ প্রথম ইনিংসে ২৭৩ রানে অলআউট হলে সিলেট ফলো অন করায় প্রতিপক্ষকে। ভুলটা বোধহয় সেখানেই হয়েছে। সিলেটের পেস আক্রমণে জাতীয় দলের পেস বোলার এবাদত ও খালেদ থাকলেও এবাদত মাত্রই চোট থেকে সেরে উঠেছেন। তাই টানা পেসাররা বল করতে পারেননি, দ্বিতীয় ইনিংসে এবাদত মাত্র ৪ ওভার আর খালেদ করেছেন ৯ ওভার। বেশিরভাগ সময়ই বল করেছেন অফস্পিনার নাঈম আহমেদ ও বামহাতি স্পিনার নাবিল সামাদ। জাতীয় দলে খেলার অভিজ্ঞতা সমৃদ্ধ খুলনার ৪ ব্যাটসম্যান; এনামুল হক, ইমরুল কায়েস, মোহাম্মদ মিঠুন ও নুরুল হাসান সোহান এই বোলারদের খেলেছেন অনায়াসে। মিঠুন ১০৮ বলে ৭ চার ও ৭ ছক্কায় ১০২ রান করে অপরাজিত থাকেন, তার সঙ্গে সোহান ৫০ রানে ছিলেন অপরাজিত। তাদের আগে ইমরুল করেছেন ৭১ আর বিজয় করেন ৫৪। ৭৫.৫ ওভারে খুলনা ৩ উইকেটে ২৯৬ রান তোলার পর ড্র মেনে নেন দুই অধিনায়ক।
ড্র ম্যাচের ২ পয়েন্ট নিয়ে ৪ খেলায় ২০ পয়েন্টে শীর্ষস্থান ধরে রাখলো সিলেট। রাজশাহীকে হারানো রংপুর ১৯ পয়েন্ট নিয়ে আছে তাদের পরেই। তবে তাদের সমান ১৯ পয়েন্ট ঢাকা মেট্রোর।
ঘরের মাঠে ২৬৩ রানের লক্ষ্যে ব্যাট করতে নেমে মাত্র ১৬১ রানেই গুটিয়ে যায় রাজশাহী। এই ম্যাচ খেলেই ক্যারিয়ারের ইতি টেনেছেন ১৯ বছর ধরে প্রথম শ্রেণীর ক্রিকেট খেলে আসা ফরহাদ হোসেন। ২০০৫ সালে বরিশাল বিভাগের বিপক্ষে অভিষেক হয়েছিল ফরহাদের, শেষ ম্যাচটা খেলেছেন রংপুরের বিপক্ষে। আব্দুল্লাহ আল মামুনের বলে আকবর আলির হাতে উইকেটের পেছনে ক্যাচ দিয়ে শেষ ইনিংসে আউট হয়েছেন ফরহাদ, রান করেছেন ১৭। তবে দীর্ঘ ক্যারিয়ারে জাতীয় দলের কাছাকাছিও আসতে পারেননি, ৯ হাজারের বেশি রান আর ১৮টা সেঞ্চুরির পরও নির্বাচকরা তাকে কখনো আস্থায় নেননি। এটাই প্রমাণ করে আয়োজন হিসেবে জাতীয় ক্রিকেট লিগের অসারতা।
সিলেট স্টেডিয়ামে মেট্রোর বিপক্ষে ২৫৭ রানের লক্ষ্যে ব্যাট করতে নামা ঢাকা বিভাগ ৮ উইকেট হারিয়েও রিপন মন্ডল আর নাজমুল ইসলামের দৃঢ়তার হার এড়িয়েছে। রিপন ২৭ বলে ৬ রান করে একপ্রান্ত আগলে রেখেছেন, শুভাগত হোমও ৫৭ বলে ১৯ রান করে হার বাঁচানোর লড়াইতে রেখেছেন জোরালো ভূমিকা।
পয়েন্ট টেবিলের একদম নিচের দল বরিশালের বিপক্ষে ৮ উইকেটে জিতেছে চট্টগ্রাম বিভাগ। দ্বিতীয় ইনিংসে বরিশাল অলআউট হয় মাত্র ৭৭ রানে। আশরাফুল হাসান রোহান নেন ৬ উইকেট। জয়ের জন্য চট্টগ্রামের সামনে জয়ের লক্ষ্য দাঁড়ায় ৮৩ রানের, যেটা ২ উইকেট হারিয়ে সহজেই ছুঁয়ে ফেলে পারভেজ হোসেন ইমন-নাঈম হাসানরা। দুই ইনিংস মিলিয়ে ম্যাচ ১০ উইকেট নিয়েছেন বামহাতি স্পিনার আশরা হোসেন রোহান। এবারই প্রথম ফার্স্টক্লাস ক্রিকেটে খেলছেন মাত্রই উনিশ ছাড়ানো এই স্পিনার।
১৯ বছরের ক্যারিয়ার শেষ হলো ফরহাদের টেস্ট না খেলেই
প্রধান উপদেষ্টার আমন্ত্রণে জানুয়ারিতে বাংলাদেশে আসছেন ফিফা প্রেসিডেন্ট