ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানে আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের দিন গত ৫ আগস্ট ঢাকার আশুলিয়া থানার সামনে যে হত্যাযজ্ঞ হয়, তাতে নিহতদের মধ্যে আগুনে পোড়া একজনের পরিচয় ছিল অজানা। সেই অজ্ঞাতপরিচয় ব্যক্তিকে নিজের স্বামী আল আমিন (৩০) বলে দাবি করেন কুলসুম নামে এক নারী। আর স্বামীকে হত্যার অভিযোগে গত ২৪ অক্টোবর ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাসহ ১৩০ জনের বিরুদ্ধে ঢাকার চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে মামলার আবেদনও করেন কুলসুম। পরে গত ৮ নভেম্বর ওই অভিযোগটি আশুলিয়া থানায় মামলা হিসেবে নথিভুক্ত হয়। কিন্তু ‘হত্যার শিকার’ হওয়ার প্রায় সাড়ে তিন মাস পর দেখা মিলেছে সেই আল আমিনের। তিনি দিব্যি বেঁচে আছেন। গতকাল মঙ্গলবার সিলেটের দক্ষিণ সুরমায় তাকে পাওয়া গেছে। খবর পেয়ে আশুলিয়া থানা পুলিশ দক্ষিণ সুরমা থানা থেকে তাকে ঢাকায় নিয়ে যায়।
অবশ্য আল আমিন সাংবাদিকদের কাছে দাবি করেছেন, তাকে নিহত দেখিয়ে মামলা করার ঘটনায় তিনি জড়িত নন। তার ভাষ্য, পরিবারের অমতে ভালোবেসে তিনি কুলসুমকে বিয়ে করেন। কয়েক মাস ধরে স্ত্রীর সঙ্গে সম্পর্ক ভালো যাচ্ছিল না। ছাত্র-জনতার আন্দোলনের পুরো সময় তিনি স্ত্রীকে নিয়ে মৌলভীবাজারের জুড়ীতে ছিলেন। আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর স্ত্রী তাকে না জানিয়েই হত্যা মামলা করেছে। যাতে আল আমিন খুন হয়েছেন বলে দাবি করা হয়। এরপর ভয়ে সিলেটের দক্ষিণ সুরমায় বাবার সঙ্গে আত্মগোপন করেন।
আল আমিন বলেন, ‘ভাই আমি মরি নাই, কেউ যদি আমার অজান্তে কাগজে-কলমে আমাকে মাইরা ফালায়, তাহলে আমি কী করব। আমাকে মরা দেখাইয়া আমার বৌ মামলা করছে, আমি হতভাগা স্বামী। মামলার পর থেকে ভয়ে আমি পালিয়ে বেড়াচ্ছি।’
এ ব্যাপারে জানতে চাইলে দক্ষিণ সুরমা থানার ওসি আবুল হোসেন বলেন, ‘আশুলিয়া থানার এসআই রকিব দক্ষিণ সুরমা থানা থেকে আল আমিনকে নিয়ে গেছেন। সেখানেই এ ব্যাপারে আইনানুগ পরবর্তী পদক্ষেপ নেওয়া হবে।’ ওসি জানান, আল আমিনের বাবা দীর্ঘদিন ধরে দক্ষিণ সুরমার পিরিজপুরে বসবাস করেন। তাদের বাড়ি লালমনিরহাট জেলায়।
সংশ্লিষ্ট পুলিশ কর্মকর্তারা জানান, আল আমিনকে নিহত দেখিয়ে মামলা করার পর কুলসুমের আচরণে সন্দেহ হওয়ায় আশুলিয়ার কয়েকজন সাংবাদিক বিষয়টি নিয়ে অনুসন্ধান শুরু করেন। এতে বেরিয়ে আসে চাঞ্চল্যকর তথ্য। আল আমিন বেঁচে আছেন এবং তিনি সিলেটের দক্ষিণ সুরমায় বসবাস করছেন এমন তথ্য পেয়ে বিষয়টি র্যাবকে জানানো হয়। এরপর র্যাব আল আমিনের ভাইকে খুঁজে বের করে তার সঙ্গে কথা বলে নিশ্চিত হয় মামলায় নিহত দেখানো আল আমিন বেঁচে আছেন।
আল আমিনের ভাই জাহাঙ্গীর আলম জানান, তিন দিন আগে আল আমিন মামলা হওয়ার বিষয়টি জানতে পারে। এরপর থেকে ভয়ে পালিয়ে বেড়াচ্ছিল। এরই মধ্যে র্যাব কর্মকর্তারা বিষয়টি জেনে যাওয়ায় আল আমিনকে দক্ষিণ সুরমা থানায় নিয়ে যাওয়া হয়। পরে সেখান থেকে তাকে আশুলিয়ায় নিয়ে যান থানাটির পুলিশ সদস্যরা।