নির্দলীয় তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা বাতিল সংক্রান্ত সংবিধানের পঞ্চদশ সংশোধনীর বৈধতা প্রশ্নে রুলের শুনানি ষষ্ঠ কার্যদিবসের মতো শেষ হয়েছে। গতকাল বৃহস্পতিবার বিচারপতি ফারাহ মাহবুব ও বিচারপতি দেবাশীষ রায় চৌধুরীর বেঞ্চে এ শুনানি হয়। গতকাল বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর পক্ষে শুনানি করেন আইনজীবী মোহাম্মদ শিশির মনির। তিনি তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা পুনর্বহালের আরজি জানিয়ে এর স্বপক্ষে যুক্তি তুলে ধরেন।
শুনানিতে অ্যাডভোকেট শিশির মনির বলেন, ‘তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা বাতিলের মাধ্যমে বাংলাদেশে গণতান্ত্রিক সংস্কৃতিকে ধ্বংস করে কর্তৃত্ববাদ ব্যবস্থা কায়েম করা হয়েছে এবং এর ফলে সব গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠানগুলোকে ধ্বংস করা হয়েছে। আমরা গণতান্ত্রিক সংস্কৃতি এবং ভোটের পরিবেশ ফিরিয়ে আনতে তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থার পুনর্বহাল চাই।’
২০১১ সালের ৩০ জুন জাতীয় সংসদে পঞ্চদশ সংশোধনী পাস হয়। একই বছরের ৩ জুলাই রাষ্ট্রপতি তাতে অনুমোদন দেন। এ সংশোধনীর মাধ্যমে তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা বাতিলের পাশাপাশি বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে জাতির পিতা হিসেবে সাংবিধানিক স্বীকৃতি দেওয়া হয়। এ ছাড়া এ সংশোধনীতে জাতীয় সংসদে নারীদের জন্য সংরক্ষিত আসন সংখ্যা ৪৫ থেকে বাড়িয়ে ৫০ করাসহ আরও কিছু বিষয় যুক্ত করা হয়। এক রিট আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে সংবিধানের পঞ্চদশ সংশোধনীর বৈধতা প্রশ্নে গত ১৯ আগস্ট রুল দেন হাইকোর্ট। গত ৩০ অক্টোবর রুলের ওপর শুনানি শুরু হয়। গত ২৯ অক্টোবর রুল সমর্থন করে আদালতকে সহায়তা করতে (ইন্টারভেনার) বিএনপির পক্ষে মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের আবেদন মঞ্জুর করেন হাইকোর্ট। তার পক্ষে অ্যাডভোকেট জয়নুল আবেদীন শুনানি করছেন। এ ছাড়া রুল সমর্থন করে এ মামলায় পক্ষভুক্ত হন জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার।
গত বুধবার রাষ্ট্রপক্ষে শুনানি করেন অ্যাটর্নি জেনারেল মো. আসাদুজ্জামান। গতকাল বিএনপির মহাসচিবের পক্ষে শুনানি করেন জ্যেষ্ঠ আইনজীবী রুহুল কুদ্দুস কাজল। পঞ্চদশ সংশোধনীর বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে গত ১৮ আগস্ট সুশাসনের জন্য নাগরিকের (সুজন) সভাপতি এম. হাফিজ উদ্দিন খান, সম্পাদক ড. বদিউল আলম মজুমদার, স্থানীয় সরকার বিশেষজ্ঞ ড. তোফায়েল আহমেদসহ পাঁচজনের পক্ষে জ্যেষ্ঠ আইনজীবী ড. শরীফ ভূঁইয়া জনস্বার্থে এ রিট আবেদনটি করেন।
