ভারত প্রশ্নে মনোজগতে পরিবর্তন ঘটাতে হবে

আপডেট : ১৬ নভেম্বর ২০২৪, ০৭:২৬ এএম

‘ভারতের সঙ্গে নদীর ন্যায্য হিস্যা আদায় করতে হলে সার্ককে পুনরুজ্জীবিত করতে হবে। দ্বিপক্ষীয়ভাবে না এগিয়ে আঞ্চলিক সব অংশীদারকে সঙ্গে নিয়ে ভারতের সঙ্গে বিদ্যমান সব সংকটের সমাধান করতে হবে। এজন্য আগে প্রয়োজন নিজেদের চাহিদা যথাযথভাবে নিরূপণ করা। সে অনুযায়ী নিজেদের সক্ষমতা বৃদ্ধি করা।’

‘অভিন্ন নদী ও ভারত প্রশ্ন : সমাধানের রাজনীতি কী’ শীর্ষক এক আলোচনা সভায় বক্তারা এসব কথা বলেন। গতকাল শুক্রবার বিকেলে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক মোজাফফর আহমেদ চৌধুরী অডিটোরিয়ামে ইউনিটি ফর বাংলাদেশ আয়োজিত এ সভায় সভাপতিত্ব করেন সংগঠনটির মুখপাত্র মঞ্জুর মঈন ও ধারণাপত্র উপস্থাপন করেন স্বাধীন গবেষক আফিফা রাজ্জাক মুনা।

সভায় বিএনপির জাতীয় স্থায়ী কমিটির সদস্য ও সাবেক মন্ত্রী আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী বলেন, ভারত মূলত তিনটি কারণে বাংলাদেশ নিয়ে চিন্তিত। নিরাপত্তা, হিন্দু-মুসলিম সমস্যা ও মৌলবাদ ইস্যু। এগুলোকে নিয়ে ভারত নিজেদের মতো করে নিজস্ব একটা ন্যারেটিভ ও ইকোসিস্টেম তৈরি করেছে। যার উদ্দেশ্য, একটি নির্দিষ্ট দলকে ক্ষমতায় রেখে নিজেদের স্বার্থ হাসিল করা। ভারতের সঙ্গে আমাদের সম্পর্ক যদি এগিয়ে নিতে হয়, তাহলে নতুন ন্যারেটিভ সৃষ্টি করতে হবে। সেগুলো হচ্ছে পারস্পরিক স্বার্থ, শ্রদ্ধা ও হস্তক্ষেপ না করার নীতি। তাহলে আর কোনো সমস্যা থাকবে না।

তিনি আরও বলেন, ভারতের সঙ্গে আমাদের সমস্যা দ্বিপক্ষীয়ভাবে মোকাবিলা করা যাবে না। এখানে আঞ্চলিকতাবাদ নিয়ে আসতে হবে। যেখানে দক্ষিণ এশিয়ার অন্যান্য দেশ অন্তর্ভুক্ত থাকবে। চীনকেও এর সঙ্গে সম্পৃক্ত করতে হবে।

তত্ত্বাবধায়ক সরকারের সাবেক উপদেষ্টা হোসেন জিল্লুর রহমান বলেন, জুলাইয়ের লাল বিপ্লবের কাক্সিক্ষত ফল ঘরে তুলতে হলে আমাদের চিন্তা ও আকাক্সক্ষার স্বচ্ছতা খুবই জরুরি। ভারত প্রশ্ন সমাধানের জন্য ভারত বিষয়ে আমাদের মনোজগতে পরিবর্তন আনতে হবে। বাংলাদেশ-ভারত সম্পর্ক নির্ধারণে আমাদের চাহিদা কী, আগে সেটা নির্ধারণ করতে হবে। দক্ষিণ এশিয়ায় ভারত নয়, আমরাই প্রথম হব এই মনোভাব থাকতে হবে।

তিনি বলেন, দক্ষিণ এশিয়ায় ভারতের নীতি হচ্ছে আধিপত্যবাদী নীতি। সেজন্য তারা আমাদের ওপর নানা অসম চুক্তি চাপিয়ে দিচ্ছে। এটি তারা সহজে করতে পারছে। কারণ আমরা নিজেরাই নিজেদের সার্বভৌমত্ব বিসর্জন দিয়ে দিয়েছি। বারবার সদিচ্ছার পরীক্ষা শুধু আমাদেরই দিতে হয়। ভারতের সঙ্গে সম্পর্ক কয়েকটি সুন্দর শব্দ দিয়ে হবে না। সার্ককে পুনরুদ্ধার প্রথম এজেন্ডায় রাখলে হবে না। আমাদের অন্য কিছু নিয়েও ভাবতে হবে। সবার আগে প্রয়োজন আমাদের নিজেদের সক্ষমতা তৈরি করা ও ঔপনিবেশিক আমলাতান্ত্রিকতার শিকড় উপড়ে ফেলা।

গবেষক আলতাফ পারভেজ বলেন, রাজনীতিই ভারতের সঙ্গে সব সংকটের সমাধান দিতে পারে। যুক্তরাষ্ট্র ও চীনকেও এর সঙ্গে সম্পৃক্ত করা দরকার। সার্ককে আবার পুনরুজ্জীবিত করতে হবে। এ সংকটের মূল ভিকটিম হচ্ছে সীমান্তবর্তী মানুষরা। তাদের কথা সবার আগে বিবেচনায় নিতে হবে। ঢালাওভাবে ভারতবিরোধিতা করলে হবে না। ভারতের গণতন্ত্রকামী মানুষরা আমাদের সঙ্গে আছেন। আলোচনার টেবিলেই সমস্যা সমাধান করা সম্ভব।

সিপিবির প্রেসিডিয়াম সদস্য আবদুল্লাহ ক্বাফী রতন বলেন, আমরাই কি ভারতের একমাত্র শত্রু? অন্য কোনো সীমান্তে তো ভারত কাউকে হত্যা করার সাহস করে না। আমাদের সীমান্তে কেন এত মানুষকে প্রতিনিয়তই হত্যা করা হয়। এর কারণ হচ্ছে, আমাদের নেতৃত্ব ভারতের হিন্দুত্ববাদী বলয়ের কাছে আত্মসমর্পণ করেছে। এই সংকট থেকে উত্তরণের জন্য আমাদের দক্ষিণ এশীয় ইউনিয়ন তৈরি করা জরুরি।

রিভারাইন পিপলের মহাসচিব শেখ রোকন বলেন, দেশভাগই দুদেশের মধ্যকার নদী সংকটের বীজ বপন করে দিয়ে গেছে। পরবর্তী সময়ে পাকিস্তান সরকারও পূর্ববঙ্গের নদী সমস্যাকে সম্পূর্ণ উপেক্ষা করে গেছে। সর্বোচ্চ তিনটা চুক্তি তথা ব্রহ্মপুত্র, তিস্তা, গঙ্গা বেসিনের ওপর ভিত্তি করে সব নদীর সমস্যা সমাধান করা সম্ভব। সেজন্য নদীগুলোর প্রকৃত সীমানা আগে আমাদের জানতে হবে। সমস্যা সমাধানে ধারাবাহিকতা রাখতে হবে।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত