জ্বালানী হিসেবে কাঠ পোড়ানো নিষিদ্ধ থাকলেও এর তোয়াক্কা না করেই মানিকগঞ্জের হরিরামপুরে চলতি মৌসুমে বনের কাঠ পুড়িয়ে ভাটায় চলছে ইট পোড়ানোর প্রস্তুতি। অনুমোদনহীন এসব ভাটায় চলছে ইট তৈরি ও শুকানোর কাজ। কয়েক দিনের মধ্যেই শুরু হবে ইট পোড়ানো। আইন লঙ্ঘন করে এসব ইটভাটা লোকালয় ও ফসলি জমিতে নির্মাণ করা হলেও প্রশাসন রয়েছে নীরব। ইট পোড়ানো শুরু হলে পরিবেশ দূষণের পাশাপাশি পার্শ্ববর্তী জমির ফসলেরও ক্ষতি হবে বলে আশঙ্কা এলাকাবাসীর।
অভিযোগ রয়েছে, প্রতিবছর হাতেগোনা দুই-একটি অভিযান পরিচালনা করে জরিমানা করা হলেও স্থায়ীভাবে বন্ধ বা উচ্ছেদ করা হয় না এসব ভাটা। এ ছাড়া, ভাটার মালিকরা পার্শ্ববর্তী ফসলি জমির ক্ষয়ক্ষতি করলে সে বিষয়ে স্থানীয়রা অভিযোগ দিলেও রাজনৈতিক প্রভাবে সেগুলো ধামাচাপাই থেকে যায়।
স্থানীয়রা জানান, হরিরামপুরে সততা ব্রিকস, আমিন ব্রিকস ও স্বাধীন ব্রিকস নামে তিনটি ভাটা রয়েছে। এর মধ্যে চলতি মৌসুমে আমিন ব্রিকস বন্ধ থাকলেও পুরোদমে কাজ শুরু করেছে সততা ও স্বাধীন ব্রিকসের। এর মধ্যে সততা ব্রিকসের মালিক বলড়া ইউপি চেয়ারম্যান এবং উপজেলা আওয়ামী লীগের সহসভাপতি মোসলেম উদ্দিন খান কুন্নু। স্বাধীন ব্রিকসের কয়েকজন অংশীদার থাকলেও তাদের প্রধান উপজেলা আওয়ামী লীগের সদস্য শীতল চৌধুরী।
সরেজমিনে সততা ও স্বাধীন ব্রিকসে গিয়ে দেখা যায়, অর্ধ শতাধিক শ্রমিক মাটি তৈরি, কাঁচা ইট প্রস্তুত ও শুকানোর কাজ করছেন। ইট পোড়ানোর জন্য ট্রলিতে করে আনা হচ্ছে মণের পর মণ কাঠ। অথচ, ইটভাটায় কাঠ পোড়ানো নিষিদ্ধ।
শ্রমিকরা জানান, স্বাধীন ব্রিকস তিন সপ্তাহ এবং সততা ব্রিকস এক সপ্তাহ আগে চালু হয়েছে। দুটি ভাটায় ইট তৈরি, শুকানো চলছে। বৃষ্টি না হলে স্বাধীন ব্রিকসে ৭ দিনের মধ্যে এবং সততা ব্রিকসে ১৫ দিনের মধ্যে ইট পোড়ানো শুরু হবে।
শেরপুর থেকে স্বাধীন ব্রিকসে কাজ করতে আসা শ্রমিক মো. মঈনুদ্দিন বলেন, ভাটায় একবারে যে ইট পোড়ানো হয়, তার চেয়ে বেশি ইট তৈরি হয়ে গেছে। এখন শুকিয়ে পোড়ানোর জন্য চেম্বারে সাজানো হচ্ছে। সপ্তাহ খানেক পরেই পোড়ানো শুরু হবে।
স্থানীয় কৃষকরা বলেন, মাঝেমধ্যে ভাটার ধোঁয়ায় প্রচুর দুর্গন্ধ হয়। তখন ক্ষেতে কাজ করতে গেলে শ্বাস নিতে কষ্ট হয়। ভাটার কারণে ধানের ফলন কম হয়। অনেক সময় জমির ধান পুড়ে যায়। এতে কৃষকরা ক্ষতিগ্রস্ত হলেও কোনো প্রতিকার পাওয়া যায় না।
স্বাধীন ব্রিকসের প্রধান কর্মকর্তা শীতল চৌধুরী বলেন, ‘দেশের সার্বিক পরিস্থিতির কারণে আমি এ বছর ইটভাটায় নেই। এবার দায়িত্বে আছেন সজিব, হান্নানসহ অন্যরা। তারাই বলতে পারবে ভাটা সম্পর্কে।’ তবে সজিবের সঙ্গে যোগাযোগ করলে তিনি শীতল চৌধুরীর সঙ্গে কথা বলতে বলেন।
সম্প্রতি একটি মামলায় আসামি হওয়ার পর থেকে সততা ব্রিকসের মালিক মোসলেম উদ্দিন খান কুন্নু গা ঢাকা দিয়েছেন। ভাটার ম্যানেজার স্বপন কুমার বণিক বলেন, ‘চেয়ারম্যান কয়েক দিন ধরে ভাটায় আসেন না। তার মোবাইলও বন্ধ, আমার সঙ্গে কথা হয় না। এ বছর বৃষ্টির জন্য প্রায় এক মাস পিছিয়ে গেছি। ইট পোড়ানো শুরু হতে আরও ১৫ দিন লাগবে।’
এ ব্যাপারে জানতে চাইলে হরিরামপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) শাহরিয়ার রহমান বলেন, ‘আমরা আইন অনুযায়ী তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেব।’
জেলা পরিবেশ অধিদপ্তরের উপপরিচালক ড. ইউসুফ আলী বলেন, জেলা প্রশাসন এবং উপজেলা প্রশাসনের সহায়তায় শিগগিরই মোবাইল কোর্ট পরিচালিত হবে।
যশোরে বাসের ভেতরে মিলল হেলপারের রক্তাক্ত মরদেহ
কনের সাজে অপু বিশ্বাস