অপরিণত শিশু কেন জন্ম নেয়

আপডেট : ১৭ নভেম্বর ২০২৪, ০৮:১৯ এএম

 ডা. মারিয়া কিবতিয়ার

বিভাগীয় প্রধান, নবজাতক ও শিশু বিভাগ ডিভাইন মারসি হাসপাতাল

১৭ নভেম্বর বিশ্বে পালিত হয় বিশ্ব অপরিণত নবজাতক দিবস। সাধারণভাবে শিশু ৩৭ থেকে ৪২ সপ্তাহে জন্মগ্রহণ করে।  নবজাতকের ওজন হয় ২.৫ কেজি থেকে ৪ কেজির মধ্যে। নবজাতক যদি ৩৭ সপ্তাহের আগে জন্মগ্রহণ করে অথবা জন্মের সময় ২.৫ কেজির নিচে ওজন হয়, তখন এই নবজাতককে অপরিপক্ব বা অপরিণত নবজাতক বলা হয়। বিশ্বে মোট নবজাতক মৃত্যুর ৩৫ শতাংশ মারা যায় অপরিণত অবস্থায় জন্ম নেওয়া ও এর জটিলতা থেকে। অপরিণত নবজাতকের কী কী প্রধান সমস্যা হতে পারে এবং তা থেকে কীভাবে জীবন রক্ষা করা যায়, জানা থাকা দরকার।

কেন শিশু অপরিণত অবস্থায় জন্মগ্রহণ করে মায়ের সমস্যা : হাই ব্লাড প্রেশার, খিঁচুনি, অনিয়ন্ত্রিত ডায়াবেটিস, প্লাসেন্টাতে সমস্যা থাকলে, ইউটেরাসে টিউমার থাকলে, হঠাৎ পানি ভেঙে গেলে, মা বেশি ভারী কাজ করলে অথবা ভারী কিছু উঠালে, মাল্টিপাল প্রেগনেন্সি থাকলে, মায়ের লিভার কিডনি অথবা হার্টে অনেক দিনের কোনো রোগ থাকলে শিশু অপরিণত অবস্থায় জন্মগ্রহণ করে।

নবজাতকের সমস্যা : নবজাতকের অক্সিজেন স্বল্পতা, ওজন বৃদ্ধি না পাওয়া, জন্মগত ত্রুটি থাকা, একের অধিক নবজাতক গর্ভে থাকা এ সমস্যাগুলো থেকেও শিশু অপরিণত হয়।

কী সমস্যা ও করণীয়

 অপরিণত নবজাতকের প্রথম এবং প্রধান সমস্যা হয় শরীরের তাপমাত্রা নিয়ন্ত্রণ। অপরিণত নবজাতকের শরীরের তাপমাত্রা কম থাকে। এ জন্য জন্মের পরপর এদের ভালোভাবে কাপড় দিয়ে পেঁচিয়ে কোলে রাখতে হয়। শরীরের গ্লুকোজের মাত্রা খুব তাড়াতাড়ি কমে যায়। এ জন্য এদের জন্মের ১ ঘণ্টার মধ্যে মায়ের বুকের দুধ খাওয়াতে হবে এবং নির্দিষ্ট সময় পরপর রক্তের গ্লুকোজের মাত্রা পরীক্ষা করতে হয়।  অপরিণত নবজাতকের মুখের মাংসপেশি দুর্বল থাকে। এ জন্য বুকের দুধ টেনে খাওয়ার শক্তিও কম থাকে। শিশু বুকের দুধ টেনে না খেলে ফিডারে সরাসরি দুধ দেওয়া যাবে না। এতে হঠাৎ করে ফুসফুসে দুধ গিয়ে শিশুর মৃত্যু হতে পারে। অল্প অল্প করে বাটি চামচে দুধ দেওয়া যেতে পারে।  শিশুর হজম ক্ষমতা কম থাকে, যার জন্য যতটা সম্ভব কৌটার দুধ পরিহার করতে হবে এবং ঘন ঘন মায়ের বুকের দুধ দিতে হবে।  এসব শিশুর রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা কম থাকে, যার জন্য বাসায় বাইরের মানুষ কম আসতে দিতে হবে। জ্বর-সর্দি থাকা কারও কোলে শিশুকে দেওয়া যাবে না। বাসার সবাইকে বাইরে থেকে এসে হাত ধুয়ে বাচ্চাকে কোলে নিতে হবে। মাকে সবসময় পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন থাকতে হবে।  শিশুর জন্ডিস হওয়ার প্রবণতা থাকে। সকালের রোদে কিছু সময় শিশুকে রাখতে হবে। খোলা জায়গায় নিয়ে রোদে না দেওয়া ভালো, ধুলাবালি ঢুকে বা ঠান্ডা লেগে শিশু অসুস্থ হয়ে পড়ে। ঘরেরে ভেতরে আসা রোদে বাচ্চাকে রাখা যেতে পারে।  শিশুকে চিকিৎসকের পরামর্শ মতো টিকা দিতে হবে। ভিটামিন এবং আয়রনের স্বল্পতা থাকে, যার জন্য ৬ মাস বয়স পর্যন্ত চিকিৎসকের পরামর্শ মতো ভিটামিন ও আয়রন ওষুধ দিতে হবে।  অপরণত শিশুর ফুসফুস এবং হার্ট দুটোই অপরিণত থাকে। হার্টে জন্মগতভাবে ছিদ্র থাকে। সেই সঙ্গে এসব বাচ্চাদের শ্বাসনালিতে থুতু, কফ জমে শ্বাস বন্ধ হয়ে যায়। বাচ্চার যদি হঠাৎ করে শ্বাসকষ্ট , নীল হয়ে যাওয়া বা খিঁচুনি হয় সে ক্ষেত্রে সঙ্গে সঙ্গে এনআইসিইউতে বাচ্চাকে ভর্তি করাতে হবে। নবজাতক ৩৪ সপ্তাহের নিচে জন্মগ্রহণ, ওজন ১৮০০ গ্রামের নিচে হলে বা জন্মের পর শ্বাস না নিলে সঙ্গে সঙ্গে এনআইসিইউতে ভর্তি করাতে হবে।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত