মুরাদিয়া নদী এখন মরা খাল

আপডেট : ১৭ নভেম্বর ২০২৪, ১২:৪২ এএম

পটুয়াখালীর দুমকি উপজেলায় লোহালিয়া নদীর অন্যতম শাখা মুরাদিয়া নদী। এক সময়ের খরস্রোতা নদীর অথই পানিতে চলাচল করত বড় বড় স্টিমার, লঞ্চসহ পালতোলা নৌকা। পানির অভাবে আজ সে নদীতে ডিঙি নৌকা চলাচলও দায় হয়ে পড়েছে। ভাটার সময় নদী শুকিয়ে যাওয়ায় নৌকা চলাচল একদম বন্ধ থাকে। ছোট-বড় মাছের অফুরন্ত উৎস এ নদীকে ঘিরে আশপাশের এলাকায় অসংখ্য জেলে পরিবারের বসতি গড়ে উঠেছিল। দুপাশে জেগে ওঠা চরে ভরাট হতে হতে গত দুই যুগে নদীটি মরা খালে রূপান্তরিত হয়েছে।

বর্ষা মৌসুমে পানিতে তলিয়ে থাকায় চরের খাসজমি বন্দোবস্তের অভাবে চাষাবাদ হয় না। প্রায় ১৭ কিলোমিটার দীর্ঘ এ নদীটি দুমকি উপজেলার আংগারিয়া ও মুরাদিয়া ইউনিয়নকে দুদিকে বিভক্ত করে দক্ষিণে প্রবাহিত হয়ে লোহালিয়া  নদীর সঙ্গে মিশেছে।

দক্ষিণ শ্রীরামপুরের বাসিন্দা মাস্টার জাহিদুল ইসলাম জানান, নদী শুকিয়ে জেগে ওঠা চরের খাসজমি বন্দোবস্তের অভাবে বেশির ভাগই অনাবাদি রয়েছে। তবে স্থানীয় কতিপয় প্রভাবশালী ব্যক্তি তাদের রেকর্ডীয় জমির অগ্রভাগ দখল করে নিয়েছে। এভাবে শত শত একর সরকারি খাসজমি বেহাত হয়ে গেছে।

দক্ষিণ মুরাদিয়া গ্রামের হানিফ নেঘাবান জানান, আষাঢ়, শ্রাবণ মাসে পানির কারণে মুরাদিয়া নদীর চরে আমন চাষ ব্যাহত হয়। শুকনো মৌসুমে নদী শুকিয়ে যায়। নদী খনন করা হলে আমন চাষ যেমন হবে, তেমনি শুষ্ক মৌসুমে পানি তুলে ইরি ধান চাষ করা যাবে। মুরাদিয়ার নদী খনন করে সেচ প্রকল্প চালু ও খননকৃত মাটি দিয়ে নদীর উভয় তীরে বাঁধ নির্মাণ করে ভূমিহীনদের পুনর্বাসনের দাবি করেন তিনি।

মুুরাদিয়া ইউপি চেয়ারম্যান মিজানুর রহমান সিকদার বলেন, মুরাদিয়া ইউনিয়নবাসীর জন্য নদীটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। জেলা শহরের সঙ্গে কম খরচে নৌ-পথে যাতায়াত ও পণ্য পরিবহন সহজতর ছিল। নদী ভরাট হতে হতে সরু নালায় পরিণত হয়েছে। সব নৌ-যান চলাচল বন্ধ হয়ে গেছে। সহজ জীবন-জীবিকা এখন অত্যন্ত ব্যয়বহুল ও কঠিন হয়ে গেছে। সড়কপথে অনেকটা ঘুরে যাতায়াত করায় খরচ বেড়েছে। অপর দিকে নদী ভরাট হয়ে মরা খালে পরিণত হওয়ায় সেচের পানি সংকটে ফসলের চাষাবাদ বিঘিœত এবং উৎপাদন কমে গেছে। তাই জনস্বার্থে মুরাদিয়া নদী খনন করা অত্যন্ত জরুরি।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত