প্রধান উপদেষ্টার বক্তব্যে আশাহত হয়েছি : ফখরুল

আপডেট : ১৯ নভেম্বর ২০২৪, ০৭:১৭ এএম

বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, ‘আমাদের প্রধান উপদেষ্টা তার সরকারের ১০০ দিন পূর্তিতে একটা ভাষণ দিয়েছেন। ভালো হয়েছে। অনেকে আশান্বিত হয়েছেন। কিন্তু আমি একটু আশাহত হয়েছি। আমি আশা করেছিলাম, প্রধান উপদেষ্টা তার সব প্রজ্ঞা দিয়ে সমস্যাটা চিহ্নিত করে নির্বাচনের জন্য একটা রূপরেখা দেবেন। আমি কেন নির্বাচনের কথা বারবার বলছি। কারণ, নির্বাচন দিলে আমাদের অর্ধেক সমস্যার সমাধান হয়ে যাবে। বিএনপি ক্ষমতায় যাক বা না যাক সেটা বিষয় নয়।’

গতকাল সোমবার দুপুরে জাতীয় প্রেস ক্লাবের মিলনায়তনে মজলুম জননেতা মওলানা আবদুল হামিদ খান ভাসানীর ৪৮তম মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে বিএনপির উদ্যোগে আয়োজিত আলোচনা সভায় তিনি এসব কথা বলেন।

দ্রুত নির্বাচন দেওয়ার কথা উল্লেখ করে মির্জা ফখরুল বলেন, ‘যত দ্রুত নির্বাচন হবে, তা দেশের জন্য, জাতির জন্য মঙ্গল। এটা বলছি আমাদের অভিজ্ঞতা থেকে। এ ধরনের সরকার যত বেশি দিন ক্ষমতায় থাকে, তত সমস্যা তৈরি হয়। প্রয়োজনীয় সংস্কার করে নির্বাচন দিয়ে জনপ্রতিনিধিদের হাতে ক্ষমতা হস্তান্তর যত দ্রুত করতে পারে, ততই মঙ্গল। কারণ ১/১১ সময়ে ফখরুদ্দীন-মঈন উদ্দিনের সরকার কিংস পার্টি করার চেষ্টা করেছিল। ক্ষমতায় থেকে দল করবে, মানুষ সেটা নেয়নি। তারা নির্বাচন দিয়ে পালিয়েছিল। হাসিনাকেও পালাতে হয়েছে। কেন? হাসিনা পালিয়েছে, সে চিন্তা করতে ভুল করেছে।’

তিনি বলেন, ‘আজকে যারা বাংলাদেশের ক্ষতি করতে চাচ্ছে, স্থিতিশীলতা নষ্ট করতে চাচ্ছে, বাংলাদেশকে সংঘাতের দিকে নিয়ে যেতে চাচ্ছে, নির্বাচনের একটা রূপরেখা দিলে তারা পিছিয়ে যেতে বাধ্য হবে। কারণ ওই সরকারের পেছনে জনগণের সমর্থন থাকবে। এই বিষয় আমাদের চিন্তা করতে হবে।’

মির্জা ফখরুল বলেন, ‘সংস্কার আমরা শুধু চাই না, আমরা এটা শুরু করেছি। আপনাদের কাছে অনুরোধ, যেভাবে এগোলে সুন্দর হয়, গ্রহণযোগ্য হয়, সেভাবে আপনারা এগিয়ে যান। আমরা এখন পর্যন্ত কোনো বাধার সৃষ্টি করিনি বরং প্রতিটি ক্ষেত্রে আপনাদের সমর্থন দিচ্ছি। যদিও সচিবালয়ে স্বৈরাচারের ও ফ্যাসিবাদের দোসররা বসে আছেন। আপনি তাদের নিয়ে কীভাবে কাজ করবেন। আমলারা যারা বসে আছেন, তারা বেশির ভাগই স্বৈরাচারের দোসর। তারা কোটি কোটি টাকা আয় করেছেন, দুর্নীতি করেছেন, তাদের বিরুদ্ধে সেভাবে ব্যবস্থা নিতে দেখি না। এগুলো একটু দৃশ্যমান করুন। প্রশাসন চালানো, দেশ শাসন করাÑ এগুলোতে যেন মানুষ শান্তি পায়।’

বিএনপির এই নেতা বলেন, ‘জিনিসপত্রের দাম যেভাবে বেড়েছে, শান্তি পাওয়ার কোনো কারণ নেই। তাও তো মানুষ মেনে নিচ্ছে। কারণ, আপনারা একটা সুন্দর নির্বাচন দেবেন। কাজেই ওটাকে দৃশ্যমান করুন, ব্যবস্থা নিন। বাজারের সিন্ডিকেট ভাঙতে পারেন বা না পারেন, চেষ্টা করুন। ব্যবস্থা নিতে হবে। সচিবালয়ে যদি ঘুষ দিতে হয়, সচিবালয়ে গিয়ে যদি মানুষ দেখে সেই দালালরাই ঘোরাঘুরি করছে, মানুষ তা কখনো ভালো চোখে দেখবে না।’

বিএনপি মহাসচিব বলেন, ‘যে পাকিস্তানের জন্য এ দেশের মানুষ ১৯৪৬ সালে লড়াই করেছে, যে মুসলিম লীগ ছিল এ দেশের এক অবিসংবাদিত দল, তাদের ভরাডুবি হলো ভুল রাজনীতির কারণে। এসব বিষয় আমাদের রাজনীতিবিদরা অনেক সময় খেয়াল করেন না, যেমন এখন। একটা পরিবর্তন এসেছে। সেই পরিবর্তনকে বুঝতে হবে, বুঝতে হবে ছেলেরা কী বলছে। আমাদের মধ্যে অনেকে, বিশেষ করে বিএনপির মধ্যে অনেকে বলেন, ছেলেরা কি সব একাই করেছে? জোরেশোরে বলেন মিটিংয়ে। সত্য কথা, আমরা ১৫ বছর ধরে লড়াই করেছি, জান দিয়েছি, প্রাণ দিয়েছি, জেলে গেছি। তারপরও শেষ লাথিটা গোলে কে মেরেছে? ছাত্ররা।’

সাবেক এই ছাত্র নেতা বলেন, ‘ছাত্ররা যদি না আসে, তাহলে বুক পেতে দেবে কে? ছাত্র তরুণ যার পিছুটান নেই, সে ভ্যানগার্ড। আমরা যারা বয়স্ক, তারা পেছনে ফিরে তাকাই, পরিবার আছে এসব কথা চিন্তা করি। কিন্তু ছাত্র তরুণ যুবকরা সেটা করে না, তারা বুক পেতে দেয়। সাঈদ রংপুরে যেভাবে দাঁড়াল, সেটা ছিল আন্দোলনের টার্নিং পয়েন্ট। এসব বিষয় আপনাদের চিন্তা করতে হবে। সুতরাং ছাত্রদের সঙ্গে আমাদের কখনো কোনো দূরত্ব সৃষ্টি করা যাবে না। মনে রাখতে হবে, তারা তরুণ, তাদের অনেক উদ্দীপনা। ছাত্ররা অনেক কথা বলছে, বলবে। কারণ, তাদের বলার অধিকার আছে।’

বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান শামসুজ্জামান দুদুর সভাপতিত্বে আলোচনা সভায় আরও বক্তব্য দেন বিএনপির কেন্দ্রীয় নেতা নিতাই রায় চৌধুরী, মীর সরাফত আলী সপু, খায়রুল কবির খোকন, আবদুস সালাম আজাদ, হেলেন জেরিন খান প্রমুখ।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত