চট্টগ্রাম-করাচি রুট চালু হওয়ায় দেশের আমদানি-রপ্তানির ইতিহাসে নতুন দিগন্ত উন্মোচন হয়েছে। একইসাথে গতিশীলতা পাবে আমদানি-রপ্তানি বাণিজ্যে। সম্প্রতি চালু হওয়া এই রুট নিয়ে তুমুল আলোচনার মধ্যে গতকাল বন্দর অডিটরিয়ামে অনুষ্ঠিত মতবিনিময় সভায় এমনই মন্তব্য করেছেন চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান রিয়ার এডমিরাল এস এম মনিরুজ্জামান।
গত সপ্তাহে করাচি থেকে সরাসরি চট্টগ্রাম বন্দরে জাহাজ আসা নিয়ে এবং সেই জাহাজে কী কী পণ্য এসেছে তা নিয়ে দেশের ভেতরে যেমন আলোচনা সমালোচনা চলছিল তেমনিভাবে দেশের গন্ডি পেরিয়ে বাহিরের দেশেও তা ছড়িয়ে পড়ে। এতে আলোচিত ইস্যুতে পরিণত হয় করাচি থেকে চট্টগ্রামে সরাসরি জাহাজ আসার বিষয়টি।
চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান রিয়ার এডমিরাল এস এম মনিরুজ্জামান বলেন, এইচ আর শিপিং লাইনের অধীনে এমভি ইয়াং জিং ফা জাহান নামের জাহাজটি ৩২৮টি একক কনটেইনার নিয়ে চট্টগ্রাম বন্দরে আসার পর পণ্য খালাস করে ১২ নভেম্বর বন্দর ছেড়ে যায়। জাহাজটি মূলত দুবাই থেকে থেকে যাত্রা শুরু করে করাচি বন্দর হয়ে চট্টগ্রাম বন্দরে আসে। এখান থেকে তা ইন্দোনেশিয়া ও মালয়েশিয়া হয়ে আবারো দুবাই পৌঁছাবে। আর এই রুটেই জাহাজটি চলাচল করবে। নতুন এই রুটে আমদানি পণ্য পর্যাপ্ত পাওয়া গেলে ভবিষ্যতেও তা পরিচালিত হবে বলে জাহাজ মালিকগণ আগ্রহী। এছাড়া এর আগে পাকিস্তানের সাথে সিঙ্গাপুর ও কলম্বো বন্দরের মাধ্যমে বাংলাদেশের পণ্য আমদানি-রপ্তানি হতো।
বন্দরের প্রবৃদ্ধি প্রসঙ্গে বন্দর কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান রিয়ার এডমিরাল এস এম মনিরুজ্জামান বলেন, গত তিনমাসে চট্টগ্রাম বন্দরের ১০ দশমিক ২২ শতাংশ প্রবৃদ্ধি অর্জিত হয়েছে। এ সময়ে চট্টগ্রাম বন্দর দিয়ে ৮ লাখ ৩০হাজার ৫শ’ ৮২ একক কনটেইনার হ্যান্ডেলিং হয়েছে যা বিগত বছরের একই সময়ের তুলনায় ৭৬ হাজার ৯শ’ ৮৬ একক কনটেইনার বেশি। এছাড়া বর্তমানে জাহাজে ওয়েটিং টাইম কমিয়ে আনা হয়েছে এবং বন্দরে আসা জাহাজগুলো অন এরাইভিল বার্থিং সুবিধা পাচ্ছে।
বন্দরের ইয়ার্ডের ভেতরে দীর্ঘদিন ধরে পড়ে থাকা কনটেইনার ও ঝুঁকিপূর্ণ পণ্যগুলো খালাসের ব্যবস্থা করা হয়েছে উল্লেখ করে বন্দর কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান বলেন, গত ১৪ থেকে ১৫ বছর ধরে বন্দরের ইয়ার্ডে পড়ে থাকা চারটি ঝুঁর্কিপূর্ণ কনটেইনার সরানো হয়েছে। এ ছাড়া আরো নয় হাজার কনটেইনার পণ্য ধ্বংস বা নিষ্পত্তির কাজ শুরু হয়েছে।
বে টার্মিনালের অগ্রগতি সঙ্গে বন্দর কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান বলেন, বে টার্মিনাল সঠিক পথেই এগুচ্ছে। ইতোমধ্যে কনটেইনার টার্মিনাল-১ এর জন্য পোর্ট অব সিংগাপুর এবং কনটেইনার টার্মিনাল-২ এর জন্য ডিপি ওয়ার্ল্ডের সাথে চট্টগ্রাম বন্দরের কার্যক্রম চলমান রয়েছে। এছাড়া নিউমুরিং কনটেইনার টার্মিনালে (এনসিটি) অপারেটর নিয়োগের জন্য আন্তর্জাতিক দরপত্র আহ্বান করা হবে। লালদিয়ায় বিশ্বের শীর্ষ স্থানীয় শিপিং কোম্পানি এপিমুলারের সাথে সরকারি বেসরকারি অংশীদারিত্বের মাধ্যমে কনটেইনার টার্মিনাল নির্মাণের জন্য ট্রানজেকশন এডভাইজার কাজ করছে। অপরদিকে মাতারবাড়ি গভীর সমুদ্র বন্দরেও আবুধাবী, জাপান ও সিংগাপুর বিনিয়োগে আগ্রহ দেখিয়েছে।
পরিবর্তীত সরকার পরিস্থিতিতে বিগত সময়ে যেসব অনিয়ম হয়েছে তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে এবং ২৩টি শিপ হ্যান্ডলিং অপারেটর লাইসেন্স বাতিল করা হয়েছে বলে উল্লেখ করেন বন্দর কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান।
তিনি বলেন, চট্টগ্রাম বন্দরে সকল ধরনের সিন্ডিকেট, মনোপলি ভেঙে ব্যবসার সুষ্ঠু পরিবেশ নিশ্চিত করার কার্যক্রম জোরদার করা হচ্ছে। আগে দেওয়া ২৩টি শিপ হ্যান্ডলিং অপারেটর লাইসেন্স ইতোমধ্যে বাতিল করা হয়েছে। সকল ক্ষেত্রে দুর্নীতি ও অনিয়মের বিরুদ্ধে কঠোর পদক্ষেপ গ্রহণ করা হয়েছে।
এ দিকে মতবিনিময় সভায় চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষের সদস্য (প্রশাসন ও পরিকল্পনা) মো. হাবিবুর রহমান, সদস্য (হারবার ও মেরিন) কমডোর এম ফজলার রহমান, সদস্য (অর্থ) মোহাম্মদ শহীদুল আলম, সদস্য (প্রকৌশল) কমডোর কাওছার রশিদ, চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষের সচিব ওমর ফারুকসহ সংস্থাটির ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
‘তারেক রহমানের জন্মদিনে কোনো অনুষ্ঠান নয়’ স্মরণ করিয়ে দিলেন রিজভী
যুক্তরাষ্ট্রের ক্ষেপণাস্ত্র দিয়ে রাশিয়ায় ইউক্রেনের হামলা
আন্দোলনে অস্ত্রধারী সেই টিপু-ইকবাল ঘুরছেন প্রকাশ্যে, হদিস পায়না পুলিশ!