বাংলাদেশ পুলিশের নতুন মহাপরিদর্শক (আইজিপি) হিসেবে নিয়োগ পেয়েছেন বাহারুল আলম। একই সঙ্গে ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) নতুন কমিশনার পদে শেখ মো. সাজ্জাত আলী নিয়োগ পেয়েছেন। বাহারুল ৩৩তম আইজিপি হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করবেন। এর আগে তিনি স্প্রেশাল ব্রাঞ্চের প্রধান ছিলেন। ২০২০ সালে তিনি অবসরে যান। অন্যদিকে নতুন ডিএমপি কমিশনার অবসরে যাওয়ার আগে পুলিশ সদর দপ্তরে কর্মরত ছিলেন। তিনি ৩৮তম কমিশনার হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন।
গতকাল বুধবার জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় আলাদাভাবে তাদের চুক্তিভিত্তিক নিয়োগের বিষয়ে প্রজ্ঞাপন জারি করেছে।
প্রজ্ঞাপনে বলা হয়, সরকারি চাকরি আইন, ২০১৮-এর ৪৯ ধারা অনুযায়ী বাংলাদেশ পুলিশের অবসরপ্রাপ্ত উপপুলিশ মহাপরিদর্শক (ডিআইজি) বাহারুল আলমকে অন্য যেকোনো পেশা, ব্যবসা কিংবা সরকারি, আধা সরকারি, বেসরকারি প্রতিষ্ঠান বা সংগঠনের সঙ্গে কর্ম-সম্পর্ক পরিত্যাগের শর্তে যোগ দেওয়ার তারিখ থেকে দুই বছর মেয়াদে বাংলাদেশ পুলিশের পুলিশ মহাপরিদর্শক পদে চুক্তিভিত্তিক নিয়োগ দেওয়া হলো।
আরেকটি প্রজ্ঞাপনে বলা হয়, সরকারি চাকরি আইন, ২০১৮-এর ৪৯ ধারা অনুযায়ী সাবেক অতিরিক্ত পুলিশ মহাপরিদর্শক (চলতি দায়িত্ব) শেখ মো সাজ্জাত আলীকে অন্য যেকোনো পেশা, ব্যবসা কিংবা সরকারি, আধা সরকারি, বেসরকারি প্রতিষ্ঠান বা সংগঠনের সঙ্গে কর্ম-সম্পর্ক পরিত্যাগের শর্তে যোগ দেওয়ার তারিখ থেকে দুই বছর মেয়াদে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের (ডিএমপি) পুলিশ কমিশনার পদে চুক্তিভিত্তিক নিয়োগ দেওয়া হলো। ৭ আগস্ট ডিএমপির কমিশনার হিসেবে পুলিশের উপমহাপরিদর্শক মো. মাইনুল হাসানকে নিয়োগ দেওয়া হয়েছিল।
গত ৫ আগস্ট আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর পুলিশে বড় রদবদল হয়। ৬ আগস্ট পুলিশের নতুন মহাপরিদর্শক হিসেবে নিয়োগ পান ময়নুল ইসলাম। তবে তার নিয়োগের সাড়ে তিন মাসের মাথায় তাকে আইজিপি পদ থেকে সরিয়ে দেওয়া হলো। আইজিপি বাহারুল আলম পুলিশের বিশেষ শাখার (এসবি) প্রধানসহ সদর দপ্তরে দায়িত্ব পালন করেছেন। এ ছাড়া পুলিশ সদর দপ্তরে অতিরিক্ত আইজিপি (অর্থ) পদেও দায়িত্ব পালন করেন। ২০০৯ থেকে ২০১৩ সাল পর্যন্ত জাতিসংঘ সদর দপ্তরের শান্তিরক্ষা বিভাগে পুলিশ লিয়াজোঁ অফিসার হিসেবে কর্মরত ছিলেন। ২০১৫ সালে আফগানিস্তানে জাতিসংঘ শান্তিরক্ষা মিশনের সিনিয়র পুলিশ অ্যাডভাইজর হিসেবে কাজ করেন। এর আগে তিনি ক্রোয়েশিয়া, সার্বিয়া, কসোভো ও সিয়েরা লিওনে দায়িত্ব পালন করেন। দুই দফা পদোন্নতিবঞ্চিত এই কর্মকর্তা ২০২০ সালে অবসরে যান।
নতুন ডিএমপি কমিশনার সাজ্জাত আলী বিসিএস পুলিশ ক্যাডারে ১৯৮৪ সালে কর্মজীবন শুরু করেন। তিনি একসময় ডিএমপির তেজগাঁও বিভাগের উপপুলিশ কমিশনার ছিলেন। তা ছাড়া তিনি লক্ষ্মীপুরের পুলিশ সুপার ছিলেন। চাকরি জীবনে তিনি চট্টগ্রাম ও ঢাকা রেঞ্জের ডিআইজি ছিলেন। এ ছাড়া হাইওয়ে পুলিশ গঠন হলে সেখানেও ডিআইজির দায়িত্ব পালন করেন। পরে অতিরিক্ত আইজিপি হিসেবে পুলিশ সদর দপ্তরে কর্মরত ছিলেন। মেধাবী, কর্মঠ ও সৎ পুলিশ অফিসার হিসেবে বাহিনীতে সুনাম আছে সাজ্জাত আলীর। পুলিশের এই কর্মকর্তার বাড়ি ঝিনাইদহের শৈলকূপায়। গত সোমবার সাজ্জাত আলীর চাকরি পুনর্বহাল করে অন্তর্র্বর্তী সরকার।
স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের প্রজ্ঞাপনে আরও বলা হয়, ‘প্রশাসনিক ট্রাইব্যুনাল-১-এর মামলা নম্বর ৩৩/২০১৭-এর ৩ সেপ্টেম্বরের রায় অনুযায়ী পুলিশের সাবেক অতিরিক্ত পুলিশ মহাপরিদর্শক (চলতি দায়িত্ব) শেখ মো. সাজ্জাত আলীকে ২০১৬ সালের ৩ সেপ্টেম্বর থেকে ভূতাপেক্ষভাবে চাকরিতে পুনর্বহাল হিসেবে গণ্য করা হলো। তিনি আদালতের আদেশানুযায়ী সব প্রাপ্য বেতন-ভাতা এবং অবসরজনিত আর্থিক সুবিধা প্রাপ্য হবেন।
