ভ্যাট ছাড়েও কমেনি ভোজ্য তেলের দাম

আপডেট : ২২ নভেম্বর ২০২৪, ০৫:৩০ এএম

বাজারে সরবরাহ স্বাভাবিক রাখতে সম্প্রতি দুই দফায় ভোজ্য তেলের ভ্যাট ছাড় দিয়েছে সরকার। কিন্তু এতে কোনো সুফল আসেনি। উল্টো বাড়তি দামেই বিক্রি হচ্ছে খোলা পাম ও সয়াবিন তেল। পাশাপাশি বাজারে সরবরাহ সংকট দেখা গিয়েছে বোতলজাত তেলের। অবশ্য চিনিতে ভ্যাট ছাড় ও ডিম আমদানির খবরে পণ্য দুটির দাম কিছুটা কমেছে।

নতুন করে খেজুর আমদানিতে ১০ শতাংশ শুল্ক ছাড় ও সমুদয় অগ্রিম কর অব্যাহতি দিয়েছে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর)। আগামী রজমানে দাম সহনীয় পর্যায়ে রাখতে গতকাল বৃহস্পতিবার এনবিআর এ পদক্ষেপ নিয়েছে। আগামী বছর ৩১ মার্চ পর্যন্ত এ সুবিধা বলবৎ থাকবে।

এর আগে ভোজ্য তেলের দাম সাধারণ মানুষের ক্রয়ক্ষমতার মধ্যে রাখতে গত ১৭ অক্টোবর পরিশোধিত ও অপরিশোধিত সয়াবিন ও পাম তেল সরবরাহের ক্ষেত্রে স্থানীয় উৎপাদন পর্যায়ে ১৫ শতাংশ এবং স্থানীয় ব্যবসায়ী পর্যায়ে ৫ শতাংশ ভ্যাট অব্যাহতি দেওয়া হয়। এবার ভ্যাট অব্যাহতির ফলে বর্তমানে শুধু আমদানি পর্যায়ে ৫ শতাংশ ভ্যাট বলবৎ থাকল।

জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) নতুন সিদ্ধান্ত অনুযায়ী চলতি সপ্তাহে ভোজ্য তেল আমদানিতে মূল্য সংযোজন কর ১০ শতাংশ থেকে কমিয়ে ৫ শতাংশ করা হয়েছে। কিন্তু এখনো চড়া দামে খোলা বাজারে প্রতি কেজি সয়াবিন তেল বিক্রি হচ্ছে ১৮০ ও প্রতি কেজি পাম তেল বিক্রি হচ্ছে ১৬৫ থেকে ১৭০ টাকায়।

সরেজমিন গতকাল রাজধানীর কয়েকটি বাজার ঘুরে ও ব্যবসায়ীদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, ভোজ্য তেলের ভ্যাট ছাড়ে এখনো বাজারে সংকট কাটেনি। ব্যবসায়ীদের ভাষ্যানুযায়ী, গেল ১০ দিন ধরেই বাজারে ভোজ্য তেলের দাম বেড়েছে। কোম্পানিগুলোর কাছে তেলের জন্য অগ্রিম টাকা জমা দিয়েও বোতলজাত তেল পাওয়া যাচ্ছে না। পাম তেলের পর্যাপ্ত সরবরাহ থাকলে বাড়তি দামে বিক্রি হচ্ছে। ফলে রোজার আগেই অনেক ব্যবসায়ী পাম তেল কেনার সাহস করছেন না।

এ বিষয়ে কারওয়ান বাজারের ফারুক স্টোরের স্বত্বাধিকারী মো. ফারুক হোসেন দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘যখনই বাজারে আমদানি করা পণ্যে সংকট দেখা দেয়, সরকার সেই পণ্য আমদানিতে শুল্ক ছাড় দেয়। বরাবরের মতো এবারও শুল্ক ছাড় দিয়েছে। কিন্তু তেমন একটা কাজে আসেনি। আগের থেকে বেশি দামে কিনতে হচ্ছে পাম তেল। তাছাড়া কোম্পানির প্রতিনিধিদের অগ্রিম টাকা দিয়েও বোতলজাত তেল নিতে পারছি না। উল্টো কোম্পানির পক্ষ থেকে প্রতিনিধিদের মাধ্যমে কমিশন কমানোর শর্তে তেল বিক্রির প্রস্তাব দেওয়া হয়।’

তবে চিনি ও ডিমের দাম কমতে শুরু করেছে। চলতি সপ্তাহে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের ১৯ কোটি ডিম আমদানি ও এর আগে চিনির শুল্ক কমানোয় বাজারে পণ্য দুটির দামে প্রভাব পড়তে শুরু করেছে। ৫ টাকা কমে প্রতি ডজন ডিম ১৪৫ ও প্রতি কেজি চিনি ১২০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। গত সপ্তাহেও প্রতি ডজন ডিম ১৫০ ও প্রতি কেজি খোলা চিনি ১২৫ টাকা বিক্রি হয়েছিল। তবে পাড়া-মহল্লায় এখনো ডিমের দামের প্রভাব পড়েনি। চড়া দামে প্রতি ডজন ডিম বিক্রি হচ্ছে ১৫০ থেকে ১৫৫ ও বাড়তি দামেই প্রতি প্যাকেট চিনি বিক্রি হচ্ছে ১৩০ টাকায়।

ব্যবসায়ীরা বলেন, ডিম আমদানির খবরে আড়ত-মালিকরা কম দামে ডিম বিক্রি করতে শুরু করেছেন। অন্যদিকে চিনি আমদানিতে ভ্যাট কমানোয় মোকাম ও মিলে পণ্যটির দাম কমেছে।

অগ্রহায়ণের শুরুতে রাজধানীর বাজারগুলো শীতের সবজিতে সয়লাব হওয়ায় সব ধরনের সবজির দাম কমেছে। বেশিরভাগ সবজিই বিক্রি হচ্ছে ৫০-৭০ টাকার মধ্যে।

কারওয়ান বাজার, শান্তিনগর বাজারসহ রাজধানীর কয়েকটি বাজার ঘুরে দেখা যায়, কাঁচা মরিচ ১০০, টমেটো ১২০, লম্বা বেগুন ৬০-৭০, পটোল ৪০-৫০, বরবটি ৬০, কচুরমুখী ৮০, ২০ টাকা দাম বেড়ে প্রতি কেজি করলা বিক্রি হচ্ছে ৯০-১০০ টাকায়। এ ছাড়া আমদানি করা পেঁয়াজের দাম কিছুটা কমলেও দাম অপরিবর্তিত থেকে ফরিদপুরের পেঁয়াজ ১৪০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। আমদানি করা পেঁয়াজের মধ্যে ভারতীয় পেঁয়াজ ১০০ ও মিয়ানমার থেকে আসা প্রতি কেজি পেঁয়াজ বিক্রি হচ্ছে ১০০ থেকে ১১০ টাকা।

সবজির মতো মাছের বাজারেও কিছুটা স্বস্তি ফিরেছে। প্রতি কেজি পাঙাশ বিক্রি হচ্ছে ১৭০-১৮০, তেলাপিয়া ১৮০-২০০, প্রতি কেজি রুই ২৭০-২৮০, সরপুঁটি ২৫০, বাইলা ৬০০-৭০০, পাবদা ৪০০-৪৫০ ও প্রতি কেজি লইট্টা বিক্রি হচ্ছে ২০০-২৪০ টাকায়।

অপরিবর্তিত দামেই প্রতি কেজি ব্রয়লার বিক্রি হচ্ছে ১৭৫-১৮০ টাকা। সোনালি ৩০০ ও প্রতি কেজি লেয়ার মুরগি বিক্রি হচ্ছে ৩১০-৩২০ টাকা করে।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত