বসুন্ধরা কিংস অ্যারেনায় ঢুকতেই চোখে আটকে গেল উত্তর ও পূর্ব গ্যালারিতে। ফাঁকা গ্যালারির দেয়ালগুলো ছেয়ে গেছে অসংখ্য গ্রাফিতিতে। যেখানে ঠাঁই পেয়েছেন জুলাই-আগস্ট গণ-অভ্যুত্থানে শহীদ মুগ্ধ ও আবু সাঈদরা। নতুন বাংলাদেশের জন্মসময়ে শত শত নিহতের আত্মত্যাগের দৃশ্য, অসংখ্য সেøাগান, মিছিল-আন্দোলনের ছবি ফুটিয়ে তোলা হয়েছে প্রতিটি দেয়ালে। এ মাঠে আজ হতে যাচ্ছে বাংলাদেশ ২.০ চ্যালেঞ্জ কাপ। বসুন্ধরা কিংস ও মোহামেডানের মধ্যে হতে যাওয়া এই ম্যাচের শিরোপায়ও থাকছে জুলাই শহীদদের প্রতিচ্ছবি।
ঘরোয়া ফুটবলের সূচনা দিনটিকে বিশেষ করে তুলতে আয়োজনের কমতি নেই। বাফুফে মূল আয়োজক হলেও স্পন্সর বসুন্ধরা গ্রুপ এবং মাঠের মালিকানা তাদের বলে সবকিছুই হচ্ছে বসুন্ধরা কিংসের তত্ত্বাবধানে। ক্লাবটির ব্র্যান্ড অ্যান্ড ইভেন্ট ম্যানেজার তৌহিদুল আলমের কাছ থেকে জানা গেল তাদের প্রস্তুতির কথা, ‘সবসময় গ্রাফিতি করা কোনো একটা বার্তা দেওয়ার জন্য। এই গ্রাফিতির মাধ্যমে আমরা একটা বার্তা দিতে চেয়েছি। গত জুলাই-আগস্টে আমাদের ছাত্ররা বৈষম্যবিরোধী বাংলাদেশ গড়তে যে জীবন দিয়েছে, তারই একটা প্রতিচ্ছবি আমরা তুলে ধরতে চেয়েছি। ১৭ নভেম্বর থেকে আমাদের আর্টিস্টরা এই কাজটা করেছেন।’ শিরোপার ডিজাইনের বিষয়ে তৌহিদ বলেন, ‘শিরোপায় তিনটি ব্যাপার আছে। এখানে একটা বল আছে, এ ছাড়া অনেকের হাতের একটা প্রতিচ্ছবি আছে এবং শিরোপার রুপালি বর্ণ। বল দিয়ে বোঝানো হয়েছে টিমওয়ার্ক। ফুটবল একটা টিম গেম। আবার জুলাই-আগস্টের আন্দোলনটাও হয়েছে একটা টিমওয়ার্কের মাধ্যমে। আর এতগুলো হাত দিয়ে বোঝানো হয়েছে সেফগার্ড। প্রথমে আমরা শহীদ সাঈদের দুই দিকে প্রসারিত হাত দিয়ে ডিজাইনটা করার পরিকল্পনা করেছিলাম। পরে বিভিন্ন ফর্মে নিয়ে এসে অনেকগুলো হাত নিয়ে আসা হয়েছে, যাদের হাতে এই নতুন বাংলাদেশ নিরাপদ। এই হাতগুলোই এই দেশকে এগিয়ে নিচ্ছে। এই হাতগুলোই একত্রিত হয়ে নতুন এই স্বাধীনতাকে নিরাপত্তা দিয়ে যাচ্ছে। আর রুপালি রঙ বিশুদ্ধতার প্রতীক।’ তিনি আরও জানান, খেলার শুরুতে জুলাই-আগস্ট শহীদদের সম্মান জানাতে এক মিনিট নীরবতা পালন করা হবে। আর এই ম্যাচের আগে জাতীয় সংগীত বাজানো হবে, যেটা সাধারণত ঘরোয়ায় খেলার আগে বাজানো হয় না।
ম্যাচের প্রাইজমানি জুলাই শহীদ স্মৃতি ফাউন্ডেশনে উপহার দেওয়ার ব্যাপারে সম্মত হয়েছে দুই দল।
