রোহিঙ্গা সংকটের টেকসই সমাধানে নির্দিষ্ট সময়সীমাভিত্তিক পরিকল্পনা করতে সব অংশীজনের সমন্বয়ে ২০২৫ সালে একটি উচ্চপর্যায়ের কনফারেন্স আয়োজনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের রেজল্যুশনে। নিউ ইয়র্কে স্থানীয় সময় বুধবার জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের
তৃতীয় কমিটিতে রোহিঙ্গা সমস্যা নিয়ে এ রেজল্যুশন গৃহীত হয়। গতকাল বৃহস্পতিবার জাতিসংঘের বাংলাদেশ স্থায়ী মিশন এ তথ্য জানায়।
মিশন জানায়, ওআইসি এবং ইউরোপীয় ইউনিয়ন যৌথভাবে উপস্থাপিত ‘মিয়ানমারের রোহিঙ্গা মুসলমানসহ অন্যান্য সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের মানবধিকার পরিস্থিতি’ শীর্ষক রেজল্যুশনটি জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের তৃতীয় কমিটিতে সর্বসম্মতিক্রমে গৃহীত হয়। জাতিসংঘের ১০৬টি সদস্য রাষ্ট্র এটি কো-স্পন্সর করে, যা এ রেজল্যুশনের প্রতি ব্যাপক আন্তর্জাতিক সমর্থনের প্রতিফলন।
রেজল্যুশনটিতে মিয়ানমারে রোহিঙ্গাদের স্বপ্রণোদিত, নিরাপদ এবং মর্যাদাপূর্ণ প্রত্যাবর্তনসহ এ সংকটের টেকসই সমাধানের লক্ষ্যে, সামগ্রিক পর্যালোচনার মাধ্যমে একটি বস্তুনিষ্ঠ ও নির্দিষ্ট সময়সীমা নির্ভর পরিকল্পনা গ্রহণের জন্য সব অংশীজনের সমন্বয়ে ২০২৫ সালে জাতিসংঘ কর্র্তৃক একটি উচ্চপর্যায়ের কনফারেন্স আয়োজনের সিদ্ধান্ত নিয়েছে জাতিসংঘের সদস্য রাষ্ট্রসমূহ।
রেজল্যুশন গৃহীত হওয়ার পর জাতিসংঘে বাংলাদেশের স্থায়ী প্রতিনিধি সাধারণ পরিষদে দেওয়া তার বক্তব্যে বলেন, রাষ্ট্রদূত মোহাম্মদ আব্দুল মুহিত বলেন, আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিক নিরাপত্তার স্বার্থে এবং আমাদের নিরাপত্তার জন্য মিয়ানমারে রোহিঙ্গাদের স্বপ্রণোদিত ও মর্যাদাপূর্ণ প্রত্যাবর্তন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
নিরাপত্তা পরিষদে গৃহীত রেজল্যুশন এবং সাধারণ পরিষদের তৃতীয় কমিটিতে গৃহীত রেজল্যুশনের উল্লেখপূর্বক তিনি রোহিঙ্গা মুসলমানদের প্রত্যাবর্তনের জন্য অনুকূল পরিবেশ তৈরিতে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণের জন্য আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের প্রতি আহ্বান জানান। তিনি রোহিঙ্গা মুসলমানদের প্রত্যাবর্তন না হওয়া পর্যন্ত তাদের মানবিক সহযোগিতা চালু রাখার জন্য পর্যাপ্ত অর্থায়নের প্রয়োজনীয়তার ওপরও গুরুত্বারোপ করেন।
এ বছর রোহিঙ্গাবিষয়ক রেজল্যুশনে অন্যান্য বিষয়ের পাশাপাশি বিভিন্ন দেশে আশ্রয় নেওয়া রোহিঙ্গা মুসলমানসহ সব শরণার্থীর প্রত্যাবর্তনের অধিকার নিশ্চিত করা এবং তাদের স্বতঃপ্রণোদিত, নিরাপদ, মর্যাদাপূর্ণ ও টেকসই প্রত্যাবাসনের জন্য প্রয়োজনীয় নিরাপদ পরিবেশ তৈরি করতে দৃঢ় পদক্ষেপ গ্রহণের আহ্বান জানানো হয়েছে।
রেজল্যুশনটিতে অপরাধীদের বিচারের আওতায় আনার জন্য জবাবদিহির সব প্রক্রিয়াকে সমর্থনের প্রতিশ্রুতি পুনর্ব্যক্ত করা হয়। এ ছাড়া রেজল্যুশনটি একটি আঞ্চলিক সংস্থা হিসেবে আসিয়ানের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকার ওপর জোর দেয় এবং সংস্থাটির পাঁচ দফা ঐকমত্য সম্পূর্ণরূপে বাস্তবায়নে গৃহীত উদ্যোগগুলো তুলে ধরে।
প্রধান উপদেষ্টা প্রফেসর মুহাম্মদ ইউনূস, সেপ্টেম্বরে জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৭৯তম অধিবেশনের উচ্চপর্যায়ের সভা চলাকালে রোহিঙ্গা বিষয়ে এ উচ্চপর্যায়ের কনফারেন্স আয়োজনের আহ্বান জানিয়েছিলেন।
